রৌমারী হাটে অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের অভিযোগ, বিএনপি নেতার ছেলের নামে ইজারা

প্রকাশিত: ২:১৮ পূর্বাহ্ণ, মে ২৫, ২০২৬

রৌমারী হাটে অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের অভিযোগ, বিএনপি নেতার ছেলের নামে ইজারা

মোঃ মাইদুল ইসলাম
কুড়িগ্রাম:

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী রৌমারী পশুর হাটে সরকার নির্ধারিত হারের চেয়ে অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও রৌমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে শাকিল আহমেদের নামে ইজারা নেওয়া হাটে কোরবানির পশু বিক্রিতে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, গত এক সপ্তাহে অনুষ্ঠিত দুই হাটবার—সোমবার ও শুক্রবার—উভয় দিনেই অতিরিক্ত হাসিল আদায় করা হয়েছে। সর্বশেষ শুক্রবার (২২ মে) অনুষ্ঠিত হাটে গরুপ্রতি সরকার নির্ধারিত হারের চেয়ে প্রায় ২০০ টাকা বেশি নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন হাটে আসা ক্রেতা ও বিক্রেতারা।

রৌমারী উপজেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিটি গরু, মহিষ ও ঘোড়ার হাসিল ৫০০ টাকা এবং ছাগল ও ভেড়ার হাসিল ২৫০ টাকা নির্ধারিত। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, রৌমারী হাটে গরু-মহিষে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং ছাগল-ভেড়ায় ৪০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের পরও প্রমাণ গোপন করতে অনেক ক্ষেত্রে ক্রেতাদের ফাঁকা রশিদ দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রায় ৬ কোটি টাকায় ইজারা নেওয়া হাটটির কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছেন বিএনপি নেতা আব্দুর রাজ্জাক। তিনি অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের বিষয়টি আংশিক স্বীকার করে বলেন, “ঈদ উপলক্ষে কিছু টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে।”

অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা প্রশাসনের মৌখিক সম্মতিতেই বাড়তি হাসিল আদায় করা হচ্ছে। গত ১২ মে অনুষ্ঠিত উপজেলা মাসিক আইন-শৃঙ্খলা সভায় সাংবাদিকরা বিষয়টি উত্থাপন করলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আলাউদ্দিন নাকি গরু-মহিষে ৭০০ টাকা এবং ছাগল-ভেড়ায় ৩০০ টাকা পর্যন্ত হাসিল আদায়ের মৌখিক অনুমতি দেন। যদিও পরবর্তীতে ইজারাদার পক্ষ আরও বেশি টাকা আদায় করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার কর্তিমারী হাটেও অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।

হাটে গরু বিক্রি করতে আসা কয়েকজন ব্যাপারী অভিযোগ করে বলেন, “প্রশাসন অভিযানে এলে কিছু সময় অতিরিক্ত টাকা নেওয়া বন্ধ থাকে। তারা চলে গেলে আবার আগের মতোই আদায় শুরু হয়। ইজারাদারের লোকজন প্রশাসন ম্যানেজ করেই অতিরিক্ত টাকা নিচ্ছে।”

শুক্রবার হাটে ছাগল কিনতে আসা উপজেলার চাক্তাবাড়ি এলাকার বাসিন্দা রিয়াজুল ইসলাম বলেন, “সরকারি হাসিল ২৫০ টাকা হলেও আমার কাছ থেকে ৪০০ টাকা নেওয়া হয়েছে। কেউ নিয়ম মানছে না।”

আরেক ক্রেতা আবুল কাশেম বলেন, “৫০০ টাকার হাসিল ৮০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। এটা এক ধরনের প্রকাশ্য চাঁদাবাজি। প্রশাসন সব জেনেও কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “গরুর হাসিল ৬০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে, ৮০০ নয়। কেউ বেশি নেওয়ার প্রমাণ দিতে পারবে না। জনভোগান্তি কমানোর চেষ্টাই করছি।”

ফাঁকা রশিদ দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “জেলার অন্য হাটেও খোঁজ নেন। আমরা বেশি টাকা নিচ্ছি না।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আলাউদ্দিন বলেন, “অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে হাটে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জরিমানা করা হয়েছে। আগামীতেও অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

আইন-শৃঙ্খলা সভায় অতিরিক্ত হাসিলের বিষয়ে মৌখিক সম্মতি দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, “বিষয়টি জেলা প্রশাসকের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছিল। অনুমোদন না পাওয়ায় পূর্ব নির্ধারিত হারেই হাসিল আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “হাসিল বেশি আদায়ের অভিযোগ আমিও পেয়েছি। এ বিষয়ে ইউএনওর সঙ্গে কথা হয়েছে। অতিরিক্ত হাসিল আদায় বন্ধ না হলে সমস্যা তৈরি হবে বলেও তাকে জানিয়েছি।”

এই সংবাদটি 44 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ