ফলোআপ: বিয়ানীবাজারে পুলিশের সামনে আ’লীগ নেতা খুন

প্রকাশিত: ৫:২৭ অপরাহ্ণ, জুন ২২, ২০১৬

ফলোআপ: বিয়ানীবাজারে পুলিশের সামনে আ’লীগ নেতা খুন

স্টাফ রিপোর্টার:

সিলেটের বিয়ানীবাজারে জমি দখলে বাধা দেয়ায় পুলিশের সামনেই আবদুস সাত্তার মাহতাব (৪৫) নামে এক আওয়ামী লীগ নেতাকে কুপিয়ে খুন করেছে তার প্রতিপক্ষ। মাহতাব আলীনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কৃষিবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। আইনশৃংখলা বাহিনীর সামনে এ হত্যাকাণ্ড ঘটায় পুলিশকে অবরুদ্ধ করে রাখে বিক্ষুব্ধ জনতা। পাশাপাশি ঘাতকদের বাড়ি ঘেরাও করে স্থানীয় লোকজন। পরে পরিস্থিতি মোকাবেলায় সিলেট থেকে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হয়। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ৮ জনকে গ্রেফতারের পর বিক্ষুব্ধ জনতা অবরোধ তুলে নেয়। নিহত আবদুস সাত্তার মাহতাব আলীনগর গ্রামের মৃত মখদ্দছ আলীর ছেলে। এছাড়াও এ ঘটনায় আরও ৩ জন আহত হয়েছেন। পুলিশ এ ঘটনায় মহিলাসহ ৮ জনকে গ্রেফতার করেছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, নিহত মাহতাব উদ্দিনের সঙ্গে জমি সংক্রান্ত বিরোধ ছিল আলীনগর গ্রামের রুবেল, সুমনসহ কয়েকজনের। বুধবার সকালে বিরোধপূর্ণ জমিতে যান মাহতাব। তখন ওই জমির পাশেই চারখাই পুলিশ ফাঁড়ির এসআই শাহ আলমের নেতৃত্বে একদল পুলিশ অবস্থান করছিল। পুলিশের উপস্থিতি দেখে জমি থেকে উঠে আসেন মাহতাব। এ সময় মাহতাবের সঙ্গে আমেরিকা প্রবাসী আবদুল ফাত্তাহ, সুমন ও রুবেলের কথা কাটাকাটি হয়। তখন পুলিশের সামনেই মাহতাবের ওপর ধারালো দা দিয়ে হামলা চালায় তারা। তাদের উপর্যুপরি দায়ের কোপে রক্তাক্ত মাহতাব মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান। একই সময়ে আসাদ (৪৫), সুফিয়ান (৩২) ও রেহান (৩৫) নামে আরও ৩ জন আহত হন।

নিহত মাহতাবের ভাতিজা সেবুল মিয়া  বলেন, আমেরিকা প্রবাসী একজন প্রভাবশালী মাহতাব খুনের মূল হোতা। নতুবা লাশ পড়ত না। তিনি বলেন, টাকাওয়ালা বলেই পুলিশ ডেকে এনে তাদের সামনে মাহতাবকে কুপিয়ে খুনের দুঃসাহস দেখানো হল।

আলীনগর ইউনিয়ন পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মামুনুর রশিদ বলেন, হামলাকারীদের তুলনায় মাহতাব গরিব। জমি নিয়ে বিরোধের কারণেই পরিকল্পিতভাবে এ খুনের ঘটনা ঘটানো হয়েছে। এদিকে হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পর সুমন, রুবেলসহ তাদের সমর্থকরা কয়েকটি বাড়িতে আশ্রয় নেয়।

তখন পুলিশ ও এলাকাবাসী বাড়ি ঘিরে ফেলে। পরে পুলিশ ৮ জনকে গ্রেফতার করে। আটককৃতরা হচ্ছে- আলীনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল মুমিত সুমন (৩০), মৃত সিকই মিয়ার ছেলে আবদুল মুমিন লিমন (৩২) ও রাজন (২৮), তুতাই মিয়ার ছেলে রুবেল আহমদ (২৪), মৃত ছিদ্দিক আলীর ছেলে ফাত্তাহ (৫৫), মৃত অলিউর রহমান চৌধুরীর ছেলে রায়হানুর রেজা চৌধুরী (৩৮), মৃত খদর আলীর ছেলে শাকিল (৩৫) ও সেবু মিয়ার মেয়ে পারভীন বেগম (২২)। তবে বিয়ানীবাজার থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) এবিএম বদরুজ্জামান জানান, থানায় অভিযোগ দায়েরের পর ঘটনার তদন্তে গিয়েছিলেন এএসআই শাহ আলম। যিনি মারা গেছেন তিনি পুলিশের কাছে দাখিল করা অভিযোগের ৪নং বিবাদী। রাতে এ প্রতিবেদন লেখার সময় বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জুবায়ের আহমদ জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে ঘটনাস্থল থেকে ৮ জনকে আটক করা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ সংক্রান্ত মামলা প্রক্রিয়াধীন।

এই সংবাদটি 512 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ