ঢাকা |
প্রকাশিত: ২:৪১ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০১৬
এম. মছব্বির আলী : বড়লেখার পাল্লাতল সীমান্তে বাংলাদেশের অপদখলে ছিল ৩৬০ একর জমি। সম্প্রতি প্রটোকল চুক্তি অনুযায়ী জরিপে সেখানে প্রায় ৭৪ একর জমি বাংলাদেশ পেয়েছে। বাকিটা ২৮৬ একর জমির মালিকানা পেল ভারত। ভারত-বাংলাদেশের চুক্তি অনুযায়ী যৌথ জরিপে পাল্লাতল পানজুমটি পড়েছে ভারতের অংশে। ১৭ ফেব্র“য়ারী বুধবার থেকে নির্ধারিত স্থানে শুরু হয়েছে পাকা খুঁটি স্থাপনের কাজ। খুঁটি স্থাপন সম্পন্ন হয়ে গেলে তাদের ছেড়ে দিতে হবে পান জুমটি। আদিবাসীদের আয়ের একমাত্র উৎস পানজুম হারানোর পর তাদের জীবন-জীবিকা নিয়ে দেখা দিয়েছে চরম উৎকন্ঠা। পানপুঞ্জির বাস্তবতা সরেজমিনে দেখতে ১৬ ফেব্র“য়ারী মঙ্গলবার পানপুঞ্জি পরিদর্শন করেছেন একটি নাগরিক প্রতিনিধি দল। এসময় তাঁরা পুঞ্জির খাসিয়া সম্প্রদায়ের লোকজনের সাথেও কথা বলেন। প্রতিনিধি দল পুঞ্জি এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে আদিবাসীদের অধিকার সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন।
সরেজমিনে গেলে প্রতিনিধি দল ও পুঞ্জির আদিবাসীরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে পাল্লাতল পানপুঞ্জির আদিবাসী খাসিয়া ও গারো সদস্যরা সেখানে বসবাস করে আসছেন। সম্প্রতি বাংলাদেশ ও ভারতের অপদখলীয় জায়গায় যৌথ জরিপ হয়েছে। এসময় পাল্লাতল পুঞ্জি এলাকা বাংলাদেশের অংশে এবং পাল্লাতল আদিবাসীদের আয়ের উৎস পানজুম ভারতের অংশে পড়েছে। এতে পাল্লাতল পানপুঞ্জির আদিবাসী ৫০টি পরিবারের মধ্যে জীবন-জীবিকা নিয়ে চরম উৎকন্ঠার সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিনিধি দলে ছিলেন ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পংকজ ভট্টাচার্য, মুক্তিযোদ্ধা জাদুঘরের ট্রাস্টি জিয়া উদ্দিন তারিক আলী, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড: নূর মোহাম্মদ তালুকদার, আদিবাসী ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য দীপায়ন খীসা, আদিবাসী সংগঠন কুবরাজের সাধারণ সম্পাদক ফ্লোরা বাবলী তালাং প্রমুখ। প্রতিনিধি দলের সদস্য ও আদিবাসী ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য দীপায়ন খীসা বলেন, ‘সীমান্ত প্রটোকল চুক্তিতে বলা হয়েছে, পাল্লাতল সীমান্তের ১৩৭০ নম্বর প্রধান সীমান্তখুঁটির ৩ নম্বর উপখুঁটি থেকে ১৩৭১ নম্বর প্রধান খুঁটির ৬ নম্বর উপখুঁটি পাল্লাতল চা-বাগানের বাইরে এবং ১৩৭২ নম্বর প্রধান খুঁটি থেকে ১৩৭৩ নম্বর প্রধান খুঁটির ২ নম্বর উপখুঁটি পানজুমের বাইরে থাকবে। অথচ বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ জরিপ দল এ চুক্তি অনুযায়ী জরিপ করেনি। দেখা গেছে, জরিপে পাল্লাতলে পানজুমের অনেক জায়গা ভারতের অংশে ঢুকে গেছে। এ পুঞ্জিতে ৫০টি খাসিয়া পরিবার থাকে। পানচাষ তাদের একমাত্র জীবিকা। মানবিক বিবেচনায় বিষয়টি দুই দেশের উচ্চপর্যায়ে ভাবা দরকার। ঢাকায় ফিরে আমরা এ ব্যাপারে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলব।’
পানপুঞ্জির বাসিন্দা শাহবাজপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র জনবক খংলা বলেন, ‘পান পুঞ্জিতে যেতে আগে সমস্যা হতো না। আমাদের অভিভাবকরা জুমের আয় দিয়ে পরিবার ও আমাদের পড়ালেখার খরচ চালাতেন। এক মাত্র আয়ের উৎস পান জুম চলে যাওয়ায় আমাদের ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তায় আছি। সত্যিই আমাদের জুমগুলো চলে গেলে পেটে খানি জুটতো নায়’।
ডিমন বারেং নামে এক খাসিয়া তরুনীর সাথে কথা হয়, তিনি বলেন, ‘দীর্ঘকাল থেকে এই পুঞ্জিতে কাজ করে আমাদের সবার জীবন চলছে। এখন শুনছি ভারতে পুঞ্জির জায়গা চলে যাচ্ছে। পুঞ্জি ভারতে চলে গেলে কাজ করবো কোথায়। অসহায় হয়ে পড়বো এই আশংকায় আছি আমরা।’
তবে পাল্লাতল সীমান্তে দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশের জরিপ দলের চার্জ অফিসার ও ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের কানুনগো আবদুল হক বলেন, পাল্লাতলে ভারতের সীমান্ত প্রটোকল চুক্তি ও জরিপের নির্দেশক মানচিত্র (ইনডেক্স ম্যাপ) অনুযায়ী সেখানে সীমান্তখুঁটি স্থাপনের স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি আরও জানান, খুঁটি স্থাপন সম্পন্ন হয়ে জুমটি খাসিয়াদের ছেড়ে দিতে হবে।
রেজিঃ নং চ-৭৩৫
সম্পাদক ও প্রকাশক: এম.ফয়জুল হক শিমুল
সহ: সম্পাদক : হাবিবুর রহমান সুলতান
সহ: সম্পাদক : নুরুল হক মাসুদ
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক নিউ বর্ণমালা অফসেট প্রিন্টিং প্রেস, রাজা ম্যানশন জিন্দাবাজার, সিলেট থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: * সি-৮/৩০ বনশ্রী ঢাকা।
সিলেট অফিস: কমন মার্কেট (৫ম তলা ) বন্দর বাজার, সিলেট।
বিয়ানীবাজার অফিস: ছফর কমপ্লেক্স, দক্ষিণ বিয়ানীবাজার, সিলেট।
যোগাযোগ মোবাইলঃ +88-01713813124
ই-মেইল ॥ somoychitro@gmail.com
বড়লেখা অফিস: নেহার মার্কেট, ( ২য় তলা), বড়লেখা, মৌলভীবাজার।