বাহুবল হাসপাতাল এলাকায় ড্রেনেজ দুর্ভোগে জনতা বিপর্যস্ত

প্রকাশিত: ৬:৪৮ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২২, ২০২৫

বাহুবল হাসপাতাল এলাকায় ড্রেনেজ দুর্ভোগে জনতা বিপর্যস্ত


অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি নাকি দায়িত্বহীনতা—কোথায় সমস্যা?

নাজমুল ইসলাম হৃদয়, হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স—উপজেলার একমাত্র সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র। প্রতিদিন হাজারো মানুষ চিকিৎসা নিতে এখানে ছুটে আসেন। কিন্তু হাসপাতালের সামনে ও প্রধান গেইট সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা ময়লা ড্রেনেজ পানি এখন রোগীদের জন্য নতুন রোগ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুর্গন্ধে পরিবেশ অস্বাস্থ্যকর, নামাজের কাপড় নষ্ট, পথচারীদের চলাচলে চরম দুর্ভোগ—জনস্বাস্থ্যের জন্য এক ভয়াবহ হুমকি।
কিন্তু প্রশ্ন হলো—এত গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কেন দীর্ঘদিন ধরে ড্রেনেজ সমস্যা রয়ে গেছে? তদন্তে উঠে এসেছে একাধিক উদ্বেগজনক তথ্য।

অবহেলা নাকি পরিকল্পনার ঘাটতি?
হাসপাতাল এলাকার ড্রেনেজ লাইনটি বহুদিন ধরেই কার্যক্ষম নেই বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা। নিয়মিত পরিষ্কার না হওয়ায় পানি ও বর্জ্য জমে থাকে। সেসব পানি পরে রাস্তায় উঠে আসে।
স্থানীয় একজন ব্যবসায়ী জানান—

“ড্রেন পরিষ্কার করার মতো কোনো নিয়মিত তদারকি নেই। মাসের পর মাস ড্রেন পড়ে থাকে। দুষ্ট গন্ধে দোকানপাটে থাকা কঠিন।”

উপজেলার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন—

“ড্রেনেজ লাইনটি পুরনো ও সরু। এখানে নতুন সংযোগ হওয়ায় চাপ বেড়েছে। কিন্তু সংস্কারের জন্য কোনো বরাদ্দ এখনো পাওয়া যায়নি।”

প্রশ্ন উঠছে—বরাদ্দ না থাকলে কেন দীর্ঘদিন ধরে প্রস্তাব পাঠানো হয়নি? দায়িত্বহীনতার এই চক্র ভোগান্তিকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।

হাসপাতাল গেট দিয়ে ময়লা পানি ঢুকে পরিবেশ বিপর্যয়
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বৃষ্টির দিনে তো বটেই, শুকনো মৌসুমেও মেইন গেইট দিয়ে ময়লা পানি হাসপাতালের ভিতরে ঢুকে পড়ে। এতে রোগী ও স্বজনরা আতঙ্কিত।
একাধিক রোগীর অভিযোগ—

“চিকিৎসা নিতে গিয়ে নোংরা পানি পেরিয়ে ঢুকতে হয়। হাসপাতালের ভেতরেও গন্ধে থাকা যায় না। এভাবে চিকিৎসা সম্ভব?”

এ ধরনের পরিবেশ সংক্রমণ ও ডায়রিয়ার মতো রোগ ছড়াতে পারে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা।

কারা দায়ী?
অনুসন্ধানে জানা যায় তিন স্তরের জটিলতা—

ড্রেনেজ সংস্কারে দীর্ঘদিন ধরে অগ্রগতি নেই
নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার তদারকি নেই
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়হীনতা
একজন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বলেন—

“হাসপাতাল এলাকার কাজগুলো গুরুত্বের সাথে দেখা উচিত। কিন্তু বারবার বলার পরও স্থায়ী সমাধান হয়নি।”

জনতার দাবির পরও নীরব প্রশাসন
এলাকাবাসী বারবার অভিযোগ করেও কার্যকর কোনো সমাধান পাচ্ছেন না। তারা মনে করছেন—

এলাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জায়গা হওয়া সত্ত্বেও ড্রেনেজ সমস্যা নিয়ে প্রশাসনের আগ্রহ কম
পরিকল্পনা না থাকায় কাজ শুরু হলেও শেষ হয় না
বিভিন্ন অজুহাতে বছর পার হয়ে যাচ্ছে, সমস্যার সমাধান হচ্ছে না
একজন প্রবীণ নাগরিক বলেন—

“মানুষ চিকিৎসা নিতে আসে, এখানে নতুন দুর্ভোগ সৃষ্টি করার জন্য না। এই ড্রেনেজ সমস্যা প্রশাসনের অযোগ্যতারই প্রমাণ।”

দ্রুত সমাধান না হলে ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি
সংশ্লিষ্টরা বলছেন—

দীর্ঘদিনের জমে থাকা বর্জ্য পানি
রোগীদের চলাচলের মধ্যে নোংরা পরিবেশ
মশা-বাহিত রোগ ছড়ানোর সম্ভাবনা
পানি দূষণে শিশু ও বৃদ্ধদের উচ্চ ঝুঁকি
এসব মিলে পুরো এলাকায় বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

শেষ কথা
বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ঘিরে ড্রেনেজ সংকট কোনো সাধারণ সমস্যা নয়—এটি একটি প্রশাসনিক ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি।
রোগী ও জনতার কষ্ট এখন চরম পর্যায়ে।

স্থানীয়দের দাবি—
“ড্রেনেজ ব্যবস্থা সংস্কার, নিয়মিত পরিষ্কার এবং স্থায়ী সমাধানের জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নিক উপজেলা প্রশাসন।”

প্রশাসন চাইলে এক সপ্তাহেই এই সমস্যা সমাধান সম্ভব—প্রয়োজন শুধু ইচ্ছাশক্তি ও সঠিক তদারকি।

এই সংবাদটি 165 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ