গোলাপগঞ্জে মাদরাসার অধ্যক্ষের অবৈধ নিয়োগ-বাণিজ্য ও তহবিল আত্মসাতের অভিযোগ!

প্রকাশিত: ৩:৩১ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ১০, ২০২৫

গোলাপগঞ্জে মাদরাসার অধ্যক্ষের অবৈধ নিয়োগ-বাণিজ্য ও তহবিল আত্মসাতের অভিযোগ!

সিলেট প্রতিনিধি :
গোলাপগঞ্জের একমাত্র মহিলা আলিম মাদ্রাসা হিসেবে পরিচিত হাজী আব্দুস সহিদ মহিলা আলিম মাদরাসায় নিয়মবহির্ভূত সভাপতি নির্বাচন, তহবিল আত্মসাৎ, নিয়োগ-বাণিজ্য ও অধ্যক্ষের স্বেচ্ছাচারিতার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মাদরাসা–পাড়ায় তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।

অভিযোগ রয়েছে, মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা শফিকুল ইসলাম বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রকাশ্যে সরকারি দলের সমর্থক পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন প্রতিষ্ঠানটিতে প্রভাব বিস্তার করেন। ভয়ভীতি ও রাজনৈতিক ছত্রছায়ার কারণে কেউ তার বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস পেতেন না।

কয়েকজন অভিভাবক ও দাতা সদস্য জানান—বর্তমান সরকার কমিটি বিলুপ্ত করার সুযোগে অধ্যক্ষ কাউকে কিছু জানানো ছাড়া সম্পূর্ণ অবৈধভাবে নতুন সভাপতির নিয়োগ দেন। কোনো বৈঠক, আলোচনা বা অনুমোদন ছাড়াই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন এমন আব্দুস সামাদকে সভাপতি করা হয়। এলাকাবাসীর দাবি—মাদরাসা প্রতিষ্ঠার পর কখনো তাকে প্রতিষ্ঠানের কাজে দেখা যায়নি; অধ্যক্ষের অনিয়ম আড়াল করতেই তাকে ব্যবহার করা হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ—২০২৫ সালে বিভিন্ন সময় বিপুল অর্থের বিনিময়ে অবৈধভাবে শিক্ষক নিয়োগের ঘটনায় অধ্যক্ষ ও অবৈধ সভাপতির সরাসরি যোগসাজশ রয়েছে। এসব নিয়োগে স্বচ্ছতা ও নিয়মনীতি পুরোপুরি উপেক্ষা করা হয়েছে।

এ ছাড়া অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মাদরাসার তহবিলের অনিয়মিত ব্যবহার, হিসাব গোপন, একচ্ছত্র সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া এবং শিক্ষা–পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত করার মতো অভিযোগে একাধিক নোটিশ জমা পড়লেও তিনি তা উপেক্ষা করে আসছেন।

অভিভাবক ও স্থানীয়রা বলেন, “মাদরাসাকে ব্যক্তিস্বার্থের বলি বানানো হচ্ছে।” তারা দ্রুত অবৈধ সভাপতি বাতিল, অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং মাদরাসায় স্বচ্ছ প্রশাসন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেন।

এলাকাবাসী আরও জানান, ১৯৯৯ সালে গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঢাকাদক্ষিণ ইউনিয়নের নিশ্চিন্ত গ্রামে হাজী আব্দুর শহীদ মহিলা আলিম মাদরাসা প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠাতা হাজী আব্দুর শহীদ শ্রম ও অর্থ ব্যয় করে প্রতিষ্ঠানটি এমপিভুক্ত করেন। তার মৃত্যুর পর বড় ছেলে সোহেল আহমেদ দীর্ঘদিন সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন, যার সময়ে মাদরাসাটি সুনামের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে ভালো ফলাফল করতো। কিন্তু বর্তমান কমিটি বাতিলের সুযোগে অধ্যক্ষ স্বার্থসিদ্ধির লক্ষ্যে অবৈধভাবে কথিত সভাপতির নিয়োগ দেন এবং উভয়ে তহবিল আত্মসাৎ ও অবৈধ নিয়োগের মতো অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এই সংবাদটি 232 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ