ঢাকা |
প্রকাশিত: ১:১৪ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৭, ২০১৭
এম এ সাইদ (তন্ময়) :
আমাদের সমাজে যৌতুক গ্রহণের কারণটি হচ্ছে,আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের প্রতি ভয়হীনতা এবং শরীয়তের বিধানের প্রতি অবজ্ঞা ও উদাসীনতা।নারীর মর্যাদা দান ও নারীর আর্থিক অধিকার সুরক্ষায় ইসলাম যে বিধিবিধান দিয়েছে তার প্রতি সাধারণ পর্যায়ের সম্মানবোধ থাকলে কোনো বরের পরিবারের পক্ষেই যৌতুক গ্রহণের কোনো উদ্যোগ থাকার কথা ছিল না। বিয়ের ক্ষেত্রে দেখা যায় বর-কনের উভয় পক্ষ আলোচনায় বসে দেনা-পাওনার কিছু অংশ নগদ আর কিছু অংশ বকেয়া রাখা হয়। সেটা পরে মেয়েপক্ষের কাছ থেকে উসূল করে নেওয়া হয়। কিংবা উসূল করতে গিয়ে নব পরিণীতা মেয়েটির জীবন দুর্বিষহ করে তোলা হয়। এরই নাম-যৌতুক।
আদর্শ পরিবার গঠন ও মানসিক প্রশান্তি লাভের প্রধান মাধ্যম হচ্ছে বিয়ে।বিয়ে প্রিয়নবী মুহাম্মদ ﷺ এর গুরুত্বপূর্ণ একটি সুন্নত। প্রাপ্তবয়স্ক ও সামর্থ্যবান হলে বিয়ে করে নেয়া উচিত।বিয়ের মাধ্যমে দ্বীন ও দুনিয়ার কল্যাণ লাভ করা যায়।
➲ আল্লাহ তা’আলা বলেন – ﻓَﺎﻧْﻜِﺤُﻮﺍ ﻣَﺎ ﻃَﺎﺏَ ﻟَﻜُﻢْ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻨِّﺴَﺎﺀِ ﻣَﺜْﻨَﻰ ﻭَﺛُﻠَﺎﺙَ ﻭَﺭُﺑَﺎﻉَ ﻓَﺈِﻥْ ﺧِﻔْﺘُﻢْ ﺃَﻟَّﺎ ﺗَﻌْﺪِﻟُﻮﺍ ﻓَﻮَﺍﺣِﺪَﺓً
অর্থাৎ সে সব মেয়েদের থেকে যাদের তোমাদের ভাল লাগে তাদের বিয়ে করে নাও দুই দুই, তিন তিন, কিংবা চার চারটি পর্যন্ত। আর যদি আশঙ্কা কর যে, তাদের মাঝে ন্যায়-সঙ্গত আচরণ বজায় রাখতে পারবে না তবে একটি। (সূরা নিসা:৩)
➲ প্রিয় রসূল ﷺ বলেন – ﺇِﺫَﺍ ﺗَﺰَﻭَّﺝَ ﺍﻟْﻌَﺒْﺪُ ﻓَﻘَﺪِ ﺍﺳْﺘَﻜْﻤَﻞَ ﻧِﺼْﻒَ ﺍﻟﺪِّﻳﻦِ ﻓَﻠْﻴَﺘَّﻖِ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻓِﻲ ﺍﻟﻨِّﺼْﻒِ ﺍﻟْﺒَﺎﻗِﻲ
অর্থাৎ যে ব্যক্তি বিয়ে করল তার অর্ধেক ঈমান পূর্ণ হয়ে গেল। সে যেন বাকি অর্ধেক (ঈমান) এর ক্ষেত্রে আল্লাহকে ভয় করে। (মিশকাত ২ পৃ:২৬৪)
বৈবাহিক সম্পর্ক ভালবাসা ও সম্প্রীতির এক পবিত্রতম বন্ধন হওয়া সত্ত্বেও অনেক সময় এর মাঝে দেয়াল হয়ে দাঁড়ায় যৌতুক নামের এই অভিশাপ।
পৃথিবীর বুকে আমরা জন্ম নিয়েছি,যে মাতৃগর্ভের প্রাণ সঞ্চার নিয়ে যে পৃথিবীর প্রকৃতির উপাদানে ও মাতৃস্নেহের কোলে লালিত-পালিত হয়েছি তাদের ঋণকে আজন্ম শোধ করা যায়? নারীদের দায়িত্ববোধ,নৈতিক জ্ঞান ও মানসিক শক্তি দিয়েই সমস্ত পরিবার ও সমাজ চালিত হয়।কিন্তু আজ কুসংস্কার আর অজ্ঞতার ফলে নারীরা বিশ্বায়নের যুগেও উপেক্ষিতা,লাঞ্ছিতা।তারমধ্যে যৌতুক প্রথাই আজ নারী সমাজ এবং অভিভাবকদের পঙ্গু করে দিচ্ছেন।সভ্য নামের অসভ্য সমাজের কিন্তু লজ্জাবোধ হওয়া উচিত। এ প্রথা আজ সভ্য সমাজের কলঙ্ক যা এক ভয়ানক সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে।সমাজের আমূল পরিবর্তনে মানসিক ও নৈতিক চিন্তাধারার পরিবর্তনই এই ব্যাধি নির্মূল করতে পারে। যারা যৌতুকের জন্যে লালায়িত এরা সমাজে অন্ধ এবং কুসংস্কারের বেড়াজালে আবদ্ধ একপ্রকার ভয়ানক ব্যাক্টেরিয়া।আজকাল প্রায় দেখা যায় দাড়িদ্রতার কারনে যৌতুকের অর্থ ও সামগ্রী যোগাড় করতে না পারায় মেয়েদের বিয়ে হচ্ছেনা। আবার দেখা যায় বিয়ের পর যৌতুকের জন্য একটি নারীর সুন্দর জীবন দুর্বিসহ হয়ে উঠে।এ ভয়াবহ চিত্র বর্তমানে মেয়েদের মৃত্যুর ফাঁদ হিসাবে প্রকাশ পাচ্ছে। ১৯৮০ সালে আইনগতভাবে যৌতুক নিষিদ্ধ করা হয়। তারপরও কমছে না যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের ঘটনা।যৌতুকের অভিশাপ থেকে মুক্তির জন্য কোন আন্দোলন কিংবা আইনের প্রয়োজন নেই,প্রয়োজন আমাদের মানসিক পরিবর্তন।আমাদের সদিচ্ছাই যথেষ্ট এ মহামারী থেকে মুক্তির জন্য।আমরা যদি আমাদের নারী সমাজের পরিবর্তন চাই সর্বপ্রথম আমাদের পরিবারের নারীদের অর্থাত্ আমাদের মা বোনদের মানসিক পরিবর্তন করা অপরিহার্য্য।আমি মনেকরি সামাজিক পরিবর্তনের পূর্বে পারিবারিক পরিবর্তন সর্বাগ্রে।যে মেয়ের বিয়েতে যৌতুক নেয়া হচ্ছে সে পরিবারে পক্ষে বর পক্ষের মা বোনদের কি এ প্রথার বিপরীতে কোন ভুমিকা নেই? অবশ্যই আছে।একজন মেয়ে হয়ে যদি অন্য মেয়ের পক্ষে ঐক্যতার বন্দনে আবদ্ধ হয়ে পারিবারিক প্রতিরোধ গড়ে তুলে তবেই এই সমাজ যৌতুক মুক্ত সমাজ উপহার পাবে।যৌতুক লোভী নরাধম পুরুষদের পাশাপাশি নিরব ভূমিকা পালন করে ছেলে পরিবারের মেয়েরাও একি অপরাধের অপরাধী হয়ে যাচ্ছে।যৌতুক গ্রহণকারী পরিবারের সবাই এ অভিশাপ থেকে মুক্ত নয়। এই যৌতুক ব্যাধি নির্মুলে আন্তরিকতার সাথে সমাজের স্নেহময়ী মা,বাবা,ভাই,বোন সহ সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।অন্যথায় তীলে তীলে নিঃশেষ হয়ে যাবে একটি পরিবার,সমাজ ,রাষ্ট্র এবং ধ্বংস হয়ে যাবে একটি সভ্যতা।এই অমানবিক প্রথাটি আজ সমাজের জন্য একটি অভিশাপ।এটি সমাজের সবচেয়ে জটিল ব্যাধিও বটে। সেই প্রাচীনকাল থেকেই নারী সমাজ নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছে। কখনো কন্যা সন্তানকে জীবন্ত মাটিতে পুঁতে ফেলা হতো, কখনো স্বামীর সঙ্গে সহমরণ। আধুনিক যুগেও নারী নির্যাতনের আধুনিক রূপ হলো যৌতুক প্রথা বা উপহার প্রথা।মনে রাখতে হবে যৌতুকের আধুনিক নাম কিন্তু উপহার/উপঢৌকন। যৌতুকের প্রভাবে ধর্মীয় ও সামাজিক স্বীকৃতি সুরক্ষার রীতি ‘বিয়ে’ শব্দটিও একদিন হয়ত হারিয়ে যাবে। যৌতুক নয় ছেলে-মেয়েকে সাধ্যমত উপহার বা ঘর সাজানোর নামে কি আগের থেকে বেশি চাপ সহ্য করতে হচ্ছে না কনে পক্ষকে !?।
আসলে সমাজের সঠিক রীতি পালন ও নৈতিক মানসিকতা গঠনে ধর্মীয় শিক্ষার বিকল্প নেই।
শরীয়তের দৃষ্টিতে যৌতুক একটি অবৈধ ও ঘৃণিত প্রথা,যা কনে পক্ষের উপর অর্থনৈতিক জুলুম এবং অন্যায়ভাবে অর্থ উপার্জনের একটি হীন মাধ্যম।
➲ এ বিষয়ে আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন- ﻭَﻟَﺎ ﺗَﺄْﻛُﻠُﻮﺍ ﺃَﻣْﻮَﺍﻟَﻜُﻢْ ﺑَﻴْﻨَﻜُﻢْ ﺑِﺎﻟْﺒَﺎﻃِﻞِ
অর্থাৎ তোমরা নিজেদের মধ্যে একে অন্যের অর্থ-সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না। (সূরা বাকারা:১৮৮)
আসুন শুধু কথায় নয়,নতুন প্রজন্মকে কলহমুক্ত সুন্দর পরিবার উপহার দিতে যৌতুক মুক্ত সুন্দর মানসিকতাই আমাদের বেশি প্রয়োজন।এ ব্যাধির মূলোত্পাটনে সমাজের আগে পারিবারিকভাবে সবাই প্রতিরোধ গড়েতুলি।
রেজিঃ নং চ-৭৩৫
সম্পাদক ও প্রকাশক: এম.ফয়জুল হক শিমুল
সহ: সম্পাদক : হাবিবুর রহমান সুলতান
সহ: সম্পাদক : নুরুল হক মাসুদ
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক নিউ বর্ণমালা অফসেট প্রিন্টিং প্রেস, রাজা ম্যানশন জিন্দাবাজার, সিলেট থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: * সি-৮/৩০ বনশ্রী ঢাকা।
সিলেট অফিস: কমন মার্কেট (৫ম তলা ) বন্দর বাজার, সিলেট।
বিয়ানীবাজার অফিস: ছফর কমপ্লেক্স, দক্ষিণ বিয়ানীবাজার, সিলেট।
যোগাযোগ মোবাইলঃ +88-01713813124
ই-মেইল ॥ somoychitro@gmail.com
বড়লেখা অফিস: নেহার মার্কেট, ( ২য় তলা), বড়লেখা, মৌলভীবাজার।