ভূরুঙ্গামারীতে শতাধিক দোকান পুড়ে প্রায় ১০ কোটি টাকার ক্ষতি

প্রকাশিত: ৯:০৭ অপরাহ্ণ, জুন ৫, ২০২৬

ভূরুঙ্গামারীতে শতাধিক দোকান পুড়ে প্রায় ১০ কোটি টাকার ক্ষতি

অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র ও ফায়ার স্টেশন না থাকায় বাড়ছে ক্ষোভ

মোঃ রেজাউল করিম ।

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলা সদরের প্রধান বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দুইটি মার্কেটের শতাধিক দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। শুক্রবার (৫ জুন) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে সংঘটিত এ অগ্নিকাণ্ডে প্রাথমিকভাবে প্রায় ১০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করছে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় প্রশাসন। আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ক্ষুদ্র ও মাঝারি কাপড় ব্যবসায়ী, এছাড়া জুতা, কসমেটিক, বিকাশ, ইলেকট্রনিক ও লাইব্রেরীর দোকান। যাদের প্রতিটি দোকানে লক্ষ লক্ষ টাকার মালামাল ছিল।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলা সদরের স্বপ্ন ছোঁয়া ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মার্কেট ও চেয়ারম্যান মার্কেটে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে পুরো মার্কেট এলাকায়। আগুনের লেলিহান শিখা ও ঘন কালো ধোঁয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের এলাকায়। ব্যবসায়ী ও স্থানীয় লোকজন প্রাথমিকভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালালেও তা সম্ভব হয়নি।

খবর পেয়ে নাগেশ্বরী ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রশাসন, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতায় দীর্ঘ চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। তবে ততক্ষণে দুই মার্কেটের অধিকাংশ দোকান এবং দোকানে থাকা বিপুল পরিমাণ মালামাল সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যায়।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদকে কেন্দ্র করে তারা কয়েকদিন ধরেই দোকানে নতুন পণ্য মজুত করছিলেন। আগুনে কাপড়, কসমেটিকস, মুদি পণ্য, ইলেকট্রনিক সামগ্রী, আসবাবপত্র, নগদ অর্থ এবং গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র পুড়ে গেছে। অনেক ব্যবসায়ী তাদের জীবনের সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।

তারা বলেন, “চোখের সামনে সব শেষ হয়ে গেল। দোকানই ছিল পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস। ঈদের জন্য লাখ লাখ টাকার মাল তুলেছিলাম। এখন কীভাবে ঘুরে দাঁড়াব জানি না।”

অগ্নিকাণ্ডের পর আবারও সামনে এসেছে ভূরুঙ্গামারীতে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপনের দীর্ঘদিনের দাবি। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের জন্য গাড়ি ও জনবল বরাদ্দ দেওয়া হলেও জমি অধিগ্রহণ (একোয়ার) জটিলতার কারণে এখনো স্থায়ী ফায়ার স্টেশন স্থাপন করা সম্ভব হয়নি। নিয়োগপ্রাপ্ত জনবল বর্তমানে জেলার বিভিন্ন স্থানে কর্মরত রয়েছেন। ফলে উপজেলার মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দ্রুত ও কার্যকর সেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

এছাড়া ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, উপজেলার অধিকাংশ মার্কেট ও দোকানে ন্যূনতম অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। বেশিরভাগ দোকানে ফায়ার এক্সটিংগুইশার (অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র) পর্যন্ত রাখা হয় না। ফলে আগুন লাগার প্রাথমিক পর্যায়ে তা নিয়ন্ত্রণের কোনো সুযোগ থাকে না এবং দ্রুত বড় ধরনের দুর্ঘটনায় রূপ নেয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার অমৃত দেবনাথ জানান, ভোর সাড়ে ছয়টায় বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটে আগুন লেগেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফায়ার সার্ভিসের ৩টি ইউনিট আগুন নেভানোর কাজ করে। প্রাথমিক ভাবে ৯৫ টি দোকান ও ১০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নিরূপণ এবং অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের তালিকা প্রস্তুতের কাজও শুরু হয়েছে। পাশাপাশি তাদের সহায়তার বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।

আকস্মিক এ অগ্নিকাণ্ডে পুরো ভূরুঙ্গামারী এলাকায় শোক ও উদ্বেগের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী, জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহল দ্রুত ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন, ভূরুঙ্গামারীতে পূর্ণাঙ্গ ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপন এবং বাজারগুলোতে বাধ্যতামূলক অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও সহযোগীতার আশ্বাস দিয়েছেন সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম। এছাড়া অন্যান্য রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ পরিদর্শন করেন।

এই সংবাদটি 14 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ