অপরাধীদের নিরাপদ জায়গা মৌলভীবাজার ইকোপার্ক

প্রকাশিত: ৮:২০ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১৩, ২০১৬

অপরাধীদের নিরাপদ জায়গা মৌলভীবাজার ইকোপার্ক

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজার শহরের বর্ষিজোড়া ইকোপার্ক এখন মাদক, ইয়াবা ও সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে। দর্শনার্থীদের পরিবর্তে ওই পার্কে প্রতিনিয়ত মাদক সেবিদের উপস্থিত চোখে পড়ার মতো। শহরের বিভিন্ন জায়গা থেকে উড়তি বয়সি যুবক-যুবতীরা পার্কের নির্জন জঙ্গলে নানা অপকর্মে সাথে জড়িয়ে পড়ছে। ধ্বংস হচ্ছে জেলার যুব সমাজ।

২০১০ সালে ২ কোটি টাকা ব্যয়ে দর্শনার্থীদের জন্য নির্মান করা হয় এই পার্কটি। উদ্যোশ্য ইজারা প্রদানের মাধ্যমে আদায় করা হবে জাতীয় রাজস্ব। কিন্তু আজকে এটি জেলা বাসির জন্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।

২০০৬ সালের জুলাই মাসে ইকোপার্ক হিসেবে ঘোষণা করা হয় ওই সংরক্ষিত বধ্যভূমিকে। পার্ক ঘোষণার ১০ বছরের মাথায় ইতি মধ্যে একাধিক খুন, ধর্ষণ, অপহরণ ও ছিনতাইয়ে ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় ও দর্শনার্থীদের কাছে এখন এই পার্কটি ভয়ংকর স্থানে পরিণত হয়েছে। দিনে-দুপুরে পার্কে একা চলাফিরা করতে কেউই সাহস পাননি। অনেকের ধারণা ইকোপার্ক মানেই মাদক ও ইয়াবা সেবকদের আখড়া।

বন বিভাগের বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণের বিভাগীয় কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মৌলভীবাজার শহর থেকে দুই কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত মিশ্র চিরহরিৎ প্রাকৃতিক বনে গড়ে তোলা হয়েছে এই ইকোপার্ক। ৮৮৭ একর জায়গা নিয়ে গড়ে তোলা এই পার্কে রয়েছে ২টি কটেজ, ৪টি পিকনিক স্পট, সুদৃশ্য প্রধান গেট, ৫টি টয়লেট, ৪টি সিকিউরিটি পোস্ট, ২টি সিকিউরিটি টাওয়ার, ১টি টিকেট কাউন্টার ও ১টি রাস্তা। ছোট ছোট টিলা ও ছড়া (খাল) সমৃদ্ধ মিশ্র চিরহরিৎ এই প্রাকৃতিক বনটিকে ১৯১৬ সালে সংরক্ষিত বনাঞ্চল ঘোষণা করা হয়েছিল।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মৌলভীবাজার সদর উপজেলার জগৎপুর গ্রামে আনোয়ার বখ্ত নিখোঁজের ১৩ দিন পর ২০১৪ সালের ২৪ নভেম্বর ইকোপার্ক থেকে তার গলিথ লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ২০১৪ সালের ২০ ফেব্রয়ালী বর্ষিজোড়া ইকোপার্ক এলাকার পাহাড়িকা ম্যানশনের সামনে থেকে মিলাদকে অপহরণ করে দুর্বৃত্তরা। পরে ওই দিন রাত ২টায় শহরের পৌর বাস টার্মিনাল থেকে টহল পুলিশ হাত-পা বাঁধা অস্থায় মিলাদকে উদ্ধার করে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে সে মারা যায়। ২০১১ সালের ১৬ মে পিতৃমাতৃহীন ১৪ বছরের এক কন্যাশিশু গণধর্ষণের স্বীকার হয়। এ রকম আরো অনেক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে এখানে।

সরেজমিন পার্কের প্রধান ফটকের সামনে গেলে দেখা হয় বর্ষিজোড়ার বাসিন্দা ঢাকা মেট্র পলিটন লিমিটেডের শ্রমিক রানা মিয়ার সাথে, তিনি বলেন, ২-৩ বছর আগে পার্কে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে দর্শনার্থীরা আসতেন এখন আর কোন দর্শনার্থীদের আসতে দেখা যায়না। না আসার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, শুনেছি এখানে মানুষকে খুন করা হয় এবং বনের ভীতরে মাদক ও ইয়াবা সেবন করা হয়। টিলাবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র রাজু মিয়া ও ইয়ামিন মিয়া একই কথা বলেন।

বর্ষিজোড়া এলাকার বাসিন্দা অটোরিক্সা চালক আনোয়ার ওরফে আনু মিয়া বলেন, অপরিচিত কোন লোক এখানে আসলে ওঁৎপেতে থাকা সন্ত্রাসীরা টাকা, মোবাইল ও মহিলাদের স্বর্ণলংকার ছিনিয়ে নেয়। পথচারী ২জন মহিলা বলেন, গেইটে ২টি হরিণের ছবি আছে এছাড়া এখানে দেখার মতো আর কিছু নেই। যে গুলো ছিল অবহেলা অযতেœ নষ্ট হয়ে গেছে।
বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণের সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মিহির কুমার দেব বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব বন বিভাগের নয় ট্যুরিস পুলিশের। মাদক ও ইয়াবা সেবন হয়কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শুনেছি বন বিভাগের বাহিরে কিছু বস্তি এলাকায় এ কাজ হয়ে থাকে। পার্কিটি আবার চালু করা হবেকিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি এ জন্য আমি মনে করি এটি দর্শকদের জন্য অপেন না করে বন্য প্রাণীদের অভয়াশ্রম করলে ভালো হবে।

এই সংবাদটি 672 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ