ছাতকে ত্রাসের রাজত্ব কায়েমকারী সেই দুলু মিয়ার বিরুদ্ধে এবার কোটি টাকার সরকারি বালু লুটের মামলা

প্রকাশিত: ৩:৪৯ অপরাহ্ণ, জুলাই ২১, ২০২৬

ছাতকে ত্রাসের রাজত্ব কায়েমকারী সেই দুলু মিয়ার বিরুদ্ধে এবার কোটি টাকার সরকারি বালু লুটের মামলা
  • মোঃমহিউদ্দিন জুয়েল দোয়ারা বাজার সুনামগঞ্জ।

সুনামগঞ্জের ছাতকে চাঁদাবাজি সরকারি কর্মকর্তা লাঞ্ছিত হত্যা ও জায়গা দখলসহ একের পর এক অপরাধের সাথে জড়িত আলোচিত-সমালোচিত দুলু মিয়ার বিরুদ্ধে এবার সরকারি বালু লুটের মামলা দায়ের করা হয়েছে। গতকাল ১৭ জুলাই ছাতক ফরেস্ট (বন বিভাগ) বিভাগের পক্ষ থেকে ১ কোটি ৩৮ লক্ষ টাকার বালু লুটের অভিযোগে তাকে প্রধান আসামি করে এই মামলাটি দায়ের করা হয়।
​অভিযুক্ত দুলু মিয়া ছাতকের ইসলামপুর ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামের মৃত আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে। এলাকায় সে মূলত একজন চিহ্নিত চাঁদাবাজ এবং ‘বালু খেকো’ হিসেবে পরিচিত। অতীতে বিভিন্ন ধরনের শুল্ক (ট্যাক্স) আদায়ের নামে অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ অর্থের মালিক বনে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

​স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে দুলু মিয়ার অপরাধের জাল শুধু সরকারি সম্পত্তিতেই সীমাবদ্ধ নয়। এলাকায় সাধারণ ও নিরীহ মানুষদের জিম্মি করে রেখেছেন তিনি। অতীতে ছাতকের এক ব্যবসায়ীকে নৃশংসভাবে হত্যার অভিযোগ রয়েছে দুলু মিয়ার বিরুদ্ধে। ওই মার্ডার কেসে দীর্ঘদিন জেলও খেটেছেন তিনি। এছাড়া আইন অমান্য করে ছাতক নৌ পুলিশের ওপর বর্বরোচিত হামলা ও মারধরের ঘটনা ঘটিয়েছিলেন দুলু, যার মামলা এখনো আদালতে বিচারাধীন। কয়েক বছর আগে পার্শ্ববর্তী কোম্পানীগঞ্জ থানার এক শিক্ষককে রাস্তা থেকে জোরপূর্বক তুলে এনে নিজের বাড়িতে আটকে রাখেন দুলু। সারারাত ধরে ওই শিক্ষকের ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়। পরবর্তীতে দুই থানার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও মুরব্বিদের সমন্বয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়া হয়।কিছুদিন আগেও এলাকার এক নিরীহ মানুষের জায়গা অবৈধভাবে দখল করে নেন দুলু মিয়া। এরপর রাতের আধারে তার নিজস্ব বাহিনী দিয়ে ওই জায়গা থেকে প্রায় ১ কোটি টাকার বালু লুট করে নিয়ে যান। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে পরবর্তীতে তিনি আপোসের মাধ্যমে রক্ষা পান।

শুধু দুলু মিয়াই নন তার ভাইও এলাকার সাধারণ মানুষের বিপুল পরিমাণ টাকা নিয়ে উধাও হয়ে গেছেন বলে স্থানীয়রা জানান। আজ পর্যন্ত ভুক্তভোগী মানুষগুলো তাদের পাওনা টাকা ফেরত পাননি।​পঞ্চায়েত বদল ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিতে রয়েছে তার নানা রকমের অভিযোগ। ​এলাকাবাসী জানান নিজের অপরাধ আড়াল করতে এবং প্রভাব বিস্তার করতে দুলু মিয়া ঘন ঘন তার পঞ্চায়েত পরিবর্তন করেন। কয়েকদিন এক পঞ্চায়েতে থাকলে কিছুদিন পর আবার অন্য পঞ্চায়েতে গিয়ে যোগ দেন। তবে যেখানেই যান না কেন, সেখানেই নতুন করে বিশৃঙ্খলা ও ঝামেলার সৃষ্টি করাই তার প্রধান কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

​সর্বশেষ বন বিভাগের ১ কোটি ৩৮ লক্ষ টাকার বালু লুটের মামলায় তার আসামি হওয়ার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের মনে স্বস্তি ফিরলেও তার বাহিনীর ভয়ে অনেকেই মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। স্থানীয় সচেতন মহল এই চিহ্নিত অপরাধীকে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

এই সংবাদটি 30 বার পঠিত হয়েছে