বড়লেখায় সেই শিক্ষকের বিরুদ্ধে এবার আইন লঙ্ঘন করে টিলা কাটার অভিযোগ

প্রকাশিত: ৬:২৪ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০১৬

বড়লেখায় সেই শিক্ষকের বিরুদ্ধে এবার আইন লঙ্ঘন করে টিলা কাটার অভিযোগ

 

বড়লেখা প্রতিনিধি : বড়লেখার নানা বিতর্কিত কর্মকান্ডে সমালোচিত সেই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শাহীদুল ইসলামের বিরুদ্ধে এবার পরিবেশ আইন লঙ্ঘন করে টিলা কেটে ডোবা ভরাটের মাধ্যমে পানি নিষ্কাষনের পথ বন্ধ করার অভিযোগ উঠেছে। রোববার স্থানীয় ভুমি কর্মকর্তারা টিলা কাটা বন্ধের নির্দেশ দিলে মাটি শ্রমিকরা কিছু সময় টিলা কাটা বন্ধ রাখলেও পরবর্তীতে ওই শিক্ষকের নির্দেশে শ্রমিকরা পুনরায় টিলা কাটা শুরু করে বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ এর (সংশোধিত ২০১০) ‘খ’ ধারা অনুযায়ী পাহাড়-টিলা কাটা দন্ডনীয় অপরাধ।
জানা গেছে, উপজেলার দক্ষিণভাগ এনসিএম উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শাহীদুল ইসলাম ও তার ভাই হাফেজ জামাল উদ্দিন ৯ ফেব্র“য়ারী থেকে ১৪-১৫ জন শ্রমিক দিয়ে সফরপুর গ্রামের মোশাইদ আলীর বাড়ীর পুর্ব পাশের একটি উঁচু টিলা কেটে পার্শবর্তী ডোবা ভরাট শুরু করেন। মোশাইদ আলী ও তার ভাই তমছির আলী অভিযোগ করেন হঠাৎ একদিন শাহীদুল ইসলাম ও তার ভাই জামাল উদ্দিন আমাদের বাড়ীর পুর্বের টিলাটি তাদের দাবী করে শ্রমিক দিয়ে মাটি কাটা শুরু করেন। টিলায় আমাদের লাগানো কয়েক লাখ টাকার আগর, কাঠাল, আম ও একলামশিয়া গাছ কেটে ফেলে। আমরা বাধা দিলে তারা মানেনি। এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় আমরা তাদের বিরুদ্ধে আইনের দারস্থ হইনি।
রোববার সরেজমিনে গেলে ১২-১৪ শ্রমিককে টিলা কাটতে দেখা যায়। শ্রমিক ফাতির আলী, ইয়াছিন আলী, দিলু মিয়া, ছানু মিয়া, মঞ্জির আলী, আরাফাত আলী প্রমূখ জানান, শাহীদুল মাষ্টার ও তার ভাই জামাল উদ্দিন তাদেরকে দিয়ে টিলাটি কাটাচ্ছেন। টিলা কাটায় সরকারী নিষেধধাজ্ঞা রয়েছে তা তারা জানেন না। ইউনিয়ন ভুমি কর্মকর্তা মো. নানু মিয়া জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিবেশ সংরক্ষন আইন লঙ্ঘনের সত্যতা পেয়ে তিনি শ্রমিকদের টিলা কাটতে বারন করেন। তারা কিছু সময় বন্ধ রাখলেও পরে পুনরায় টিলা কাটা শুরু করে বলে স্থানীয় লোকজন জানিয়েছে। টিলা কাটায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে তিনি এদিনই (রোববার) সহকারী কমিশনার (ভুমি) বরাবরে লিখিত প্রতিবেদন প্রেরণ করেছেন। এব্যাপারে অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শাহীদুল ইসলামের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিকদের কাছে সরকারী অনুমতি ব্যতিত টিলা কাটার সত্যতা স্বীকার করে তিনি সরাসরি দেখা করার অনুরোধ জানান।
উল্লেখ্য, এ ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগের অন্ত নেই। নানা বিতর্কিত কর্মকান্ডে তিনি অনেকবার পত্রিকার শিরোনাম হয়েছেন। পিইসি, জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষায় অনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে এবার তিনি নিজ সেন্টারে এসএসসি পরীক্ষায় কেন্দ্র সচিবের দায়িত্ব পাননি।

এই সংবাদটি 680 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ