মৌলভীবাজারে ৪০ হাজার পরিবার পানিবন্ধি : মৃতের সংখ্যা ৯

প্রকাশিত: ৬:৫৯ অপরাহ্ণ, জুন ১৯, ২০১৮

মৌলভীবাজারে ৪০ হাজার পরিবার পানিবন্ধি : মৃতের সংখ্যা ৯

ওমর ফারুক নাঈম, মৌলভীবাজার:
মৌলভীবাজার জেলার মনু ও ধলাই নদীর ভাঙনে পানিবন্ধি হয়ে পড়েছে ৪০ হাজার পরিবার। ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে প্রায় ২লক্ষ মানুষ। ক্ষতিগ্রক্ষদের মাঝে সেনাবাহিনীর তত্বাবধানে বিতরণ করা হচ্ছে ত্রাণ। উদ্ধার করা হচ্ছে পানিবন্ধিদের। এপর্যন্ত পানিতে ডুবে নিহত হয়েছেন ৯জন। নদীর পানি কমতে থাকলেও পানি বাড়ছে হাওরাঞ্চলে।
সর্বশেষ রবিবার রাতে মৌলভীবাজারের বারইকোনা এলাকায় মনুনদীর ভাঙ্গনে শহরের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়। এখনও বাসাবাড়ীতে পানি রয়েছে। এছাড়া নিম্নাঞ্চলের ৩টি ইউনিয়ন নতুন করে প্লাবিত হচ্ছে। শহরের সাথে সিলেট ও চার উপজেলার সড়ক যোগাযোগ বিছিন্ন রয়েছে। ইতিমধ্যে শহরের পানি কমতে শুরু করেছে। যদিও মনু নদীর পানি কমে চাঁদনীঘাট পয়েন্টে বিপদসীমার ৭৭ সে.মি উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ৩দিন ধরে মূল শহর প্রতিরক্ষা বাঁধের ঝঁকিপূর্ণ স্থানে বালুর বস্থা দিয়ে রক্ষার চেষ্টা করছে সেনাবাহিনী। অনেকে বাড়ী ঘড় ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে উঠেছেন। দূভোর্গে পড়েছেন স্থানীয়রা।
মৌলভীবাজার শহরের কুসুমবাগ এলাকার ৪টি সরকারী খাদ্য গুদাম পানিবন্ধি হয়ে পড়েছে। প্রায় ২ হাজার মেট্রিকটন চাউল পানিতে নষ্ট হওয়ার আশংকা রয়েছে। চাল উদ্ধার করছে সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ টিম। মৌলভীবাজার জেলা খাদ্য গুদামের ইনচার্জ মো: সাখাওয়াত হোসেন জানান, রাতে হঠাৎ বন্যা দেখা দেয়ায় সরকারি খাদ্য গুদামের ভিতর প্রায় ২ হাজার মেট্রিকটন চাইল ছিল তা উদ্ধার করা যায়নি। কিছু সংখ্যা চাউল উদ্ধার করা হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, মনু নদের বাঁধ ভাঙায় মৌলভীবাজার শহরের ইতোমধ্যে পৌরসভার তিনটি ওয়ার্ড ও ৩/৪টি ইউনিয়নের অর্ধলক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ক্রমাগত পানি গড়াচ্ছে আশপাশের এলাকাগুলোতে। শহর ও শহরতলীর বাসাবাড়িতে তিন থেকে চার ফুট পানিতে ডুবে আছে। তবে দোকানপাঠের পানি কমতে শুরু করেছে। তবে অনেকেই বলছেন এই ধরনের পানি এর আগে কখনও দেকেননি।
বড়হাট এলাকার রাণি বেগম, কালাম, রহিমা, রুমান বলেন, হঠাত বাধ ভেঙে বন্যা হয়েছে। মসজিদেও মাইকে না খইলে আমরা মরি গেলাম নে। ঘুম তেকি উঠিয়া চাইর বায় পানি দেখি। এখনও ত্রাণ পাইছি না হুনছি মন্ত্রী আইলে ত্রাণ দেওয়া অইব।
এছাড়া বাংলাদেশ স্কাউট, রেডক্রিসেন্টসহ ব্যক্তি ও সামাজিক উদ্যোগে বন্যার্তদেও সহায়তা করাতে দেখা গেছে। মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক মো: তোফায়েল ইসলাম জানান, চলমান বন্যায় জেলার ৪টি উপজেলার ৩০টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভার মানুষ পানিবন্ধি হয়েছে। মৌলভীবাজারের কুলাউড়া, কমলগঞ্জ, রাজনগর ও সদর উপজেলার ১ লক্ষ ৯৩ হাজার ২৪০জন মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। বন্যায় এপর্যন্ত ৯জনের মৃত্যু হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে ৫০টি। এর মধ্যে মৌলভীবাজার জেলা শহরে ৬টি আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে। ৯,৭০০ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। মজুত আছে ১ লক্ষ ৩৭ হাজার মেট্রিক টন চাল। পাশাপাশি শুকনো খাবারও বিতরণ করা হচ্ছে। এপর্যন্ত মনু ও ধলাই নদীর ২৫টি স্থানে ভাঙন হয়েছে। অনেক জায়গায় আউশ ও ধানের বীজতলা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। উদ্ধার ও ত্রাণ ব্যবস্থাপনার জন্য সেনা বাহিনীর কয়েকটি দল স্পিড বোট, লাইফ জ্যাকেট নিয়ে কাজ করছে। ৭৪টি ম্যাডিকেল টিম কাজ করছে। বর্তমানে শহর বিপদজনক অবস্থানে রয়েছে। আইন শৃংখলা পরিস্থিতির অবনতির জন্য পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
মৌলভীবাজার পাউবো নির্বাহী প্রকৌশলী রণেদ্র শংকর চক্রবর্তী বলেন, ‘চারদিন ধরে বিপদসীমার ওপরে পানি থাকায় বাঁধ ফেটে বেশ বড় জায়গাজুড়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে। সেনাবাহিনীসহ আমরা পানি আটকানোর চেষ্টা করেছি কিন্তু বেগ বেশি হওয়ায় বস্তা ফেলেও তা ঠেকানো যায়নি। নৌকা দিয়ে পানিবন্দিদের উদ্ধার কাজ চলছে। আশাকরছি উজানে বৃষ্টি না হলে আমরা আর প্লাবিত হব না।’

এই সংবাদটি 966 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ