বাড়ছে অপরাধ প্রবণতা

প্রকাশিত: ১২:০৪ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ১, ২০১৮

সাদিক হোসেন এপলু: দেশের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি কি ভেঙে পড়ছে, না হলে প্রতিদিন এত খুন খারাবি রাহাজানির ঘটনা ঘটছে কেন? রাজধানী থেকে শুরু করে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও সন্ত্রাসীরা তৎপর। সামান্য কথা কাটাকাটি নিয়েও ঘটছে খুনের ঘটনা। চুরি ডাকাতি, রাহাজানি, খুন ধর্ষন ও অপহরণ যেন নৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে গিয়ে কোথাও কোথাও ভাড়াটে খুনিদেরও ব্যবহার করা হচ্ছে। গত কয়েক দিনের অপরাধচিত্র পর্যালোচনা করলে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন আসে, সমাজ কি দিন দিন অপরাধ প্রবণ হয়ে উঠেছে? বিয়ানীবাজার উপজেলার অহরহ ব্যক্তি নিখোঁজ হচ্ছে এতে নিখোঁজদের সন্ধান পেতে থানায় পৃথক পৃথক সাধারণ ডায়েরী করা হলেও আইনশৃৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা নিয়ে স্বজনদের অনেক অভিযোগ রয়েছে। মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে এ উপজেলায় সাত ব্যাক্তি নিখোঁজ। অপরাধ প্রবণতা এমন হারে বাড়ছে যে চারখাই ইউনিয়নে কোনা শালেশ্বর থেকে স্থানীয় এক ব্যাবসায়ীর আব্দুল গফুর কুশিয়ারা নদীর তীর থেকে পুলিশ লাশ উদ্ধার করেছে। ইউনিয়নে চুরি ডাকাতি, ছিনতাই হামলায় শেওলা জালালাবাদ দিঘলবাক এলাকার আব্দুল জলিল খুন হয়েছেন নিহত আব্দুল জলিলের পরিবারকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ৪ ভরি স্বর্ণলংকার নগদ টাকা সহ মুল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যায়, এমন কি চারখাইয়ে পৃথক হত্যাকান্ডের শিকার দুই অটো রিকশা চালকের মরদেহ গুম করার চেষ্ঠা করে আসামীরা। নিহতরা হলেন মাসুদ আহমদ (১৮) এবং ফরহাদ আহমদ (২২)। রহস্য ঘেরা লিটুর মৃত্যু বিয়ানীবাজাার পৌর শহরের ৩ নং ওয়ার্ডের কসবা গ্রামের খালেদ আহমদ লিটুর অকাল মৃত্যুর রহস্য এখনও উদঘাটন করতে পারেনি নিরাপত্তা বাহিনী, প্রতিনিয়ত বাড়ছে অপরাধ, তা নিস্পত্তি করতে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে, তা না হলে অপরাধ কেবল প্রশ্রয় পেয়ে বাড়তেই থাকবে। ধর্ষন ও বেড়ে চলছে, বিয়ানীবাজারের চারখাই ইউনিয়নে হাজরাপাড়া গ্রামে পিতা মাতাকে বেঁধে এস.এস.সি উত্তীর্ণ দু’বোনকে ধর্ষন। বিয়ানীবাজার পৌরশহরে সুপাতলা গ্রামের সিরাজ উদ্দিনের পুত্র আনোয়ার হোসেনকে দিন দুপুরে প্রকাশ্যে দুবৃর্ত্তকারিরা হামলা করে নিহত করে। এর কয়েকদিন পূর্বে জলঢুপ ও পাড়িয়াবহর গ্রামে মাদকের যে চালান আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর হাতে ধরা পড়ে তাতে মূল প্রচারকারী আজির উদ্দিন ও সুলেমান জড়িত বলে অনুসন্ধানে জানা যায়। ওরা প্রভাবশালী নেতাদের ছত্রছায়ায় থাকার কারণে প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে কোন পদেক্ষেপ গ্রহণ করেনি। মাদক ও জুয়াড়ি সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জুলাই সাংবাদিক সাদিক গুরুতর আহত হন। কালাইউরা গ্রামের গৃহ পরিচালিকা রেশম বেগমকে হত্যা করার অভিযোগ দিয়েছেন নিহতের চাচা আব্দুল মান্নান। সিলেটে রাজন হত্যা এবং কলেজ ছাত্রী খাদিজাকে নির্মম ভাবে কুপিয়ে আহত করে সন্ত্রসীরা। নগরীর টিলাগড়ে ছাত্রলীগ কর্মী ওমর আহমদ মিয়াদ হত্যাকান্ডের ঘটনা, কোম্পানীগঞ্জের মাদ্রাসার ছাত্র বশিরকে হত্যাকান্ডের ঘটনা, আরো অনেক ঘটনা ঘটেছে বিগত সময়ে। এসব ঘটনাই বলে দেয় অপরাধ প্রবণতা কোন মাত্রায় গেছে, সমাজকে কোন ভাবেই কি এসব অপরাধ থেকে মুক্ত করা সম্ভব নয়? সামাজিক অপরাধের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে পারিবারিক অপরাধও বেড়ে যাবে ধারাবাহিকতায়। কিশোররাও নেমে পড়ছে খুন, রাহাজানির মতো অপরাধ তৎপরাতায়। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে না পারলে সমাজের সুস্থ পরিবেশ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে না, এজন্য আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও তৎপর হতে হবে। দেশের আইনি প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতাও অনেক সময় অপরাধীদের উৎসাহিত করে। আবার আইনি প্রক্রিয়ার ফাঁকফোকর দিয়ে বেরিয়ে গিয়ে অপরাধী চক্র নতুন করে অপরাধ করে। অনেক সময় দূর্বল অভিযোগপত্র অপরাধীকে সুরক্ষা দেয়। আইনের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে অপরাধীরা পার পেয়ে যায়। নতুন করে সক্রিয় হয়। এ অবস্থা থেকে মুক্তির উপায় খুঁজে বের করতে হবে। নাগরিকের জন্য দেশকে নিরাপদ করতে হবে। সবার মধ্যে নিরাপত্তাবোধ নিশ্চিত করতে প্রয়োজন। প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে সামাজিকভাবে। তবে সবার আগে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আইনের সুষ্ঠ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। নিশ্চিত করতে হবে অপরাধীদের যথোপযুক্ত শাস্তি। সচেতন মানুষের পাশে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী থাকলে অপরাধ দমন কঠিন হবে না। দেশের মানুষের মনে নিরাপত্তাবোধ নিশ্চিত করতে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরো সক্রিয় হতে হবে। অপরাধ দমনে তাদের দক্ষতা ও আন্তরিকতার পরিচয় পেতে চায় দেশের মানুষ। আইনের যর্থাথ প্রয়োগের মধ্য দিয়েই সন্ত্রাসমুক্ত দেশ গড়ে  তোলা সম্ভব।

এই সংবাদটি 1439 বার পঠিত হয়েছে