কমলগঞ্জে বিয়ের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় স্কুলছাত্রী অপহরণ !

প্রকাশিত: ১১:৫০ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৬

কমলগঞ্জে বিয়ের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় স্কুলছাত্রী অপহরণ !

বিশেষ প্রতিনিধি : ঈদের ছুটিতে খালার বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে বাড়ি ফেরার পথে কমলগঞ্জে চিৎলিয়া জনকল্যাণ উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির এক ছাত্রীকে অপহরণ করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে

১৯ সেপ্টেম্বর সোমবার সকালে অপহৃতা ছাত্রীর বাবা উজ্জল মিয়া (২৫) রিয়াছত মিয়া (৬০) ও নেওয়া বেগম (৪০)-কে আসামি করে কমলগঞ্জ থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেছেনশনিবার ইসলামপুর ইউনিয়নের ছয়ঘরি গ্রাম এলাকায় এ অপহরণের ঘটনা ঘটে

কমলগঞ্জ থানার মামলা সূত্রে জানা যায়, তার মেয়ে তানিয়া নাসরিন পলি (১৪) আলীনগর ইউনিয়নের চিৎলিয়া জনকল্যাণ উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেনির ছাত্রীতাদের বাড়ি একই ইউনিয়নের যুগিবিল গ্রামেএ গ্রামের মৃত মুলফত মিয়ার বিবাহিত বখাটে ছেলে উজ্জল মিয়া বিদ্যালয়ে আসা যাওয়ার পথে তানিয়াকে উত্যক্ত করত

এক পর্যায়ে সে তানিয়াকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলতানিয়ার পরিবার এ প্রস্তাবে রাজি হয়নিঈদের ছুটি উপলক্ষে ছাত্রী তানিয়া ১৬ সেপ্টেম্বর শুক্রবার ইসলামপুর ইউনিয়নের ছয়ঘরি গ্রামে খালু রাসেল মিয়ার বাড়িতে বেড়াতে যায়পরদিন শনিবার বিকালে খালুর বাড়ি থেকে ফেরার পথে বখাটে উজ্জল ও তার সাথীরা পথরোধ করে ছাত্রী তানিয়াকে একটি সিএনজি অটোরিক্সায় তুলে অপহরণ করে নেয়এঘটনার পর ছাত্রীকে ফেরৎ দিতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে বখাটে উজ্জল মিয়ার পরিবারের উপর চাপ সৃষ্টি করা হলেও কোন সাড়া পাওয়া যায়নিতাই ছাত্রীর বাবা বাধ্য হয়ে সোমবার সকালে কমলগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন

অপহৃতা ছাত্রীর বাবা অভিযোগকারী হাসমত মিয়া জানান, একই গ্রামের ছেলে হলেও উজ্জল খুবই খারপ প্রকৃতিরসে ইতিপূর্বে আদমপুর ইউনিয়নের আধকানি গ্রামে একটি বিয়েও করেছেতার পর ৮ম শ্রেণির ছাত্রী তানিয়াকে নানাভাবে উত্যক্ত করতএখন অপহরণ করে নিয়ে গেছেএ ঘটনার প্রত্যক্ষ স্বাক্ষীরাও আছেন বলে ছাত্রীর বাবা জানান

চিৎলিয়া জনকল্যাণ উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অপহৃতা এ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী বলেই বিদ্যালয় থেকে একটি প্রত্যয়নপত্র দেওয়া হয়েছেঅপহরণকারীকে অবিলম্বে গ্রেফতারসহ ছাত্রীকে উদ্ধারের জোর দাবি জানান তিনি

অপহরণ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ছয়ঘরি গ্রামের সোহেল মিয়া ও ময়নুল হোসেন উজ্জল মিয়া কর্তৃক ছাত্রী অপহরনের সত্যতা নিশ্চিত করেনঘটনার পর থেকে উজ্জল মিয়া ও এজাহার ভুক্ত আসামিরা পলাতক থাকায় অভিযোগ সম্পর্কে তাদের কারো সাথে কথা বলা যায়নি

কমলগঞ্জ থানার কর্তব্যরত কর্মকর্তা উপ-সহকারী পরিদর্শক শহিদুল ইসলাম ছাত্রী অভিযোগ গ্রহণের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অভিযোগটি তদন্তাধীন আছে।

এই সংবাদটি 601 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ