নির্বাচনের পরেই মৌলভীবাজারে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ

প্রকাশিত: ১০:১১ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬

নির্বাচনের পরেই মৌলভীবাজারে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার:
জাতীয় নির্বাচনের পরেই মৌলভীবাজারের শাহবাজপুর এলাকায় একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে প্রকাশ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও পরিবর্তিত পরিস্থিতির জেরে স্থানীয় বিএনপি ও আওয়ামীলীগের কিছু কর্মী একত্রিত হয়ে সংগঠিতভাবে শাহবাজপুর বাজারের একটি দোকানে আক্রমণ চালায়।
জানা যায়, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের পর দেশের বিভিন্ন স্থানের মতো মৌলভীবাজারেও রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৪ ফেব্রুয়ারি বিকেল প্রায় সাড়ে ৫টার দিকে শাহবাজপুর এলাকার “নওরিন সুজ” নামক একটি জুতার দোকানে হামলার ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্থানীয় একটি রাজনৈতিক সমাবেশ শেষ হওয়ার পর রাজু আহমেদ (৪০), মাহমুদ হাসান (২৯), সুফার আহমেদ (৩২), রনি উদ্দিন (৪০) ও রাকিবুল ইসলাম (২৯)সহ প্রায় ২০/২৫ জনের একটি দল দোকানে প্রবেশ করে। তারা দোকানে ঢুকেই কামরুল হাসান নামের একজনের খোঁজ করতে থাকে এবং জিজ্ঞাসা করে— “কামরুল হাসান কোথায়?”

দোকানের ম্যানেজার আবুল হোসেন (৫০) জানান, তিনি কামরুল হাসানের অবস্থান সম্পর্কে কিছু জানেন না বলে জানালে উপস্থিত ব্যক্তিরা ক্ষিপ্ত হয়ে দোকানের ভেতরে ভাঙচুর শুরু করে। এ সময় দোকানের মালামাল এলোমেলো করে ফেলা হয় এবং দোকানের সাজসজ্জা ও বিভিন্ন সামগ্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এ সময় দোকানে থাকা কর্মচারীদের সঙ্গে হামলাকারীদের ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে। কয়েকজন কর্মচারীকে মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি তাদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে নিজেদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে কর্মচারীরা দোকান ছেড়ে বাইরে চলে যেতে বাধ্য হন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কামরুল হাসান (৩০) একজন সক্রিয় রাজনৈতিক কর্মী ও সমাজসেবক। তিনি ২০১৪ সালে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)-তে যোগ দেওয়ার পর থেকে বিভিন্ন সময় সরকারের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেছে।

অভিযোগ রয়েছে, তার অনুপস্থিতিতে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন সময় হুমকি ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। তার ছোট ভাই আবিদ হোসেন ২০২৫ সালেও হামলার শিকার হন এবং বর্তমানে তিনিও আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় স্থানীয় জনগণ প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এ ধরনের রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক ঘটনা বন্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। অন্যথায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা আরও হুমকির মুখে পড়তে পারে।

এই সংবাদটি 1243 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ