বাহুবলে কোটি টাকার ট্রমা সেন্টার: এক যুগেও চালু হয়নি চিকিৎসাসেবা

প্রকাশিত: ৫:১৭ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১০, ২০২৬

বাহুবলে কোটি টাকার ট্রমা সেন্টার: এক যুগেও চালু হয়নি চিকিৎসাসেবা

স্বপন রবি দাশ, হবিগঞ্জ প্রতিনিধি।।
হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ট্রমা সেন্টার এক যুগ পার হলেও এখনো চালু হয়নি। দুর্ঘটনাপ্রবণ ঢাকা–সিলেট মহাসড়কের পাশে জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে নির্মিত এ কেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরে অচল থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালে গণপূর্ত বিভাগ প্রায় ৩ কোটি ১৮ লাখ টাকা ব্যয়ে বাহুবল অর্থোপেডিক্স হাসপাতাল ট্রমা সেন্টারের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে। কিন্তু নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ না হওয়ায় এখনো কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি কেন্দ্রটি।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, ট্রমা সেন্টারের জন্য নির্মিত ভবনে বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অন্যান্য বিভাগের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তবে দুর্ঘটনায় আহত রোগীদের তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়ার যে উদ্দেশ্যে ট্রমা সেন্টারটি নির্মাণ করা হয়েছিল, তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, ঢাকা–সিলেট মহাসড়ক দেশের অন্যতম ব্যস্ত ও দুর্ঘটনাপ্রবণ সড়ক। বিশেষ করে মাধবপুর থেকে নবীগঞ্জের আউশকান্দি পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন অংশে প্রায়ই সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। এসব দুর্ঘটনায় গুরুতর আহতদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়ার মতো কোনো বিশেষায়িত ট্রমা সেন্টার না থাকায় অনেক ক্ষেত্রেই রোগীদের ঢাকায় পাঠাতে হয়। এতে সময় নষ্ট হওয়ায় মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় ট্রমা সেন্টারের ভেতরে থাকা কিছু যন্ত্রপাতি ও মালামাল চুরি হয়ে গেছে। পাশাপাশি যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ভবনের বিভিন্ন অংশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল্লাহেল মারুফ ফারুকী বলেন, ট্রমা সেন্টারটি স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে হস্তান্তরের পর প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের জন্য সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মাধ্যমে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পত্র পাঠানো হয়েছে। জনবল অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ করা হলে ট্রমা সেন্টারটি চালু করা সম্ভব হবে।
হবিগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. রত্নদীপ বিশ্বাস বলেন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও অন্যান্য জনবল পদায়ন এবং আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি সরবরাহ না হওয়ায় ট্রমা সেন্টারটি এখনো চালু করা যায়নি। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স ও টেকনিশিয়ান নিয়োগ এবং আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহের মাধ্যমে ট্রমা সেন্টারটি চালু করা হোক। এতে ঢাকা–সিলেট মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে এবং অনেক প্রাণ রক্ষা পাবে।

এই সংবাদটি 124 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ