সিলেটের বিভিন্ন রুটে বাসভাড়া পুনর্নির্ধারণ, যাত্রী-কন্টাকটরের মধ্যে বাকবিতণ্ডা

প্রকাশিত: ৫:৪৫ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬

সিলেটের বিভিন্ন রুটে বাসভাড়া পুনর্নির্ধারণ, যাত্রী-কন্টাকটরের মধ্যে বাকবিতণ্ডা

স্টাফ রিপোর্টার:
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর সিলেট অঞ্চলের বিভিন্ন রুটে ডিজেলচালিত বাস ও মিনিবাসের ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। নতুন ভাড়ার তালিকা প্রকাশের পর বিভিন্ন রুটে যাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। কোথাও কোথাও নতুন ভাড়া আদায়কে কেন্দ্র করে যাত্রী ও বাসের কন্টাকটরের মধ্যে বাকবিতণ্ডার ঘটনাও ঘটছে।
সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আন্তঃজেলা ও দূরপাল্লার ডিজেলচালিত বাস-মিনিবাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ২ টাকা ২৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা ৪০ পয়সা করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া বেড়েছে ১৭ পয়সা। নতুন ভাড়া গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে।
তবে গ্যাসচালিত বাস ও মিনিবাসের ক্ষেত্রে এ ভাড়া প্রযোজ্য নয়। সংশ্লিষ্ট নির্দেশনায় প্রতিটি বাস ও মিনিবাসের দৃশ্যমান স্থানে নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা প্রদর্শনের কথাও বলা হয়েছে।
বিআরটিএর সিলেট সার্কেলের পুনর্নির্ধারিত তালিকা অনুযায়ী, সিলেট-সুনামগঞ্জ ৫৯ কিলোমিটার রুটে ৪০ আসনের বাসে যাত্রীপ্রতি ভাড়া ১৪২ টাকা এবং ৫১ আসনের বাসে ১৮১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সিলেট-জকিগঞ্জ (ভায়া বারইগ্রাম-সুতারকান্দি) ৮৯ কিলোমিটার রুটে ৪০ আসনের বাসে ২১৪ টাকা এবং ৫১ আসনের বাসে ২৭৩ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। সিলেট-ছাতক ২৯ কিলোমিটার রুটে ৪০ আসনের বাসে যাত্রীপ্রতি ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৭০ টাকা।
টোলযুক্ত রুটগুলোতে নির্ধারিত ভাড়ার সঙ্গে টোলের অর্থও যুক্ত করা হয়েছে। সিলেট-দিরাই ৭৫ কিলোমিটার রুটে ৩৫ টাকা টোলসহ ৪০ আসনের বাসে ২১৫ টাকা এবং ৫১ আসনের বাসে ২৬৫ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে।
সিলেট-কুলাউড়া (ভায়া ফেঞ্চুগঞ্জ) ৬১ কিলোমিটার রুটে ৬৫ টাকা টোলসহ ৪০ আসনের বাসে ১৪৬ টাকা এবং ৫১ আসনের বাসে ১৮৬ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া সিলেট-শেরপুর ৩৭ কিলোমিটার রুটে ৩৫ টাকা টোলসহ ৪০ আসনের বাসে ৮৯ টাকা ও ৫১ আসনের বাসে ১১৩ টাকা এবং সিলেট-বিশ্বনাথ (ভায়া রামপাশা) ২৪ কিলোমিটার রুটে ৬ টাকা টোলসহ ৪০ আসনের বাসে ৫৮ টাকা ও ৫১ আসনের বাসে ৭৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
অন্যান্য রুটের মধ্যে সিলেট-শ্রীমঙ্গল (ভায়া মৌলভীবাজার) ৮৩ কিলোমিটার রুটে ৪০ আসনের বাসে ১৯৯ টাকা এবং ৫১ আসনের বাসে ২৫৪ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে।
সিলেট-জাফলং (ভায়া তামাবিল) ৫৮ কিলোমিটার রুটে ৪০ আসনের বাসে ১৩৯ টাকা ২০ পয়সা এবং ৫১ আসনের বাসে ১৭৭ টাকা, সিলেট-গোয়াইনঘাট (ভায়া সালুটিকর) ৩৮ কিলোমিটার রুটে ৪০ আসনের বাসে ৯১ টাকা এবং ৫১ আসনের বাসে ১১৬ টাকা ভাড়া করা হয়েছে।
সিলেট-মৌলভীবাজার (ভায়া ফেঞ্চুগঞ্জ ও মুন্সিবাজার) ৬৩ কিলোমিটার রুটে ৪০ আসনের বাসে ১৫১ টাকা এবং ৫১ আসনের বাসে ১৯৩ টাকা। সিলেট-চন্দরপুর ২৭ কিলোমিটার রুটে ৪০ আসনের বাসে ৬৫ টাকা এবং ৫১ আসনের বাসে ৮৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন ভাড়া কার্যকর হওয়ার পর বিভিন্ন রুটে যাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অনেক যাত্রী নির্ধারিত ভাড়া সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা না থাকায় বাসের কন্টাকটরের সঙ্গে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া নিয়ে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ছেন। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভাড়ার তালিকা বাসের দৃশ্যমান স্থানে টানানো থাকলে এ ধরনের বিভ্রান্তি অনেকটাই কমে আসবে।
সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শেখ এমরান হোসেন ঝুনু বলেন, “বাসগুলোকে সরকারের নির্ধারিত হারেই যাত্রীসেবা দিতে হবে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কোনো সুযোগ নেই। প্রতিটি বাসের দৃশ্যমান স্থানে ভাড়ার তালিকা ঝুলিয়ে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “ভাড়া বাড়ার পর বাসের চালক-হেলপার ও যাত্রীদের মধ্যে কিছুটা ঝামেলা হয়। কয়েকদিন গেলে সাধারণত এই সমস্যার সমাধান হয়ে যায়।”
এদিকে যাত্রীদের দাবি, নতুন ভাড়া কার্যকর হলেও প্রত্যেক রুটে নির্ধারিত ভাড়া কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। পাশাপাশি অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন।

এই সংবাদটি 15 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ