বিয়ানীবাজারে পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি ছাড়াই দুটি টিলা কেটে সাবাড়

প্রকাশিত: ৮:০৫ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৩০, ২০২৫

বিয়ানীবাজারে পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি ছাড়াই দুটি টিলা কেটে সাবাড়

ভূমিধস ও প্রাণহানির আশঙ্কা

বিয়ানীবাজার প্রতিনিধি:
সিলেট জেলার বিয়ানীবাজার উপজেলার ১১ নং লাউতা ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের উত্তর পাড়িয়াবহর গ্রামে পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো অনুমতি ছাড়াই সরকারি টিলা কেটে সাবাড় করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। প্রশাসনের নজরদারির অভাবে সরকারি ১/১ খতিয়ানের ৪৯৪ দাগভুক্ত ভূমি থেকে অন্তত ২০ ফুট গভীরতা পর্যন্ত টিলা কাটা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, টিলার মাটি ট্রাক্টরে করে বহন করার সময় কাঁচা ও পাকা রাস্তায় পড়ে রাস্তার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সিলেট জেলা প্রশাসনের খতিয়ানভুক্ত বাড়ির টিলা কেটে মাটি অন্যত্র বিক্রি করা হচ্ছে। গ্রামের মৃত সজ্জাদ আলীর পুত্র মাসুম আহমদ ও মৃত রস্তম আলী খাঁনের পুত্র মাসুক খাঁন এসব মাটি ক্রয় করছেন বলে জানা গেছে।
এছাড়াও সরকারি ১/১ খতিয়ানের ৪৯৪ দাগভুক্ত ভূমির মাটি কেটে গ্রামের গোয়ালবাড়ির রেকর্ডীয় মালিকানাধীন পারিবারিক নিজ ব্যক্তিগত রাস্তা বেদখল করে ভরাট করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, একটি জালিয়াত চক্র গত এক মাস ধরে অবৈধভাবে টিলা কেটে পরিবেশ দূষণ করে আসছে। বিষয়টি একাধিকবার বিয়ানীবাজার উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও সহকারী ম্যাজিস্ট্রেটকে অবগত করা হলে সাময়িকভাবে কাজ বন্ধ থাকলেও পরে আবারও অবৈধভাবে মাটি কাটা শুরু হয়।
উল্লেখ্য যে, অবৈধ টিলা কাটার পাশেই ১১ নং লাউতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান’র বাড়ি অবস্থিত। তবে রহস্যজনক কারণে তিনি এ বিষয়ে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নিচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
ঘটনাটি পুনরায় মোবাইল ফোনে প্রশাসনকে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। ফলে যে কোনো সময় গ্রামে ভূমিধসের ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। এতে প্রাণহানির ঝুঁকিও রয়েছে।
এলাকাবাসী জানান, গ্রামের শফাত আলী পুএ দেলওয়ার ইতিপূর্বে তার বসতবাড়ির টিলা থেকে ৩০ ফুট মাটি কেটে বিক্রি করার অভিযোগ রয়েছে।  স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের জবাবদিহিতার কারণেই অন্যরা টিলা কাটতে আরও সাহস পাচ্ছে।
পরিবেশ সচেতন এলাকাবাসী অবিলম্বে অবৈধ টিলা কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এই সংবাদটি 177 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ