ঢাকা |
প্রকাশিত: ১১:০৪ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৯, ২০২৬
বড়লেখা (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি:
দীর্ঘ প্রায় পাঁচ বছরের আইনি লড়াই শেষে বড়লেখা উপজেলার নিজ বাহাদুরপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের নির্বাচিত ইউপি সদস্য রশিদ আহমদ সোনামের শপথ গ্রহণে আর কোনো আইনগত বাধা নেই। হাইকোর্ট বিভাগের সর্বশেষ রায়ে তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী খসরুজ্জামানের দায়ের করা রিট পিটিশন খারিজ হওয়ায় নির্বাচিত সদস্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের সব আইনি জটিলতার অবসান হয়েছে। তবে দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় তার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির মেয়াদের প্রায় পুরো সময়ই কেটে গেছে আদালতের লড়াইয়ে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে মৌলভীবাজারের নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল ও সিনিয়র সহকারী জজ আদালতের বিচারক মুহাম্মদ জালাল উদ্দিন পুনরায় ভোট গণনার নির্দেশ দেন। পুনর্গণনায় রশিদ আহমদ সোনাম ২২ ভোটে বিজয়ী হওয়ায় আদালত তাকে নির্বাচিত ইউপি সদস্য ঘোষণা করেন।
পরবর্তীতে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী খসরুজ্জামান ওই রায়ের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আপিল ট্রাইব্যুনালে আপিল করলেও আদালত সোনামের বিজয় বহাল রাখেন। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ২২ জুন নির্বাচন কমিশন সংশোধিত গেজেট প্রকাশ করে এবং উপজেলা প্রশাসন তার শপথ গ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করে চিঠিও ইস্যু করে।
কিন্তু নির্ধারিত দিনে শপথ গ্রহণের জন্য উপজেলা পরিষদে উপস্থিত হলেও প্রতিপক্ষ প্রার্থীর দায়ের করা হাইকোর্টের রিট পিটিশনের কপি দাখিল করা হলে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গালিব চৌধুরী শপথ অনুষ্ঠান স্থগিত করেন। পরে সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টের স্থগিতাদেশের কারণে বিষয়টি আবারও আইনি জটিলতায় পড়ে।
সর্বশেষ গত ৯ জুলাই বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি ও বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তাজরুল হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ দীর্ঘ শুনানি শেষে খসরুজ্জামানের দায়ের করা রিট পিটিশন (নং- ৮৯১৯/২০২৫) খারিজ করে দেন। একই সঙ্গে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের মূল রায় বহাল রেখে পূর্বের সব স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হয়। ফলে রশিদ আহমদ সোনামের শপথ গ্রহণে আর কোনো আইনগত বাধা থাকল না।
জানা গেছে, ২০২১ সালের ২৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে গল্লাসাঙ্গন দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে ফুটবল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন রশিদ আহমদ সোনাম। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন মোরগ প্রতীকের প্রার্থী খসরুজ্জামান। ভোট গণনা শেষে সোনামের ৫৩টি ব্যালট অবৈধ ঘোষণা করে খসরুজ্জামানকে ৫ ভোটে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।
সোনামের অভিযোগ, তার পোলিং এজেন্ট ওই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানালেও তা আমলে নেওয়া হয়নি। এমনকি ফলাফল শিটে স্বাক্ষর নেওয়া হলেও তার অনুলিপি দেওয়া হয়নি। একই কেন্দ্রে চেয়ারম্যান পদে ভোটার উপস্থিতি দেখানো হয় ১ হাজার ৩৩৫ জন, অথচ সদস্য পদে উপস্থিতি দেখানো হয় ১ হাজার ৩৪৬ জন, যা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
পরে এসব অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ তুলে রশিদ আহমদ সোনাম নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে পুনরায় ভোট গণনা শেষে তিনি বিজয়ী ঘোষিত হন এবং পরবর্তী সব বিচারিক ধাপেও সেই রায় বহাল থাকে।
আইনি জটিলতার অবসানের পর গত ২৭ জুলাই রশিদ আহমদ সোনাম বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে শপথ গ্রহণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন করেছেন। তিনি দ্রুত দায়িত্ব বুঝে পেতে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
রশিদ আহমদ সোনাম বলেন, “দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর সত্য ও ন্যায়বিচারের প্রতিফলন ঘটেছে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে তাদের সেবা করার সুযোগ চাই। প্রশাসন দ্রুত শপথ গ্রহণের ব্যবস্থা করবে বলে আশা করছি।”
মামলায় রশিদ আহমদ সোনামের পক্ষে হাইকোর্টে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী তৌফিক আনোয়ার চৌধুরী। তিনি বলেন, “দীর্ঘ শুনানি শেষে মহামান্য হাইকোর্ট আমার মক্কেলের পক্ষে রায় দিয়েছেন। ফলে নির্বাচিত ইউপি সদস্য হিসেবে রশিদ আহমদ সোনামের শপথ গ্রহণে এখন আর কোনো আইনগত বাধা নেই।”
রেজিঃ নং চ-৭৩৫
সম্পাদক ও প্রকাশক: এম.ফয়জুল হক শিমুল
সহ: সম্পাদক : হাবিবুর রহমান সুলতান
সহ: সম্পাদক : নুরুল হক মাসুদ
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক নিউ বর্ণমালা অফসেট প্রিন্টিং প্রেস, রাজা ম্যানশন জিন্দাবাজার, সিলেট থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: * সি-৮/৩০ বনশ্রী ঢাকা।
সিলেট অফিস: কমন মার্কেট (৫ম তলা ) বন্দর বাজার, সিলেট।
বিয়ানীবাজার অফিস: ছফর কমপ্লেক্স, দক্ষিণ বিয়ানীবাজার, সিলেট।
যোগাযোগ মোবাইলঃ +88-01713813124
ই-মেইল ॥ somoychitro@gmail.com
বড়লেখা অফিস: নেহার মার্কেট, ( ২য় তলা), বড়লেখা, মৌলভীবাজার।