শক্তিমান কবি-লেখক সৈয়দ শামসুল হক আর নেই: প্রেসিডেন্ট-প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সনের শোক

প্রকাশিত: ৭:৩২ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১৬

শক্তিমান কবি-লেখক সৈয়দ শামসুল হক আর নেই: প্রেসিডেন্ট-প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সনের শোক

স্টাফ রিপোর্টার : সমকালীন বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শক্তিমান কবি ও লেখক সৈয়দ শামসুল হক আর নেই। গতকাল মঙ্গলবার বিকেল ৫টা ২৫ মিনিটে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তিকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল ৮১ বছর। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ফুসফুস ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন।

ইউনাইটেড হাসপাতালের কমিউনিকেশন ম্যানেজার চিকিৎসক সাগুফতা আনোয়ার লেখকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ক্যানসারে আক্রান্ত সৈয়দ শামসুল হকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় দুপুরে তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়।

এদিকে, কবি-লেখক সৈয়দ শামসুল হকের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। এছাড়া তাঁর মৃত্যুর খবরে লেখক-বুদ্ধিজীবী ও ভক্ত-অনুরাগীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

সৈয়দ হকের চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, তাঁর রক্তচাপ খুব ‘লো’ হয়ে যাওয়ায় তা স্ট্যাবল করার চেষ্টা করেন চিকিৎকরা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কবিকে বাঁচানোর সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যায়। হাঁড় ও যকৃতসহ লেখকের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়েছে বলেও বোর্ড জানায়।

এর আগে লন্ডনের রয়্যাল মার্সডেন হাসপাতালে চার মাস অসফল চিকিৎসার পর মন ভাঙ্গা খবর নিয়ে ২ সেপ্টেম্বর সৈয়দ শামসুল হক দেশে ফেরেন। এর আগে গত ১৫ এপ্রিল ফুসফুসের সমস্যা নিয়ে তিনি লন্ডনে যান। সেখানে পরীক্ষার পর তাঁর ক্যানসার ধরা পড়ে। ফুসফুসের ক্যান্সার তাঁর যকৃতেও ছড়িয়ে পড়ে। দেশে ফেরার পর তিনি ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। ইংল্যান্ডের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা তখন জানিয়েছিলেন তাঁর আয়ূষ্কাল আর মাত্র ছয় মাস।

মৃত্যুর পরপর পারিবারিক সূত্র জানায়, ইউনাইটেড হাসপাতাল থেকে সৈয়দ হকের লাশ গুলশানে নিজ বাড়িতে নেয়া হয়। সেখান থেকে রাতেই লেখকের লাশ হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়।

আজ বুধবার বেলা ১১টায় সর্বস্তরের জনগণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য লাশ নেয়া হবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। এরপর দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মসজিদে নামাযে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে তাঁর লাশ গ্রামের বাড়ি কুড়িগ্রামে নেয়া হবে। সেখানেই এই লেখককে দাফন করা হবে।

এদিকে, দ্রুত সৈয়দ হকের স্বাস্থ্যের অবনতি হওয়ায় গতকাল দুপুরে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা কবিকে দেখতে যান। বিকেলে দেখতে যান সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর ও নাট্যব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার।

সৈয়দ শামসুল হক ১৯৩৫ সালে ২৭ ডিসেম্বর কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবেই লেখার জগতে পা রাখেন সৈয়দ হক। তিনি বাংলাদেশের একজন খ্যাতিমান সাহিত্যিক। কবিতা, উপন্যাস, ছোটগল্প তথা সাহিত্যের সকল শাখায় সাবলীল পদচারণার জন্য তাকে ‘সব্যসাচী লেখক’ বলা হয়। সৈয়দ শামসুল হক মাত্র ২৯ বছর বয়সে ১৯৬৬ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান। বাংলা একাডেমি পুরস্কার পাওয়া সাহিত্যিকদের মধ্যে তিনিই সবচেয়ে কম বয়সে এ পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়া, বাংলা সাহিত্যে অসাধারণ অবদান রাখার জন্য এই কবি ও লেখক ১৯৮৪ সালে একুশে পদক এবং ২০০০ সালে স্বাধীনতা পদক লাভ করেন।

ষাট বছরের লেখকজীবন সৈয়দ শামসুল হকের। ১৯৫০-এর দশকেই প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘দেয়ালের দেশ’। এ সময় চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য লেখা শুরু করেন তিনি। তাঁর লেখা চিত্রনাট্যে নির্মিত হয় ‘সুতরাং’, ‘কাগজের নৌকা’, ‘মাটির পাহাড়’, ‘তোমার আমার’। তাঁর উপন্যাস ‘নিষিদ্ধ লোবান’ অবলম্বনে ‘গেরিলা’ চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করা হয়। ‘নুরলদীনের সারা জীবন’ তাঁর বিখ্যাত কাব্যনাট্য।

সৈয়দ শামসুল হক চিত্রনাট্যের পাশাপাশি চলচ্চিত্রের জন্য প্রচুর গান লিখেছেন। তাঁর লেখা বিখ্যাত গানগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস’, ‘তুমি আসবে বলে কাছে ডাকবে বলে’, ‘এই যে আকাশ এই যে বাতাস’। এছাড়া অসংখ্য অনুবাদ এবং শিশুসাহিত্যে নিজের প্রতিভার সাক্ষর রেখেছেন সৈয়দ হক।

এই সংবাদটি 365 বার পঠিত হয়েছে