ঢাকা |
প্রকাশিত: ২:০৮ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ২৭, ২০১৬
বিশেষ প্রতিনিধি ঃ সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী কমলগঞ্জের কোনাগাঁও গ্রামের আদিবাসী কিশোরী ঐশী হামোম কে ৭ নভেম্বর টিলাগড় থেকে জোরপূর্বক অপহরণ করা হয়। অপহরণের পর তাকে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখা হয় টানা ১০ দিন। অপহরণকারী অচেন অবস্থায় তার উপর শারিরীক নির্যাতন চালিয়েছে। সই নিয়েছে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে সাদা ষ্ট্যাম্পে। লজ্জায় সে এখন কলেজে যেতে পারছে না। এ ঘটনার বিচার চায় সে। তার দাবী অপরাধীকে যেন এমন শাস্তি দেওয়া হয় যা দেখে ভবিষ্যতে কেউ এমন জঘন্য কাজ করতে না পারে। তার মাতো আর যেন কোন মেয়েকে এভাবে চোখের জল ফেলতে না হয়। অপহরণকারীদের কবল থেকে মুক্ত হবার পর অসুস্থ ঐশী টানা ৪ দিন সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ শেষে গত রোববার বাড়ি ফেরে। গতকাল কমলগঞ্জের গ্রামের বাড়ীতে কথা হয় তার সাথে। আলাপচারিতায় জানা গেলো তার জীবনে ঘটে যাওয়া সেই লোমহর্ষকর কাহিনী। ঐশী জানিয়েছেন, ‘অপহরণকারীরা আমাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে অচেতন অবস্থায় অজ্ঞাত স্থানে রেখে শারিরীক নির্যাতন চালিয়েছে’। ‘আমি যখন ওদের হাতে বন্দি তখন আমার শারীরিক অবস্থা ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছিল। টানা নির্যাতনে আমি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম। আর ওই সময় তারা বলেছিল- আদালতে অপহরণকারী রনির পক্ষে বক্তব্য না দিলে তারা আমার বাবা-মা ও ভাইকে হত্যা করে ফেলবে। এ কারণে বাধ্য হয়ে আমি আদালতে তাদের শেখানো বুলি বলেছি।’ এখন ঐশী তাকে অপহরণ ও নির্যাতনের বিচার চান। এই দাবিতে রনির বিরুদ্ধে আদালতে লড়াই চালিয়ে যাবে ঐশীর পরিবার। সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্য বিজ্ঞান অনুষদের শেষ বর্ষের ছাত্রী ঐশী হামোম থাকতেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হোস্টেলে। তার পিতা সনাতন হামোম কমলগঞ্জ উপজেলার একজন স্বনামধণ্য সাহিত্যিক ও সংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। ঐশী হামোম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হওয়ায় একই গোত্রীয় সিলেটের লিডিং ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী উৎপল সিংহ রনির সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরিচয়ের সূত্র ধরে প্রায়শই সুবিদবাজার কোচিংএ যাওয়া আসার পথে ঐশীকে উত্যাক্ত করতো রনি। একসময় রনি তার বাবা উপেন্দ্র সিংহ ও মা নন্দরানীর মাধ্যমে বিয়ের প্রস্তাব পাঠায় ঐশীর বাবা সনাতন হামোমের কাছে। মাদকাসক্ত রনির রনির চরিত্রগত সমস্যা থাকায় বিয়ের প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি পরিবারটি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে রনি। বেপরোয়া হয়ে উঠা রণি ছক আঁকে ঐশীকে অপহরণের। ৭ই নভেম্বর সে সন্ধ্যায় রিকশা নিয়ে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেলে ফিরার পথে বালুচরের গলির মুখে একটি মাইক্রোবাস নিয়ে ঐশীর পথ আটকায় রনি। নির্জন ঐ স্থান থেকে জোরপূর্বক তাকে মাইক্রোবাসে ওঠানোর পর চোখ-মুখ কাপড় দিয়ে বেঁধে প্রচন্ড মারধর করে রনি। ওই দিনই ঐশীকে নিয়ে রাখা হয় শ্রীমঙ্গলে রনির এক আত্মীয়ের বাসায়। তার পর তাকে নিয়ে যাওয়া হয় হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের একটি বাগানে। ওই বাগানে রাখার সময় রনি তার ওপর নির্যাতন চালায়। এভাবে টানা ১০ দিনে অপহরণকারী তাকে নিয়ে এক এক ৭টি স্থান বদল করেছে। যে কদিন সে অপহরণকারীর কবলে ছিল তখন মাঝেমধ্যে তার চোখ খুলে দেওয়া হলেও অধিকাংশ সময় মুখ বাঁধা থাকতো। প্রতিদিনই তার উপর নির্যাতন চালানো হতো। নির্যাতনের কারণে প্রায় সময় অচেতন হয়ে পড়তেন। অচেতন অবস্থায়ও তার উপর অনেক নির্যাতন হয়েছে।’ এসব নির্যাতনের কারণে তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং শেষদিকে শরীর অবশ হয়ে চলাফেরার শক্তিও হারিয়ে ফেলেন বলে জানান ঐশী। তিনি বলেন, অপহরণের ৩ দিন পর রনি ও তার লোকজন তাকে নিয়ে যায় হবিগঞ্জের এক আইনজীবির বাসায়। সেখানে নেয়ার পর তাকে মারধোর করে ও হত্যার ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক সই নেওয়া হয় সাদা স্ট্যাম্পে। এদিকে, ঐশী অপহরণের ঘটনায় তার পিতা সনাতন হামোম সিলেটের শাহপরান থানায় মামলা দায়ের করার পর পুলিশ তৎপর হয়ে উঠে। এ কারণে ঐশীকে নিয়ে পালিয়ে থাকা দুষ্কর হয়ে পড়ে রনির। গত ১৭ তারিখ রনি সিংহ ও তার পরিবারের লোকজন ঐশীকে নিয়ে আদালতে আত্মসমর্পন করে। ঐশী জানিয়েছেন, ‘আদালতে নিয়ে আসার আগে তারা জানিয়ে দেয় যদি রনির পক্ষে বক্তব্য না দেই তাহলে তারা আমার বাবা-মা ও ভাইকে খুন করে ফেলবে। এসব হুমকিতে আমি তটস্থ হয়ে পড়ি। আর ১৭ই নভেম্বর সিলেটের আদালতে হাজির করার পর আমি রনির পক্ষে বক্তব্য দেই।’ ওই দিন আদালত ঐশীর বক্তব্যের প্রেক্ষিতে রনি সিংহকে জামিন দিয়েছেন। আর ঐশীকে নিজ জিম্মায় জামিন দেন। নিজের জিম্মায় জামিন পাওয়ার পর ঐশী সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। ওই সময় তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন পিতা সনাতন হামোম, মা ঊষা রানী সিনহা ও ভাই সাগর হামোম। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর মা-বাবাকে কাছে পেয়ে ঐশী অঝোরে কাঁদেন। জানান, তার ওপর নির্যাতনের কথা। আদালতের নির্দেশে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসিতে ঐশীর মেডিকেল চেকআপ করানো হয়েছে। এরপর আরো দুই দিন চিকিৎসা দেয়ার পর ২০ নভেম্বর সে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান। এবং মা-বাবার সঙ্গে নিজ বাড়ি কমলগঞ্জে চলে যান। যাওয়ার আগে সিলেটের আদালতে গিয়ে ঐশী এফিডেভিটের মাধ্যমে উৎপল সিংহ রনিকে ডিভোর্স দিয়েছেন। ঐশী ডিভোর্সের কপিতে জানান, রনি সিংহ তাকে জোরপূর্বক অপহরণ এবং পরে ধর্ষণ করেছে। নানা ভয়ভীতি দেখিয়ে কাগজে তার মতের বিরুদ্ধে দস্তগত নিয়েছে। ঐশী এখন গ্রামের বাড়িতেই আছেন। উজ্বল ভবিষ্যতের কথা ভেবে এই দুঃস্বপ্নকে সে তোর মন থেকে মুছে ফেলে আবার ঘুরে দাঁড়াতে চাইছে। আমাদের স্নেহের ঐশীরা কি পারবে আবার স্বাভাবিক হতে। ঐশীর পিতা সনাতন হামোম জানিয়েছেন, তার মেয়েকে জোরপূর্বক অপহরণ করে নির্যাতন চালানো হয়েছে। এতে সে মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত ছিল। এ ঘটনার বিচারের জন্য অদালতে তিনি আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন।
Ref:sc009/k/Em/m/26/11/16
রেজিঃ নং চ-৭৩৫
সম্পাদক ও প্রকাশক: এম.ফয়জুল হক শিমুল
সহ: সম্পাদক : হাবিবুর রহমান সুলতান
সহ: সম্পাদক : নুরুল হক মাসুদ
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক নিউ বর্ণমালা অফসেট প্রিন্টিং প্রেস, রাজা ম্যানশন জিন্দাবাজার, সিলেট থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: * সি-৮/৩০ বনশ্রী ঢাকা।
সিলেট অফিস: কমন মার্কেট (৫ম তলা ) বন্দর বাজার, সিলেট।
বিয়ানীবাজার অফিস: ছফর কমপ্লেক্স, দক্ষিণ বিয়ানীবাজার, সিলেট।
যোগাযোগ মোবাইলঃ +88-01713813124
ই-মেইল ॥ somoychitro@gmail.com
বড়লেখা অফিস: নেহার মার্কেট, ( ২য় তলা), বড়লেখা, মৌলভীবাজার।