ঢাকা |
প্রকাশিত: ৪:৫৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২২, ২০২৫
বিয়ানীবাজারে দিন দিন ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠছে ক্লিনিক ও ডায়গনেষ্টিক সেন্টার। সরকারি অনুমোদন ছাড়াও এগুলোর মান ও সেবা নিয়ে জনমনে ছিলো নানা প্রশ্ন।হাসপাতাল ঘিরে অলিগলিতে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে অসংখ্য ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এগুলোর বেশিরভাগের নেই বৈধ লাইসেন্স।
নবায়নের আবেদন কপি দেখিয়ে বছরের পর বছর চলছে এসব অবৈধ ক্লিনিক। এতে প্রসূতি মায়ের মৃত্যুসহ প্রায়ই ঘটছে নানা অঘটন। তবে সিভিল সার্জন অফিস বলছে, অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধের যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।বিয়ানীবাজার পৌরশহরের হাসপাতাল ও আশপাশের এলাকায় নামে বে-নামে অসং্খ্য গড়ে উঠেছে ডায়গনস্টিক, ডেন্টাল ও হাসপাতাল বিভিন্ন এলাকায় এসব বৈধ্য ও অবৈধ ক্লিনিক গড়ে উঠেছে। দিনদিন বাড়ছে এর সংখ্যা।উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, ৬টি হাসপাতাল ও ১২ টি ডায়গনস্টিক আছে।
এগুলোর মধ্যে কয়েকটির লাইসেন্স নবায়ন করা হলে বেশিভাগের লাইসেন্স নবায়ন করা হয়নি। বছরের পর বছর নবায়ন ছাড়াই চলছে এসব ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। জানা গেছে,এসব প্রতিষ্ঠানে ভুয়া হাতুড়ে ডাক্তার, অদক্ষ নার্স ও স্টাফ নিয়োগ দিয়ে মধ্যবিত্ত, দরিদ্র ও অসহায় রোগীদের কাছ থেকে টাকা আদায় করা হচ্ছে। এতে মারাত্মক হুমকির মুখে আছে জনস্বাস্থ্য। বিয়ানীবাজারে দক্ষিন বাজারে মাওশিশু প্রাইভেট হাসপাতালে গোলাপগঞ্জ উপজেলার বাদেপাশা ইউনিয়নের আমকোনা গ্রামের সৌদি প্রবাসী আব্দুল হামিদের তৃতীয় সন্তান নার্সের হাতে সন্তান প্রসবের চেষ্টাকালে নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে,এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে জানাযায় দুপুরে ওই নারীর প্রসব ব্যথা বেড়ে গেলে একজন অদক্ষ নার্স সন্তান প্রসবের চেষ্টা করেন। দীর্ঘ সময় চেষ্টার পর একটি মৃত সন্তান প্রসব করেন ওই নারী। এরপর স্বজনরা হাসপাতালে চিকিৎসক না থাকা ও নার্সের অদক্ষতার জন্য নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ তুলেন। স্বজনরা বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরে প্রসুতি নারীর চাচাতো ভাই ছামির বলেন , অভিজ্ঞ চিকিৎসক ছাড়াই হাসপাতালের অদক্ষ নার্স দিয়ে জোর করে ডেলিভারির চেষ্টা করা হয়েছে। এই অভিযোগের ব্যাপারে হাসপাতালটির মেডিকেল অফিসার ডা. সিরাজুল ইসলাম সালেকিন বলেন, চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগের ব্যাপারে তিনি কিছুই জানেন না। এবং প্রসূতি মায়ের অবস্থা এখনো সংকাটপন্ন তিনি এখনো চিকিৎসাদিন রয়েছেন সিলেটের একটি হাসপাতালে এই নিয়ে বিয়ানীবাজার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ ও দায়ের করা হয়েছে। যা নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয় ভার্চুয়াল ও সামাজিক ভাবে। বিয়ানীবাজারে দিনদিন লাইসেন্সবিহীন হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দৌরাত্ম্য ক্রমশ বেড়েই চলছে। এখানে ভুয়া ডাক্তার, অদক্ষ নার্স ও অপর্যাপ্ত সরঞ্জাম দিয়ে অসহায় রোগীদের সঙ্গে ভয়াবহ প্রতারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে বিয়ানীবাজারে গড়ে হাসপাতালের আশপাশে ক্লিনিকের নামে অবৈধ ব্যবসার ফাঁদ পাতা হয়েছে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকটি ক্লিনিক ও ডায়াগনোস্টিক সেন্টারের মালিক বলেন, প্রশাসনের নানা শর্তে তারা বছরের পর বছর লাইসেন্স নবায়ন করতে পারছেন না। কোনো উপায় না দেখে লাইসেন্স নবায়ন ছাড়াই এগুলো পরিচালনায় তারা বাধ্য হয়েছেন। ক্লিনিকের অব্যবস্থাপনার বিষয়ে তারা বলেন, তারা স্বাস্থ্য বিভাগের সব নিয়ম মেনেই এগুলো পরিচালনা করছেন।
সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. নাসির উদ্দীন বলেন, অনুমোদন না নিয়ে কোনো ক্লিনিক কিংবা ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিচালনার সুযোগ নেই। যদি কেউ এটা করে থাকেন তাহলে সেটা সম্পুর্ণ অবৈধ। আমরা খোঁজ নিয়ে এসব ক্লিনিক এবং হাসপাতালে অভিযান পরিচালনা করবো। তিনি আরও বলেন, যারা বৈধ তদেরকেও সময়মতো লাইসেন্স নবায়ন করতে হবে। কেউ যদি লাইসেন্স নবায়ন না করে ব্যবসা পরিচালনা করেন তাহলে তারা বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানান এই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। বিয়ানীবাজার চিকিৎসক পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক ডা:শাহিদ আহমেদ তুহিন বলেন আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া। এ জন্য সরকারি ও বেসরকারি—উভয় খাতের সমন্বিত উদ্যোগ অপরিহার্য।
বর্তমান সময়ে বেসরকারি খাত স্বাস্থ্যসেবায় বড় ভূমিকা রাখছে। কিন্তু লাইসেন্স প্রদান ও মান যাচাই প্রক্রিয়ায় অনেক সময় দীর্ঘসূত্রতা দেখা যায়। তাই আমি মনে করি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে যথাযথ যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে দ্রুত লাইসেন্স প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে। এতে সেবার গুণগত মান যেমন নিশ্চিত হবে, তেমনি জনগণও দ্রুত চিকিৎসা সুবিধা পাবে। তবে এখানে একটি বিষয় অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে—কোনোভাবেই মানহীন ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিচালনার সুযোগ দেওয়া যাবে না। নিয়মিত মনিটরিং ও মূল্যায়নের মাধ্যমে আমরা যদি এগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে পারি, তবে স্বাস্থ্য খাতে স্বচ্ছতা ও আস্থা দুটোই তৈরি হবে।
রেজিঃ নং চ-৭৩৫
সম্পাদক ও প্রকাশক: এম.ফয়জুল হক শিমুল
সহ: সম্পাদক : হাবিবুর রহমান সুলতান
সহ: সম্পাদক : নুরুল হক মাসুদ
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক নিউ বর্ণমালা অফসেট প্রিন্টিং প্রেস, রাজা ম্যানশন জিন্দাবাজার, সিলেট থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: * সি-৮/৩০ বনশ্রী ঢাকা।
সিলেট অফিস: কমন মার্কেট (৫ম তলা ) বন্দর বাজার, সিলেট।
বিয়ানীবাজার অফিস: ছফর কমপ্লেক্স, দক্ষিণ বিয়ানীবাজার, সিলেট।
যোগাযোগ মোবাইলঃ +88-01713813124
ই-মেইল ॥ somoychitro@gmail.com
বড়লেখা অফিস: নেহার মার্কেট, ( ২য় তলা), বড়লেখা, মৌলভীবাজার।