কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার নীলআকাশ দোলার পানি নিষ্কাশন সংকট: শত শত বিঘা কৃষিজমি অনাবাদি হওয়ার আশঙ্কা

প্রকাশিত: ১:০৫ অপরাহ্ণ, জুলাই ২২, ২০২৬

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার নীলআকাশ দোলার পানি নিষ্কাশন সংকট: শত শত বিঘা কৃষিজমি অনাবাদি হওয়ার আশঙ্কা

মোঃ মোর্শেদ আলম
উপজেলা প্রতিনিধি (ফুলবাড়ী , কুড়িগ্রাম)

কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের ঘুঘুর হাট বাজার সংলগ্ন দুবাহাচর এবং স্থানীয়ভাবে পরিচিত নীলআকাশ দোলা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে পানি নিষ্কাশনের সমস্যার কারণে শত শত বিঘা কৃষিজমি অনাবাদি হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় ৩–৪ ফুট পানি স্থায়ীভাবে জমে থাকায় জমির মালিকরা বছরের পর বছর তাদের জমিতে কোনো ধরনের ফসল আবাদ করতে পারছেন না। ফলে কৃষক পরিবারগুলো চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন এবং এলাকায় কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এ সংকটের মূল কারণ হলো দুবাহাচর ও নীলআকাশ দোলার স্বাভাবিক পানি নিষ্কাশনের পথ বিভিন্ন স্থানে অবরুদ্ধ হয়ে যাওয়া। অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসাধু ব্যক্তি পানি বের হওয়ার প্রাকৃতিক পথ দখল করে একাধিক স্থানে বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে পুকুর তৈরি করে মাছ চাষ করছেন। এসব বাঁধের কারণে বর্ষার পানি বের হতে না পেরে বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে স্থায়ীভাবে জমে থাকছে। ফলে প্রতি বছর কৃষকরা তাদের জমিতে ধান, পাট, ভুট্টাসহ অন্যান্য মৌসুমি ফসল উৎপাদনের সুযোগ হারাচ্ছেন।

ভুক্তভোগী কৃষক ও এলাকাবাসী জানান, বিষয়টি নিয়ে তারা একাধিকবার স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে অবগত করেছেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ও স্থায়ী সমাধান পাওয়া যায়নি। এতে কৃষকদের হতাশা ও দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে।

এলাকাবাসীর মতে, এটি শুধু কয়েকজন কৃষকের ব্যক্তিগত সমস্যা নয়; বরং এটি একটি বৃহত্তর কৃষি ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়। শত শত বিঘা উর্বর কৃষিজমি বছরের পর বছর অনাবাদি থাকায় একদিকে যেমন কৃষকদের অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে খাদ্যশস্য উৎপাদনও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাচ্ছে। বর্তমান সময়ে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রতিটি ইঞ্চি কৃষিজমি উৎপাদনের আওতায় আনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এ ধরনের সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকলে তা ভবিষ্যতে জাতীয় খাদ্য উৎপাদনের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

স্থানীয় মানুষের জোর দাবি, সরকারি নীতিমালা ও দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী দ্রুত তদন্ত করে পানি নিষ্কাশনের প্রাকৃতিক পথ থেকে সকল অবৈধ বাঁধ অপসারণ করা হোক এবং দোলার স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা হোক। একই সঙ্গে যারা অবৈধভাবে পানি চলাচলে বাধা সৃষ্টি করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।

ভুক্তভোগী কৃষকদের বিশ্বাস, দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হলে শত শত বিঘা কৃষিজমি আবারও চাষাবাদের আওতায় আসবে। এতে কৃষকদের জীবন-জীবিকা স্বাভাবিক হবে, খাদ্যশস্য উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং পুরো অঞ্চলের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এলাকাবাসীর একটাই দাবি—অবিলম্বে কার্যকর প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে দুবাহাচর ও নীলআকাশ দোলার পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হোক এবং কৃষকদের তাদের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হোক।

এই সংবাদটি 35 বার পঠিত হয়েছে