ঢাকা |
প্রকাশিত: ৪:৩৫ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৭, ২০২৬
স্পোর্টস ডেস্ক
২০০৭ সালের ডিসেম্বর। বার্সেলোনার একটি স্টুডিওতে একটি সাধারণ দাতব্য ফটোসেশনের আয়োজন করা হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল একটি চ্যারিটি ক্যালেন্ডার প্রকাশ। ছবিতে ছিলেন বার্সেলোনার ২০ বছর বয়সী এক তরুণ ফুটবলার—লিওনেল মেসি। তাঁর কোলে ছিল মাত্র পাঁচ মাস বয়সী এক শিশু।
সেদিন উপস্থিত কেউই কল্পনা করতে পারেননি, এই সাধারণ ছবিটিই একদিন বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত ও আবেগঘন আলোকচিত্রগুলোর একটি হয়ে উঠবে।
প্রায় দুই দশক পর সেই শিশুই দাঁড়িয়ে আছেন মেসির বিপরীতে। একজন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক ও বিশ্ব ফুটবলের জীবন্ত কিংবদন্তি, অন্যজন স্পেনের নতুন প্রজন্মের সবচেয়ে উজ্জ্বল তারকা—লামিনে ইয়ামাল। ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনাল তাই শুধু স্পেন ও আর্জেন্টিনার লড়াই নয়; এটি সময়ের এক বিস্ময়কর পুনর্মিলন, দুই প্রজন্মের মুখোমুখি হওয়ার এক অনন্য মুহূর্ত।
এই ছবিটি তোলা হয়েছিল বার্সেলোনা ফাউন্ডেশন ও কাতালান ক্রীড়া দৈনিক দিয়ারিও স্পোর্ত-এর যৌথ উদ্যোগে। প্রতিবছর বার্সেলোনার ফুটবলারদের সঙ্গে শিশুদের ছবি তুলে একটি দাতব্য ক্যালেন্ডার প্রকাশ করা হতো। ক্যালেন্ডার বিক্রির অর্থ ইউনিসেফসহ বিভিন্ন দাতব্য প্রতিষ্ঠানের তহবিলে দেওয়া হতো।
সে বছর বার্সেলোনার ১২ জন ফুটবলারকে বছরের ১২ মাসের প্রতীক হিসেবে একজন করে শিশুর সঙ্গে জুটি করা হয়েছিল। মেসির কোলে উঠেছিল কাতালোনিয়ার মাতারো শহরের পাঁচ মাস বয়সী লামিনে ইয়ামাল। অন্য অনেক ছবির মতো এটিও হয়তো সময়ের সঙ্গে হারিয়ে যেতে পারত। কিন্তু ভাগ্য যেন এই ছবির জন্য অন্য গল্প লিখে রেখেছিল।
ছবিটি তুলেছিলেন আলোকচিত্রী হুয়ান মনফোর্ত। পরে তিনি জানান, এটি ছিল তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম কঠিন ফটোসেশন। কারণ মেসি তখন ছিলেন খুবই লাজুক, আর মাত্র পাঁচ মাসের একটি শিশুকে নিয়ে স্বাভাবিক ও প্রাণবন্ত মুহূর্ত তৈরি করাও সহজ ছিল না।
ইয়ামালের মা শেইলা এবানা প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরের মাতারো থেকে ছেলেকে নিয়ে ক্যাম্প ন্যুতে এসেছিলেন। ফটোসেশন শেষে ছবিটির একটি কপি পরিবারের কাছে স্মৃতি হিসেবে সংরক্ষিত থাকে।
এরপর সময় গড়াতে থাকে। মাত্র সাত বছর বয়সে লামিনে ইয়ামাল বার্সেলোনার বিখ্যাত লা মাসিয়া একাডেমিতে যোগ দেন। এরপর যেন স্বপ্নের গতিতে এগিয়ে চলে তাঁর ক্যারিয়ার। ১৫ বছর বয়সে লা লিগায় অভিষেক, ১৬ বছরেই স্পেন জাতীয় দলে ডাক, ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা এবং প্রথম বিশ্বকাপ খেলেই ফাইনালে ওঠা—সব মিলিয়ে অল্প সময়েই তিনি বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম আলোচিত তরুণ তারকায় পরিণত হন।
২০২৪ সালে ইয়ামালের বাবা মনির নাসরাওয়ি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই পুরোনো ছবিটি প্রকাশ করলে মুহূর্তেই তা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। তখনই কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী জানতে পারেন, মেসির কোলে থাকা সেই শিশুটিই আজকের লামিনে ইয়ামাল। এমনকি আলোকচিত্রী হুয়ান মনফোর্তও বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, হাজারো ছবির মধ্যে এটিই তাঁর জীবনের সবচেয়ে বিখ্যাত ছবি হয়ে উঠেছে।
দুই দশক ধরে বিশ্ব ফুটবলের প্রতীক হয়ে আছেন লিওনেল মেসি। অন্যদিকে আগামী দিনের ফুটবলের অন্যতম মুখ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন লামিনে ইয়ামাল। একজনের ক্যারিয়ার শেষ প্রান্তে, আরেকজনের পথচলা মাত্র শুরু। তাই ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনাল শুধু একটি শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ নয়; এটি যেন এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মের কাছে ফুটবলের উত্তরাধিকার হস্তান্তরের প্রতীকী মুহূর্ত।
২০০৭ সালে কেউ কল্পনাও করেনি, মেসির কোলে থাকা পাঁচ মাসের সেই শিশুই একদিন বিশ্বকাপের ফাইনালে তাঁর প্রতিপক্ষ হবে। একটি সাধারণ দাতব্য ফটোসেশন আজ তাই ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে আবেগঘন, বিস্ময়কর ও স্মরণীয় গল্পগুলোর একটি হয়ে উঠেছে।
রেজিঃ নং চ-৭৩৫
সম্পাদক ও প্রকাশক: এম.ফয়জুল হক শিমুল
সহ: সম্পাদক : হাবিবুর রহমান সুলতান
সহ: সম্পাদক : নুরুল হক মাসুদ
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক নিউ বর্ণমালা অফসেট প্রিন্টিং প্রেস, রাজা ম্যানশন জিন্দাবাজার, সিলেট থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: * সি-৮/৩০ বনশ্রী ঢাকা।
সিলেট অফিস: কমন মার্কেট (৫ম তলা ) বন্দর বাজার, সিলেট।
বিয়ানীবাজার অফিস: ছফর কমপ্লেক্স, দক্ষিণ বিয়ানীবাজার, সিলেট।
যোগাযোগ মোবাইলঃ +88-01713813124
ই-মেইল ॥ somoychitro@gmail.com
বড়লেখা অফিস: নেহার মার্কেট, ( ২য় তলা), বড়লেখা, মৌলভীবাজার।