ঢাকা |
প্রকাশিত: ৪:৫০ অপরাহ্ণ, জুন ১৪, ২০১৬
যাকাত শব্দের আভিধানিক অর্থ হচ্ছে `পরিশোধন’ করা। নামাজ যেমন আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে তেমনি যাকাতও সম্পদকে পরিশুদ্ধ করে।
যাকাত দানের ফলে যাকাত দাতার সম্পদের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। সম্পদের ওপর থেকে বালা মুসিবত দূর হয়। কোরআনুল কারিমের ৩২টি জায়গায় জাকাতের কথা উলে্লখ রয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য তোমরা যে যাকাত দাও, প্রকৃতপক্ষে সেই যাকাত তোমাদের সম্পদ বৃদ্ধি করে’। (সূরা রুম, আয়াত-৩৯)।
যাকাত দানের মাধ্যমে সম্পত্তি হ্রাস পায় না। বরং আল্লাহ যাকাত দাতার প্রতি খুশি থাকেন। যাকাত দানের ফলে আল্লাহ খুশি হয়ে যাকাত দাতার সম্পদের পরিমাণ বহুগুণ বৃদ্ধি করে দেন। এছাড়া যাকাতের মাধ্যমে সামাজিক ভ্রাতৃত্ববোধ বৃদ্ধি পায়।
যাকাত দানের মাধ্যমে এক মুসলমানের প্রতি অন্য মুসলমানের হক আদায় হয়ে যায়। জাকাতের মাধ্যমে ধনী-গরিবের বৈষম্য দূর হয়।
গরিব-দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফুটে। সমাজের অর্থনৈতিক বুনিয়াদ বৃদ্ধি পায়, দারিদ্র দূর হয়।
খয়রাত প্রদানের বিষয়টি দাতার ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে। খয়রাতের পরিমাণ দাতা নিজের ইচ্ছানুযায়ী হ্রাস-বৃদ্ধি করতে পারেন। যাকাত প্রদান করার বিষয়টি যাকাত দাতার ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে না।
যাকাত আদায় করার বিষয়টি আল্লাহর হুকুমের ওপর নির্ভরশীল। ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী আদায় করতে হয়।
এছাড়া ভিক্ষা দান করা বাধ্যতামূলক নয়। কিন্তু যাকাত আদায় করা বাধ্যতামূলক। যাকাত আদায় করা আল্লাহ নির্দেশ। কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, Èআর তোমরা নামাজ কায়েম কর এবং যাকাত প্রদান কর’। (সূরা বাকারা, আয়াত-১১০)।
সম্পদ আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে নেয়ামত স্বরূপ। আল্লাহ যাদের সম্পদ দান করেছেন তাদের সম্পদের মধ্যে গরিব দুঃখী মানুষের হক রয়েছে।
কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তাদের ধন-মালে ভিক্ষুক, প্রার্থী ও বঞ্চিতদের সুস্পষ্ট ও সুপরিজ্ঞাত অধিকার রয়েছে’। (সূরা আয জারিয়াত, আয়াত-১৯)।
যাকাত কোনো করুণার বিষয় বস্তু নয়। যাকাত প্রদান করার বিষয়টি কারও খেয়াল-খুশির ওপর নির্ভর করে না। যাকাত আদায় না করলে কঠিন শাস্তি ভোগ করতে হবে। কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘সেসব মুশরিকদের জন্য ধ্বংস অনিবার্য, যারা যাকাত দেয় না’। (সূরা হা-মীম আস সাজাদা, আয়াত-৭, ৮)।
বুখারী শরিফে বর্ণিত হয়েছে, রাসূল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যারা আল্লাহর দেয়া ধন-মালে কার্পণ্য করে, তারা যেন মনে না করে যে, তাদের জন্য তা মঙ্গলময়। বরং তা তাদের জন্য খুবই খারাপ। তারা যে মাল নিয়ে কার্পণ্য করেছে, তাই কিয়ামতের দিন তাদের গলার বেড়ি দেয়া হবে’।
অপর এক বর্ণনায় হজরত রাসূল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে তার সম্পদের ওপর যাকাত দিল, সে যেন তার সব পাপ ধুয়ে ফেলল’।
সুতরাং যাকাত আদায়ের বিষয়ে সবাইকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। নামাজ ও যাকাত একটি অপরটির পরিপূরক।
হজরত আবু বকরের খেলাফতের সময়কালে ঘোষণা করেছিলেন, ‘আমি অবশ্যই সেসব লোকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব, যারা নামাজ ও জাকাতের মধ্যে পার্থক্য করবে। আল্লাহর কসম, তারা যদি একটি উটের রশিও দিতে অস্বীকার করে, যা হজরত রাসূল (সা.)-এর জমানায় তারা দিত।
লেখক : গবেষক ও প্রাবন্ধিক
রেজিঃ নং চ-৭৩৫
সম্পাদক ও প্রকাশক: এম.ফয়জুল হক শিমুল
সহ: সম্পাদক : হাবিবুর রহমান সুলতান
সহ: সম্পাদক : নুরুল হক মাসুদ
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক নিউ বর্ণমালা অফসেট প্রিন্টিং প্রেস, রাজা ম্যানশন জিন্দাবাজার, সিলেট থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: * সি-৮/৩০ বনশ্রী ঢাকা।
সিলেট অফিস: কমন মার্কেট (৫ম তলা ) বন্দর বাজার, সিলেট।
বিয়ানীবাজার অফিস: ছফর কমপ্লেক্স, দক্ষিণ বিয়ানীবাজার, সিলেট।
যোগাযোগ মোবাইলঃ +88-01713813124
ই-মেইল ॥ somoychitro@gmail.com
বড়লেখা অফিস: নেহার মার্কেট, ( ২য় তলা), বড়লেখা, মৌলভীবাজার।