বিয়ানীবাজারে মাদরাসা সুপারকে হয়রানির অভিযোগ

প্রকাশিত: ৯:৩৪ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১০, ২০২৫

বিয়ানীবাজারে মাদরাসা সুপারকে হয়রানির অভিযোগ


স্টাফ রিপোর্টার:

সিলেট জেলার বিয়ানীবাজার উপজেলার সারপার হাফিজিয়া দাখিল মাদরাসার সুপার মুহাম্মদ ফয়জুল হকের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চলমান হয়রানি ও প্রশাসনিক জটিলতার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০০৫ সালে সুপার হিসেবে যোগদানের পর মুহাম্মদ ফয়জুল হকের হাত ধরেই মাদরাসাটি ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে যেতে শুরু করে। তার প্রচেষ্টায় মাদরাসাটি ২০০৯ সালে দাখিল অনুমতি লাভ করে এবং পরে ২০১৪ সালে স্বীকৃতি পায়। পরবর্তীতে দীর্ঘ চেষ্টায় ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত হয়।

কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে ২০২০ সালের করোনা মহামারির সময় মাদরাসা বন্ধ থাকা অবস্থায়, তৎকালীন সভাপতি আব্দুর রহিম দুদু গোপনে কোনো রেজুলেশন ছাড়াই এবং সুপারকে অবহিত না করে একটি সাময়িক বরখাস্তের চিঠি প্রদান করেন। সুপার পরে জানান, তিনি এ বিষয়টি সম্পর্কে কিছুই জানতেন না এবং বরখাস্তের কাগজে তার কোনো স্বাক্ষর নেই যা বিধিবহির্ভূত।

এরপর এমপিওভুক্তির পর থেকে মাদরাসা কমিটি তাকে নানা উপায়ে হয়রানি করতে থাকে। অভিযোগ রয়েছে—কিছু সদস্য নিজেদের লোকজনকে নিয়োগ দেওয়ার চাপ দিলে সুপার এতে সম্মতি না জানালে তাকে মাদরাসা থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।

বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দায়ের:
২০২২ সালের পর একাধিকবার তিনি মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ করেন। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের পত্রের প্রেক্ষিতে উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার সরেজমিন তদন্ত করেন তদন্ত প্রতিেবেদনে তিনি জানান—

২০০৫ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত সুপার বৈধভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

২০২০ সালের বরখাস্ত বিধি অনুযায়ী হয়নি, বরখাস্তের ৬ মাসের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নেওয়ায় সুপারের চাকরি বহাল থাকে।

ব্যানবেইস জরিপেও ২০২২ সাল পর্যন্ত সুপার হিসেবে তার নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে বরখাস্ত আদেশকে অবৈধ বলে উল্লেখ করা হলেও এখন পর্যন্ত মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর লিখিতভাবে কোনো নির্দেশনা না দিয়ে কেবল মৌখিকভাবে নির্দেশনা প্রদান করছে যে, মেমিস সফটওয়ারে সুপার মুহাম্মদ ফয়জুল হকের এমপিও ফাইল জমা দেয়ার জন্য ।

মানবেতর জীবনযাপন:
সুপার মুহাম্মদ ফয়জুল হক জানান, তিনি মাত্র ১,০০০ টাকা বেতনে চাকরি শুরু করেছিলেন এবং সর্বশেষ বেতন ছিল ৬,০০০ টাকা। এমপিওভুক্তির সুবিধা না পাওয়ায় তিনি বর্তমানে পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তিনি বলেন:

“সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ আমাকে হয়রানী করছে বেতন-ভাতা থেকে বঞ্চিত করে করে রাখছে। আমি এর সুবিচার চাই।”

সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষিত:
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাদরাসা শিক্ষাবিভাগ শিক্ষকদের জোরপূর্বক পদত্যাগ বা বেআইনি বরখাস্ত ঠেকাতে বিভিন্ন নির্দেশনা জারি করলেও এসব নির্দেশনা উপেক্ষা করেই মাদরাসা কমিটি সুপারকে বাদ দিয়ে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বা এমপিওভূক্তির প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সুপারের দাবি: বিভিন্ন অনিয়ম, হয়রানি ও বেতন-ভাতা বঞ্চনার ঘটনা দুর করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিনি উচ্চ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এই সংবাদটি 254 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ