কমলগঞ্জে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন

প্রকাশিত: ৩:১৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৮, ২০১৬

কমলগঞ্জে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন


স্টাফ রিপোর্টার:কমলগঞ্জের পতনউষারে কেওলার হাওরের লাঘাটা নদীতে শ্যালো মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে একটি প্রভাবশালী মহল বালু উত্তোলন পাশ্ববর্তী খেলার মাঠে স্তুপ করা হচ্ছে। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে এখান থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। প্রতিদিন কমপক্ষে ২৫ থেকে ৩০ ট্রাক পরিমাণ বালু পরিবহন করে বিভিন্ন ঠিকাদারের উন্নয়নমূলক কাজে সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীরা আর্থিকভাবে লাভবান হলেও সরকার হারাচ্ছে প্রচুর পরিমাণে রাজস্ব এবং ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে জলজ জীববৈচিত্র্য।

বালু উত্তোলনে কর্তব্যরত শ্রমিকরা বলেন,স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান তৌফিক আহমদ বাবু, ইউনিয়ন যুবলীগ সম্পাদক আবুল বশর জিল্লুল বালু উত্তোলন করছেন। উচ্চ আদালতে মৌলভীবাজারের নদী ছড়া থেকে বালু উত্তোলনে বিধি-নিষেধ ও সকল প্রকার যান্ত্রিক মেশিন বন্ধ থাকার কথা থাকলেও এগুলো কোথাও মানা হচ্ছে না। ইজারা ছাড়াই নদী থেকে বালু উত্তোলন করে ঠিকাদারদের সড়ক উন্নয় কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। মাটি ও বালি ব্যবস্থপনা আইন অমান্য করে ধ্বংস করা হচ্ছে দেশের সম্ভাবনাময়ী সম্পদ।অন্যদিকে রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।

উল্লেখ্য ২০১৩ সনের ১৮ জুন তারিখে প্রজ্ঞাপন দ্বারা মৌলভীবাজার জেলার অন্তর্গত ৫১টি পাহাড়ি ছড়া সিলিকাবালু সম্পৃক্ত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে ১৯ টি-কে অযান্ত্রিক পদ্ধতিতে বালু উত্তোলনের জন্য ইজারা প্রদান করা হয়। এ বিষয়ে পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) গত ৮ মার্চ জনস্বার্থে রীট পিটিশন (রীট পিটিশননং ২৯৪৮/২০১৬) দায়ের করে। শুনানি শেষে ২১ মার্চ হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ ১৯টি বালুমহালকে পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ (ইআইএ) ও পরিবেশগত ছাড়পত্র (ইসিসি) ছাড়া পরবর্তী ইজারা প্রদানের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করেন। সেই সাথে ইজারাভুক্ত ছড়াসমূহ থেকে সকল প্রকার ড্রিল, ড্রেজার, বোমা মেশিন এবং বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত যান্ত্রিক মেশিনসমূহ অবিলম্বে জব্দ করার জন্য আদালত নির্দেশনা দিয়েছেন। আদালতের এই নির্দেশনার পরও বোমা মেশিনে বালু উত্তোলন বন্ধ হয়নি।

এই সংবাদটি 586 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ