কমলগঞ্জে অবাধে শেড ট্রি উজাড় ঃ হুমকীর মুখে চা শিল্প

প্রকাশিত: ১১:২১ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১০, ২০১৬

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি : মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ ও কুলাউড়া উপজেলার বিভিন্ন চা বাগানের বিভিন্ন সেকশন থেকে প্রতিনিয়ত ঘটছে ছায়াবৃক্ষ চুরির ঘটনা। এসব মূল্যবান ছায়াবৃক্ষ চুরির ফলে চা শিল্প ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। দেখা দিয়েছে উৎপাদন হ্রাসের আশঙ্কা। পরিবেশেও বিপর্যয় ডেকে আনছে। চা বাগানের কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারীর সাথে যোগসাজশে চোরচক্র ছায়াবৃক্ষ চুরি অব্যাহত রেখেছে।
চা বাগানের শ্রমিকরা জানান, ডানকান ব্রাদার্সের চাতলাপুর, শমশেরনগর, আলীনগর ও এর ফাঁড়ি চা বাগান এবং এনটিসির কুরমা, চাম্পারায় চা বাগান থেকে ছায়াবৃক্ষ চুরি হয়ে যাচ্ছে। সীমান্তবর্তী চাতলাপুর চা বাগানের বিভিন্ন সেকশন বিরান হচ্ছে। একই দশা দেখা দিয়েছে শমশেরনগর, আলীনগর ও এনটিসির কুরমা, চাম্পারায় চা বাগানে।
শ্রমিকরা বলেন, স্থানীয় চক্রের সাথে চা বাগানের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে চায়ের টিলাভূমি থেকে গাছ পাচার হচ্ছে। শমশেরনগর ও ফাঁড়ি দেওছড়া, আলীনগর ও ফাঁড়ি কামারছড়া, সুনছড়া চা বাগান থেকে গাছ চুরির ফলে বৃক্ষশূন্য হয়ে পড়ছে চা বাগান। এভাবে ছায়াবৃক্ষ কমে যাওয়ায় বিনষ্ট হচ্ছে চা গাছ। এদিকে এনটিসির কুরমা, চাম্পারায় চা বাগান থেকে স্থানীয় প্রভাবশালী মহল গাছ চুরি করে নিচ্ছেন। ওই মহল কুরমা বিটের সংরক্ষিত বাঁশ ও বনমহাল উজাড় করে চলেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শ্রমিক সর্দার দেওছড়া ডিভিশনের চিত্র তুলে ধরে বলেন, দিনের বেলাতেও গাছ চুরি হয়ে যাচ্ছে। গত কয়েক বছরে শত শত ছায়াবৃক্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। গাছ পাচারের অভিযোগে চিহ্নিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। কিন্তু স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাদের প্রভাবে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না।
ইউপি সদস্য সিতারীম বীন জানান, চাতলাপুর চা বাগান, শমশেরনগর, আলীনগর থেকে প্রতি রাতে ট্রাকযোগে গাছ পাচারের ঘটনা ঘটছে। তবে ম্যানেজমেন্ট শক্ত অবস্থানে থাকলে গাছ চুরি অনেকটা কমে যায়। চা বাগানের ম্যানেজার বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার দিক তুলে ধরে বলেন, বিশাল চা বাগানে কিছু গাছ চুরি মাঝে মধ্যে হয়। এগুলো রোধ করতে হলে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

এই সংবাদটি 380 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ