ফাহিমার পরিবারের খোঁজখবর নিতে বাড়িতে গেলেন সিলেটের সাংবাদিকেরা

প্রকাশিত: ১২:৪৪ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১০, ২০২৬

ফাহিমার পরিবারের খোঁজখবর নিতে বাড়িতে গেলেন সিলেটের সাংবাদিকেরা

স্টাফ রিপোর্টার :

সিলেটের আলোচিত চার বছরের শিশু ফাহিমা আক্তার হত্যা মামলায় প্রধান আসামি জাকির হোসেনের মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর ফাহিমার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন সিলেটে কর্মরত সাংবাদিকরা।

রোববার, ৯ আগস্ট, সিলেট সদর উপজেলার কান্দিরগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামে ফাহিমার বাড়িতে যান সাংবাদিকদের একটি প্রতিনিধি দল।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিনের সিলেট প্রতিনিধি ফজলুল হক শিমুল, সাংবাদিক হেলাল খান, জিয়া উদ্দিন, নিজাম উদ্দিন ও আশরাফ হোসেন সংবাদ কর্মী ফাহিম আহমদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

সাংবাদিকরা ফাহিমার বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন। এ সময় শোকাহত পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন তারা।

এ সময় কান্নাজড়িত কণ্ঠে ফাহিমার মা আসমা বেগম বলেন, তার নিষ্পাপ শিশুর হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত তিনি মানসিক শান্তি পাবেন না।

একই সঙ্গে ফাহিমার মরদেহ গুমে সহযোগিতার অভিযোগে মামলার অপর আসামিদের বিরুদ্ধেও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

জালালাবাদ থানার ওসির সঙ্গে সাক্ষাৎ:

ফাহিমার বাড়ি থেকে আসার পথে সাংবাদিকরা জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন।

এ সময় ফাহিমা হত্যাকাণ্ডের পর দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে মরদেহ উদ্ধারের বিষয়ে কথা বলেন তিনি।

ওসি জানান, ঘটনার সময় তিনি ঢাকায় একটি অনুষ্ঠানে ছিলেন। ৬ আগস্ট সেখান থেকে তার গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের ত্রিশালে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ফাহিমা নিখোঁজ হওয়ার খবর জানতে পেরে তিনি সঙ্গে সঙ্গে পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে সিলেটের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

৭ আগস্ট তিনি সিলেটে পৌঁছান। এরপর ৮ আগস্ট ফাহিমার মরদেহ বাড়ির পাশের ডোবা থেকে উদ্ধারে সরাসরি দায়িত্ব পালন করেন।

ফাহিমার মরদেহ উদ্ধারে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ায় সাংবাদিকরা জালালাবাদ থানার ওসিকে ধন্যবাদ জানান।

উল্লেখ্য, গত ৬ আগস্ট সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল শিশু ফাহিমা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি জাকির হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করেন।

আদালতের রায়ে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় অপর দুই আসামিকে খালাস দেওয়া হয়।

এর আগে গত ৬ মে সিলেট সদর উপজেলার কান্দিরগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রাম থেকে নিখোঁজ হয় শিশু ফাহিমা। দুই দিন পর বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ফাহিমার মর্মান্তিক মৃত্যু এবং দ্রুত বিচার ও রায়ের মধ্য দিয়ে পরিবার ও এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটলেও, এখন তাদের দাবি—আদালতের দেওয়া সর্বোচ্চ শাস্তির রায় দ্রুত কার্যকর করা।

এই সংবাদটি 71 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ