কুমিল্লা হাসপাতালে নব্জাতক শিশু নিয়ে তুলপাড়

প্রকাশিত: ৮:৫৩ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ৮, ২০১৬

কুমিল্লা হাসপাতালে নব্জাতক শিশু নিয়ে তুলপাড়

কুমিল্লা প্রতিনিধি : কুমিল্লা দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক নবজাতক (কন্যা শিশু) রেখে পালিয়েছে মা। ওই ঘটনায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ উপজেলা সদরে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়। ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ২৪/২৫ বছর বয়সী এক তরুণী শিশুটিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দ্বিতল ভবনের নার্সদের কক্ষে নিয়ে যান। এ সময় কর্তব্যরত সিনিয়র স্টাফ নার্স নূরজাহান বেগমের কোলে তুলে দিয়ে বলেন, আমি বাথরুম থেকে কাপড় পাল্টিয়ে আসছি। এর পর থেকে ওই তরুণী নিখোঁজ রয়েছেন।

সিনিয়র স্টাফ নার্স জিনাত আরা জানান, শিশুটি জন্মের ২/৩ ঘন্টা পর হাসপাতালে নিয়ে আসে। জন্মের পর নাভী কাটাসহ আনুষাঙ্গীক কাজগুলো তখনো করা হয়নি। আমরা শিশুটির নাভী কেটে এবং শরীর মুছে অক্সিজেন লাগিয়ে দেই। পরে তরল দুধের ব্যবস্থা করি। সবার উপস্থিতিতে এক আনন্দঘন পরিবেশে শিশুটির নাম রাখি জান্নাতুল ফেরদৌসী স্বর্ণা। শিশুটি দেখে আমার খুব মায়া হওয়ায় নিজেই নেয়ার সিদ্ধান্ত নেই। এরই মধ্যে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কমকর্তা অপর সিনিয়র নার্স সুরাইয়া আক্তার শেলী তার ৪ বছর আগে বিবাহীতা কন্যা মৌসুমীর জন্য ওই বাচ্চাটি নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। এরই মধ্যে আরো বেশ ক’জন নারী বাচ্চাটি নেয়ার জন্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভীড় করেন। বাচ্চা যেই নেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষ করতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবগত করি। পরে আরএমও ডা. শরিফুল ইসলাম শাকিল স্বাক্ষরিত একটি লিখিত অবহীতকরণ পত্র থানায় পাঠান। থানা পুলিশ ওই চিঠি গ্রহণ না করায়, সমাজ সেবা কর্মকর্তা মো. কবির আহমেদকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে চিঠি লিখেন।

উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা মো. কবির আহমেদ বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে একটি নবজাতক কন্যা শিশুর নাভী কাটাতে একজন মহিলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নিয়ে যান। একপর্যায়ে মহিলাটি নিখোঁজ হয়ে যায়। ওই ঘটনার পর মহিলা এবং তার কোন আত্মীয়-স্বজন স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে এসে খোঁজ খবর না নেয়ায়, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কয়েক ঘন্টা অপেক্ষা করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে আমাদের নিকট চিঠি লিখেন। এরই মধ্যে শিশুটি লালন পালনের আগ্রহ প্রকাশ করে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের সুরাইয়া আক্তার শেলী নামে একজন সিনিয়র নার্স আবেদন করেন। আমরা শিশুটির হেফাজত এবং লালন পালনে জন্য ৩ জন স্বাক্ষীর উপস্থিতিতে সাধারণ ডায়েরির মাধ্যমে আবেদনকারীকে বুঝিয়ে দিতে থানায় পাঠাই।

  1. দেবিদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মিজানুর রহমান বলেন, সমাজ সেবা অফিসের চিঠির আলোকে থানায় সাধারণ ডায়েরি করে, ৩ জন স্বাক্ষীর উপস্থিতিতে শিশুটির দেখভাল ও লালন পালনের জন্য দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র নার্স সুরাইয়া আক্তার শেলীকে বুঝিয়ে দেয়া হয়।

এই সংবাদটি 1010 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ