ঢাকা ১৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৪:১৩ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৯, ২০১৭

দিনটি ছিল মঙ্গলবার । আনন্দ ভ্রমণ ছিল অনেকটা ভিন্ন স্বাদের। চিত্ত- বিত্ত সাধ এবং সাধ্যের ও অপূর্ব মিল ছিল। ২০১৭ সালের শেষ দিকে এক প্রেস কনফারেন্স শেষে আলোচনা হয়েছিল বিয়ানীবাজারে কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ চায়ের দেশে আনন্দ ভ্রমণ করবে। কিন্তু এটা যে বাস্তববতার মুখ দেখবে তা কল্পনার মধ্যেও ছিল না। কারন বিয়ানীবাজারের ইতিহাসে এ রকম আনন্দ ভ্রমণ করা তো দুরের কথা একে অন্যকে নিয়ে বিগত ১০/১৫ বছরের মধ্যে কোথাও সংবাদ সংগ্রহে যেতে আমি দেখিনি। গেলেও নিজ নিজ দায়িত্বে গেছেন-এসেছেন । পথিমধ্যে হাই হ্যালো বলেছেন এ পর্যন্ত শেষ।
সম্প্রীতি, সহানুভূতি, সখ্যতা এটা যেন কালের আবর্তে ভাঙ্গনে কুশিয়ারা ও সোনাই নদীতে বিলীন হয়ে গিয়েছিল। সেই বিলীন হওয়া যোগসূত্রটি সিনিয়রদের উদ্যোগে ও জুনিয়রদের অক্লান্ত পরিশ্রমে আবার প্রাণ ফিরে পেল ২৬ ডিসেম্বর ২০১৭।
ভোরবেলা ফজরের নামাজ পড়ে ওয়াটস্আপে মেসেজ দেখি “সবাই উঠে যান প্রস্তুত হন, ৮টার সময় গাড়ী রেডি” আগের রাত পর্যন্ত আমার যাওয়াটা ছিল অনিশ্চিত । মেসেজ পেয়ে একটু নড়েচড়ে বসলাম । কিছুক্ষণ পর রিপোটার্স ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক সাপ্তাহিক নবদ্বীপ পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক শাহীন আলম হৃদয়ের ফোন, ভাই আসতেছেন কিনা ? তারপর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও সাপ্তাহিক আগামী প্রজন্ম পত্রিকার সম্পাদক মিলাদ মোহাম্মদ জয়নুলের ফোন-রেডি হয়েছি কিনা ?
তখন সাথে সাথে রেডি হয়ে রওয়ানা দিলাম বিয়ানীবাজারের উদ্দেশ্যে। বিয়ানীবাজারে পৌছঁতে ঘড়ির কাটা ৭.৫১ মিনিট। কলেজ রোড বিয়ানীবাজার জার্নালিষ্ট এসোসিয়েশন’র সভাপতি বিয়ানীবাজার নিউজ ২৪ এর সম্পাদক আহমদ ফয়সালের অফিসের সম্মুখে। প্রথমেই দেখা পুরো যাত্রার আয়োজক যুগান্তর প্রতিনিধি শুয়াইবুর রহমান স্বপনের সাথে, যার অক্লান্ত পরিশ্রম এ আনন্দ ভ্রমণ আলোর মুখ দেখছিল।
ফোন দিলাম মুকিত মোহম্মদসহ আরো অনেককে। সবাই একে একে চলে আসলেন। মিলাদ জয়নুলের প্রস্তাব আমি মোনাজাত করব এবং মোনাজাতের মাধ্যমেই আমাদের যাত্রা শুরু হলো। পথিমধ্যে বারইগ্রাম থেকে নবদম্পতি তোফায়েল-বুশরাকে তুলে নিতে কেউ ভুললেন না। চান্দগ্রাম ব্রীজের উপর পোজের মাধ্যমে ২য় পর্যায় যাত্রা শুরু হলো ।
গাড়ীতে যাত্রাপথে যার যার অনুভূতি তুলে ধরলেন। সাদেক আজাদ তার অনুভূতিতে সেদিনকার সফরসঙ্গী যারা স্বপরিবারে এসেছেন সেই সহধর্মীনীদের “ফাস্ট লেডি” ও শিশু সন্তানদের“ আগামী প্রজন্মের কর্ণধার অভিহিত করে রসালো অনুভূতি ব্যক্ত করলেন।
অদুদ ভাই হাছন রাজার “আগুন লাগাইয়া দিলে ক্ষণে হাছন রাজার মনে…আধ্যাতিক গান দিয়ে মনমুগ্ধকর পরিবেশের সৃস্টি করলেন। লাইভ করলাম আমি নিজে ও সাদেক আজাদ ।
আহমদ ফয়সাল ও মিলাদ জয়নুলের ধারাভাষ্য.. আমাকে নিয়ে গিয়েছিল পিএইচজি স্কুলের ফুটবল মাঠে। দু’জনের ধারাভষ্য, সঞ্চালনা সত্যিই চমৎকার । অবশেষে জসিমের কণ্ঠে “ও পিয়া তুমি কোথায় গান” শুনতে শুনতে আমাদের গন্তব্যে চায়ের দেশের মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার মাথিউরা চা বাগানে চলে গেলাম।
ঘড়ির কাটা তখন ১২.৪৬ মিনিট চায়ের দেশের সতেজ চা সেই সাথে জুলাপী, নিমকী, মুড়িখই, আমার ছেলেবেলায় আত্নীয় বাড়ীর অতিথিয়েতা স্মরণ করিয়ে দিল। চা- পর্ব শেষে শুরু হল সেলফী, গ্রুপ ছবি তোলার পালা । জুনিয়ররা সবসময় আগে থাকতে চাইলেও সেদিন ছবি তুলতে আগে পরে ছিলনা। সবাই স্বাধীনভাবে একাধিক পোজ নেয়ার সুযোগ ছিল। আনন্দ ভ্রমণের প্রতিপাদ্য ছিল-সিনিয়র জুনিয়র সমান (ভাই ভাই)
পোজ শেষে ক্রিকেট খেলা, হাত মুখ ধোয়া, জোহরের নামাজ শেষে প্রধান বাংলোতে চা বাগান মালিক কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে অত্যন্ত রুচিশীল ও সুস্বাদু আপ্যাায়ন করিয়েছেন বাগার মালিকের তত্বাবধায়ক মুসলেহ উদ্দিন ভাই। যার অতিথি আপ্যায়নের কথা ভূলার মত নয়।
এরপর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে রিপা পুরো ভ্রমণকে মাতিয়ে তুলে । সাথে ছিলেন অদুদ ভাই ও সজীব দা।
প্রাণবন্ত করে তাদের অসাধারণ প্রতিভার আধ্যাতিক গানগুলো । রিপার গানে প্রথম কলি “দেয় দেয় পাল তুলে দেয় মাঝি হেলা করিস না, ছেড়ে দেয় নৌকা আমি যাব মদিনা…” গানটি আমাকে মুগ্ধ করে। শাহীন আলম হৃদয়ের একমাত্র ছেলে ‘প্রিয়’র কন্ঠে -“যদি রাত পোহালে শোনা যেত বঙ্গবন্ধু মরে নাই..”গানটি অসাধারণ গেয়েছে। প্রিয়’র অসাধারণ প্রতিভা তাকে অনেক বড় করবে বলে আমি আশাবাদী।
পুরো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকে লাইভ করে আনন্দ ভ্রমণকে আরো মর্যাদার আসনে বসিয়ে দেন আহমদ ফয়সাল।
এরপর ফাস্ট লেডিদের (মহিলাদের) মিউজিক্যাল চেয়ার খেলা ও র্যাফেল ড্র আনন্দ ভ্রমণকে প্রাণবন্ত করেছিল।
বারংবার ব্যাতিত হচ্ছিলাম -হাসানুল হক উজ্জল হাসান শাহরিয়ার, শাবুল আহমদ, ও আতাউর ভাই সহ আরো যারা এসেছেন কিন্তু সস্ত্রীক বা স্বপরিবারে আসতে পারেননি তাদের জন্য ।
ভ্রমণ পিপাসু আরো যারা সাথে ছিলেন, সজীব ভট্রাচার্য, মুকিত মোহাম্মদ, সুফিয়ান আহমদ, শিপার আহমদ পলাশ, সামিয়ান হাসান, আবু তাহের রাজু, আহমদ রেজা চৌধুরী, তাজবীর আহমদ ছাইম, সাহেদ আহমদ। পুরো আনন্দ ভ্রমণটি ক্যামেরা বন্ধি করেন সাইদুর রহমান। রাত ৯টায় সাংবাদিকদের বহনকারি বাসটি বিয়ানীবাজার কলেজ রোডে এসে নিরাপদে পৌঁছায়।
পরিশেষে – ২৬ ডিসেম্বর চিরস্মরণীয় ও প্রতিবছর আনন্দ ভ্রমণের প্রত্যয় নিয়ে বাড়ী ফেরার পথে সবার উদ্দেশ্যে আমার অভিব্যক্তি ছিল – “আজ মনে হচ্ছিল বিয়ানীবাজারের সকল সাংবাদিক একই পরিবার এরকম আমরা সারাজীবন যেন থাকতে পারি এই প্রত্যাশা রইল সবার কাছে।”
লেখক:
ফয়জুল হক শিমুল
সম্পাদক
সাপ্তাহিক আমাদের সময়চিত্র
২৬ ডিসেম্বর ২০১৭
রেজিঃ নং চ-৭৩৫
সম্পাদক ও প্রকাশক: এম.ফয়জুল হক শিমুল
সহ: সম্পাদক : হাবিবুর রহমান সুলতান
সহ: সম্পাদক : নুরুল হক মাসুদ
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক নিউ বর্ণমালা অফসেট প্রিন্টিং প্রেস, রাজা ম্যানশন জিন্দাবাজার, সিলেট থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: * সি-৮/৩০ বনশ্রী ঢাকা।
সিলেট অফিস: কমন মার্কেট (৫ম তলা ) বন্দর বাজার, সিলেট।
বিয়ানীবাজার অফিস: ছফর কমপ্লেক্স, দক্ষিণ বিয়ানীবাজার, সিলেট।
যোগাযোগ মোবাইলঃ +88-01713813124
ই-মেইল ॥ somoychitro@gmail.com
বড়লেখা অফিস: নেহার মার্কেট, ( ২য় তলা), বড়লেখা, মৌলভীবাজার।