হাসান মামুন–ভিপি নুর সমর্থকদের ‘ভার্চ্যুয়াল বিরোধ’ এখন মাঠে

প্রকাশিত: ৭:২৩ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৮, ২০২৫

হাসান মামুন–ভিপি নুর সমর্থকদের ‘ভার্চ্যুয়াল বিরোধ’ এখন মাঠে


গলাচিপায় ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে

মোঃ সাব্বির হোসেন, গলাচিপা প্রতিনিধি:

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা–দশমিনা) আসনে দুই তরুণ সম্ভাব্য প্রার্থী—বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হাসান মামুন এবং গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ঢাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। দুই পক্ষের সমর্থকদের পোস্ট–পাল্টাপোস্ট, ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অপপ্রচারে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এখন উত্তপ্ত। এর প্রভাব পড়ছে সাধারণ ভোটারদের মানসিকতায়ও। শান্তিপ্রিয় গলাচিপার রাজনৈতিক অঙ্গন ক্রমেই অস্থির হয়ে উঠছে।

ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অপপ্রচারে উদ্বিগ্ন স্থানীয়রা

স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েক সপ্তাহ ধরেই দুই নেতার সমর্থকদের মধ্যে অনলাইন প্রতিযোগিতা আক্রমণাত্মক রূপ নিয়েছে। বিভ্রান্তিকর তথ্য, বিদ্বেষমূলক মন্তব্য ও ব্যক্তিগত আক্রমণের সংখ্যা বাড়ছে। ইচ্ছাকৃতভাবে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করছে এমন মহলও সক্রিয়—এমন অভিযোগও রয়েছে।

সম্প্রতি হাসান মামুনের স্ত্রীকে জড়িয়ে ‘ঘুষ গ্রহণ’ অভিযোগে একটি ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়ায় ক্ষোভ দেখা দেয় বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে। তারা বলছেন, এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও রাজনৈতিক পরিবেশ অস্থিতিশীল করার আয়োজন। বিশ্লেষকরাও মনে করেন, রাজনীতির মাঠে পরিবারের সদস্যদের টেনে আনা অত্যন্ত নিন্দনীয়।

অন্যদিকে, ভিপি নুরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্বেষপূর্ণ প্রচারণার শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ গণঅধিকার পরিষদের স্থানীয় নেতাদের। নির্বাচন ঘনিয়ে এলে তার বিরুদ্ধে বিকৃত বক্তব্য ছড়ানোর ঘটনাও বাড়ছে বলে তারা দাবি করেন।

ভার্চ্যুয়াল উত্তেজনা মাঠপর্যায়ে ছড়িয়ে পড়ছে

অনলাইন ঝগড়া থেকে শুরু হয়ে এখন তা মাঠপর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নিচ্ছে। ইতোমধ্যে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে কয়েকটি বিরোধ ও উত্তেজনার ঘটনাও ঘটেছে বলে স্থানীয়রা জানান।

নুর–মামুন পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে আরও বাড়ছে উত্তাপ

ভিপি নুর অভিযোগ করেন, বিএনপি এখনো প্রার্থী ঘোষণা না করায় তাদের একটি অংশ তার বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচারণায় লিপ্ত হয়েছে। ভয়ভীতি দেখানো ও কর্মসূচিতে বাধা দেওয়ারও অভিযোগ তার।

অন্যদিকে, হাসান মামুন সাম্প্রতিক এক বক্তব্যে নুরের আচরণ ও বক্তব্যে অসঙ্গতির ইঙ্গিত দিয়ে বলেন,
“আমরা হোসাইন মুহাম্মদ এরশাদকে দেখেছি—বগুড়ায় এক কথা, ফরিদপুরে এক কথা, ঢাকায় আরেক কথা। মসজিদে এক কথা, মন্দিরে আরেক কথা। আমরা কাউকে তার সঙ্গে তুলনা করতে চাই না। তবে ৫ আগস্টের পর একজন তরুণ নেতার সাপ্তাহিক বক্তব্যগুলো যাচাই করুন—তার নীতি কোনটা, চরিত্র কোনটা, আর রাজনৈতিক স্ট্যানবাজি কোনটা?”

তিনি আরও বলেন, “গলাচিপা–দশমিনার বিএনপি কারও চাপ বা উসকানিতে চলে না। নির্বাচন করবো নিজস্ব শক্তি নিয়ে, কাউকে কোনো ছাড় দেব না।”

শান্তি ও সহনশীলতার আহ্বান

সচেতন নাগরিক, শিক্ষক, ব্যবসায়ী ও তরুণেরা বলছেন—মতের ভিন্নতা গণতন্ত্রের সৌন্দর্য; কিন্তু মিথ্যা তথ্য, ঘৃণা ও ব্যক্তিগত/পারিবারিক আক্রমণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অনলাইন উত্তেজনা মাঠপর্যায়ে ছড়িয়ে পড়লে গলাচিপা–দশমিনার দীর্ঘদিনের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলেও তাদের আশঙ্কা।

এই সংবাদটি 275 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ