অন্যের হাতেই এসএসসি পাশ করতে চায় রাজনগরের প্রতিবন্ধী দরবেশ আলী

প্রকাশিত: ৪:৪১ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০১৬

অন্যের হাতেই এসএসসি পাশ করতে চায় প্রতিবন্ধী দরবেশ আলী। নিজে লিখতে না পারলেও সে লিখে অন্যের হাতে। অদম্য ইচ্ছাই তাকে নিয়ে এসেছে এসএসসি পরীক্ষার টেবিলে। সেই ইচ্ছা আর মনোবল নিয়েই এগিয়ে যেতে চায় সে। আর একই কেন্দ্র থেকে পরীক্ষা দিচ্ছে শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী পাপড়ি পাল। অদম্য এই দুই শিক্ষার্থীর প্রত্যাশা অন্যদের মত তারাও নেবে উচ্চ শিক্ষা। দরবেশ আলী তারাপাশা স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। পরীক্ষা দিচ্ছে টেংরাবাজার শহীদ সুদর্শন উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে। এছাড়াও শহীদ সুদর্শন উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী পাপড়ী পাল শারীরিক প্রতিবন্ধী হয়ে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। প্রতিবন্ধী হলেও এসএসসিতে অন্যদের সাথে পাল্লা দিয়ে তারাও ভাল ফলাফল করবে এ ব্যাপারে আশাবাদী তাদের প্রতিষ্ঠান প্রধানরা। দরবেশ আলী পরীক্ষা শ্র“তি লেখক একই বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির ছাত্র মহসিন মিয়ার সহায়তা নিয়ে পরীক্ষা দিচ্ছে। সে আশাবাদী ভালো ফল করবে। অন্যজন শহীদ সুদর্শন উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী পাপড়ী পাল। তিনি শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী। কোনমতে বামহাত দিয়ে নিজে নিজে আস্তে আস্তে লিখেন পাপড়ি। শারীরিক প্রতিবন্ধী দরবেশ আলী জানায়, তার উভয় হাতই স্বাভাবিক নয়। বাম হাত দিয়ে কোন রকম স্বাক্ষর দিতে পারে। বিদ্যালয়ে লেখার ক্ষেত্রে শিক্ষকরা সহযোগিতা করেন। শিক্ষকদের সহযোগীতা ও উদ্দীপনায় আজ সে এসএসসি পর্যন্ত এসেছে। আশাবাদী এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে আরো সামনে এগিয়ে যাওয়ার। তারাপাশা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ আব্দুর রহিম খান এবং শহীদ সুদর্শন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কেন্দ্র সচিব মোঃ ওয়াহিদুর রহমান জানান, প্রতিবন্ধী ২ শিক্ষার্থীর ভাল ফলাফলের ব্যাপারে আশাবাদী। শিক্ষাবোর্ডের নিয়ম অনুয়ায়ী পাপড়ী পাল অতিরিক্ত ৩০ মিনিট এবং দরবেশ আলীর জন্য অতিরিক্ত ২০ মিনিট সময় বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আবুল হোসেন জানান, টেংরা কেন্দ্রে ২ জন প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী তারা অতিরিক্ত সময় পাচ্ছে।

এই সংবাদটি 844 বার পঠিত হয়েছে