গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তিনি আজ বাংলাদেশের আপামর গণমানুষের আস্থা, বিশ্বাস, ভালোবাসা ও প্রত্যাশার এক অবিসংবাদিত মূর্ত প্রতীক।
একটি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নির্বাহী দায়িত্ব পালন করা নিঃসন্দেহে গৌরবের বিষয়, কিন্তু একজন নেতার প্রকৃত মূল্যায়ন কেবল তাঁর পদমর্যাদা দিয়ে হয় না; তাঁকে মূল্যায়ন করতে হয় মানুষের হৃদয়ে তাঁর অবস্থান, দেশের প্রতি তাঁর ভালোবাসা এবং জাতির ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর স্বপ্ন ও প্রত্যয়ের মাধ্যমে।
তারেক রহমানের রাজনৈতিক পথচলা তাই কেবল ক্ষমতার রাজনীতির কোনো সাধারণ অধ্যায় নয়; এটি মানুষের অধিকার, গণতন্ত্র, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বপ্নের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত একটি দীর্ঘ যাত্রা। প্রতিকূলতা, বাধা, ষড়যন্ত্র, সংকট ও কঠিন সময়- কোনোটিই তাঁর প্রত্যয়কে মানুষের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারেনি। বরং সময়ের প্রতিটি কঠিন অধ্যায় তাঁকে আরও দৃঢ়, আরও পরিণত এবং মানুষের আকাঙ্খার সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত করেছে।
একজন সত্যিকারের রাষ্ট্রনায়কের সবচেয়ে বড় শক্তি তাঁর পদ নয়- তাঁর প্রতি মানুষের বিশ্বাস। আর মানুষের সেই বিশ্বাস অর্জন কোনো কৃত্রিম প্রচেষ্টায় সম্ভব নয়। এটি অর্জিত হয় দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আদর্শ, ত্যাগ, দায়িত্ববোধ, দেশপ্রেম এবং মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতার মধ্য দিয়ে। তারেক রহমানের প্রতি দেশের বিপুল সংখ্যক মানুষের যে আস্থা ও ভালোবাসা সৃষ্টি হয়েছে, তার পেছনে রয়েছে একটি স্বপ্ন- একটি এমন বাংলাদেশ, যেখানে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে, গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী হবে, আইনের শাসন সমুন্নত থাকবে এবং প্রতিটি নাগরিক মর্যাদা ও নিরাপত্তার সঙ্গে বেঁচে থাকার সুযোগ পাবে।
তাঁর নেতৃত্বের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো- তিনি বাংলাদেশের ভবিষ্যতকে কেবল রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রশ্ন হিসেবে দেখেন না; বরং এটিকে দেখেন একটি প্রজন্মের স্বপ্ন ও সম্ভাবনার প্রশ্ন হিসেবে। তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান, শিক্ষার সুযোগ, অর্থনৈতিক অগ্রগতি, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং একটি আধুনিক ও আত্মমর্যাদাশীল বাংলাদেশ- এসব প্রত্যাশাই একটি উন্নত রাষ্ট্রের ভিত্তি। একজন দূরদর্শী নেতৃত্বের দায়িত্ব হলো সেই প্রত্যাশাগুলোকে বাস্তবতার সঙ্গে যুক্ত করা এবং জাতিকে একটি সুস্পষ্ট ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নেওয়া।
তারেক রহমানের দেশপ্রেমের মূল শক্তি এখানেই- বাংলাদেশ তাঁর কাছে কেবল একটি ভূখণ্ডের নাম নয়; বাংলাদেশ মানে কোটি কোটি মানুষের স্বপ্ন, ভালোবাসা, আত্মপরিচয় ও ভবিষ্যৎ। এই দেশের মাটি, মানুষ, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও স্বাধীনতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধাই তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের অন্যতম ভিত্তি।
ইতিহাসের বিচারে একজন নেতার মূল্যায়ন হয় তিনি ক্ষমতায় কতদিন ছিলেন তা দিয়ে নয়; বরং তিনি তাঁর সময়কে জাতির জন্য কতটা অর্থবহ করে তুলতে পেরেছেন, মানুষের মনে কতটা আস্থা সৃষ্টি করতে পেরেছেন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কতটা শক্তিশালী ভিত্তি রেখে যেতে পেরেছেন-তার ওপর। সেই অর্থে তারেক রহমানের রাজনৈতিক জীবন ও নেতৃত্ব বাংলাদেশের সমকালীন ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক নেতা আসেন, অনেক নেতা চলে যান। কিন্তু কিছু নেতা মানুষের হৃদয়ে থেকে যান। তাঁদের নাম কেবল রাজনৈতিক ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকে না; মানুষের স্মৃতি, অনুভূতি ও প্রত্যাশার সঙ্গে মিশে যায়। তারেক রহমানও তেমনই একটি নাম- যে নামের সঙ্গে আজ বাংলাদেশের অসংখ্য মানুষের আশা, আকাঙ্খা ও ভবিষ্যতের স্বপ্ন জড়িয়ে আছে।
একজন নেতার সবচেয়ে বড় অর্জন হলো মানুষের ভালোবাসা। পদমর্যাদা সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে, রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে, ইতিহাসের নানা বাঁক আসতে পারে; কিন্তু মানুষের হৃদয়ে অর্জিত সম্মান ও বিশ্বাস সহজে মুছে যায় না। তারেক রহমানের প্রতি মানুষের এই আস্থা ও ভালোবাসাই তাঁর নেতৃত্বের সবচেয়ে বড় শক্তি।
আমরা বিশ্বাস করি, দেশপ্রেম, সততা, সাহস, দূরদর্শিতা, দায়িত্ববোধ এবং মানুষের প্রতি অঙ্গীকার একজন নেতাকে কেবল বর্তমানের নেতা করে না- তাঁকে ভবিষ্যতের ইতিহাসেও জায়গা করে দেয়। বাংলাদেশের মানুষের আশা ও আকাঙ্খাকে ধারণ করে তারেক রহমান যদি একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক, সমৃদ্ধ ও আত্মমর্যাদাশীল বাংলাদেশ নির্মাণের পথে এগিয়ে যেতে পারেন, তবে তাঁর নেতৃত্ব শুধু একটি সরকারের সময়কালেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; তা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি দীর্ঘস্থায়ী অধ্যায় হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
কারণ ইতিহাস শেষ পর্যন্ত তাঁদেরই স্মরণ করে, যাঁরা নিজের জন্য নয়- দেশের জন্য স্বপ্ন দেখেন; ক্ষমতার জন্য নয়- মানুষের জন্য কাজ করার প্রত্যয় ধারণ করেন এবং প্রতিকূলতার সামনে নত না হয়ে জাতির ভবিষ্যতের জন্য পথ নির্মাণ করেন।
তারেক রহমান তাই শুধু একজন প্রধানমন্ত্রী নন- তিনি আজ বাংলাদেশের গণমানুষের আশা, বিশ্বাস ও ভালোবাসার একটি নির্ভরযোগ্য নাম।
বাংলাদেশের মানুষের অধিকার, গণতন্ত্র, উন্নয়ন, শান্তি ও সমৃদ্ধির প্রত্যাশাকে ধারণ করে তাঁর নেতৃত্বে একটি সুন্দর, মর্যাদাশীল ও সম্ভাবনাময় বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হোক- এটাই হোক আমাদের প্রত্যাশা।
সময়ের স্রোত অনেক কিছু বদলে দেয়; কিন্তু যে নেতৃত্ব মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেয়, তার প্রভাব সময়ের গণ্ডি পেরিয়ে ইতিহাসের পাতায় অমর হয়ে থাকে।
তারেক রহমানের দেশপ্রেম, নেতৃত্ব ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা বাংলাদেশের ইতিহাসে তেমনই এক স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকুক। তারেক রহমান যে ভাবে দেশ পরিচালনা করছেন তাতে গনমানুষের প্রত্যাশা বাংলাদেশ এক উন্নত বাংলাদেশে রুপান্তরিত হবে। লেখক : এডভোকেট আল আসলাম মুমিন- সাংগঠনিক সম্পাদক, বিএনপি সিলেট জেলা শাখা।