ঢাকা |
প্রকাশিত: ৮:৫১ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২, ২০২৬
মোঃ রেজাউল করিম
ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সরকার ঘোষিত তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক চলাকালে সারাদেশে আনন্দ-উৎসব ও ইংরেজি নববর্ষ উদযাপন সীমিত রাখার নির্দেশনা থাকলেও কুড়িগ্রামের কচাকাটা থানায় ব্যতিক্রমী ঘটনার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোয়েল রানা খাসি জবাই করে ভূরিভোজের আয়োজন করেন।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) ওই আয়োজনের কিছু খণ্ডচিত্র থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও কনস্টেবলদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে পুলিশসহ সর্বমহলে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
থানার এসআই ফাইসাল তার ফেসবুক প্রোফাইলে খাসি জবাইয়ের একটি ছবি পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখেন, “২০২৬ সালকে বরণ করতে প্রস্তুতি চলছে।” অপর একটি ছবিতে কচাকাটা থানার ওসি সোয়েল রানা ও এসআই ইব্রাহিমকে খাবার গ্রহণ করতে দেখা যায়। ওই ছবির ক্যাপশনে লেখা হয়, “কচাকাটা থানার অফিসার্স ইনচার্জ মহোদয়।” এছাড়া থানার আরও একজন কনস্টেবলকেও একই ধরনের পোস্ট দিতে দেখা গেছে।
এ ঘটনার পর স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। একই রাতে কচাকাটা থানায় স্থানীয় জাতীয় পার্টির ১৫ থেকে ২০ জন নেতাকর্মীর সঙ্গে ওসি সোয়েল রানার ঘণ্টাব্যাপী আলোচনা ও মিষ্টিমুখ করার ঘটনাও আলোচনায় আসে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা প্রায় পাঁচ কেজি মিষ্টি নিয়ে থানায় যান এবং তা উৎসবের মতো করে বিতরণ করা হয়। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে সমালোচনা আরও তীব্র হয়।

এ ঘটনায় প্রতিবাদ জানাতে ১ জানুয়ারি সন্ধ্যায় চারটি ইউনিয়নের ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা কচাকাটা থানায় যান। বল্লভেরখাষ ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি মাইদুল ইসলাম বলেন, “রাষ্ট্রীয় শোক দিবসে কচাকাটা থানায় খাসি জবাই করে ভূরিভোজ ও মিষ্টি বিতরণের ঘটনায় আমরা মর্মাহত। বিষয়টি জানার পর আমরা চার ইউনিয়নের ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা থানায় গিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছি।”
এদিকে জাতীয় পার্টির কচাকাটা ইউনিয়নের নেতা ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শাহাদৎ হোসেন বলেন,
“জাতীয় পার্টির প্রার্থীর গণসংযোগের বিষয়টি অবহিত করতে আমরা থানায় গিয়েছিলাম। এ সময় বলদিয়া ইউনিয়নের জাতীয় পার্টির নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক কয়েক কেজি মিষ্টি নিয়ে এসেছিলেন।”
বিএনপির কেদার ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনিছুর রহমান বলেন, “দেশনেত্রীকে হারিয়ে সারা দেশের মানুষ যখন শোকাহত, তখন কচাকাটা থানায় ওসিসহ থানার কর্মকর্তারা ভূরিভোজ ও মিষ্টি বিতরণ করে আনন্দ উৎসব করেছেন। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, থানার কিছু কর্মকর্তা অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসনে জড়িত। এ বিষয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করে প্রতিকার চাওয়া হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে কচাকাটা থানার ওসি সোয়েল রানা বলেন, “থানায় কোনো পার্টি বা ভূরিভোজের আয়োজন করা হয়নি। আমাদের থানার মেসে প্রতি মাসের শেষ দিনে নিয়মিত খাবারের আয়োজন করা হয়। থার্টি ফার্স্ট নাইট বা রাষ্ট্রীয় শোক দিবস উপলক্ষে কোনো বিশেষ আয়োজন ছিল না।”
এ বিষয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (ভূরুঙ্গামারী–কচাকাটা সার্কেল) মুনতাসির মামুন মুন জানান, “বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
রেজিঃ নং চ-৭৩৫
সম্পাদক ও প্রকাশক: এম.ফয়জুল হক শিমুল
সহ: সম্পাদক : হাবিবুর রহমান সুলতান
সহ: সম্পাদক : নুরুল হক মাসুদ
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক নিউ বর্ণমালা অফসেট প্রিন্টিং প্রেস, রাজা ম্যানশন জিন্দাবাজার, সিলেট থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: * সি-৮/৩০ বনশ্রী ঢাকা।
সিলেট অফিস: কমন মার্কেট (৫ম তলা ) বন্দর বাজার, সিলেট।
বিয়ানীবাজার অফিস: ছফর কমপ্লেক্স, দক্ষিণ বিয়ানীবাজার, সিলেট।
যোগাযোগ মোবাইলঃ +88-01713813124
ই-মেইল ॥ somoychitro@gmail.com
বড়লেখা অফিস: নেহার মার্কেট, ( ২য় তলা), বড়লেখা, মৌলভীবাজার।