বিশ্বনাথে স্বর্ণের দোকানে ভাইরাল চুরির ঘটনা আপোষনামায় সমাধান!

প্রকাশিত: ২:১১ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২৮, ২০২৫

বিশ্বনাথে স্বর্ণের দোকানে ভাইরাল চুরির ঘটনা আপোষনামায় সমাধান!

ভুল বুঝাবুঝি থেকে তৈরি ঘটনাটি থানা পুলিশ ও স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে নিষ্পত্তি

বিশ্বনাথ (সিলেট) প্রতিনিধি :

সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলা সদরে স্বর্ণের দোকানে চুরির অভিযোগ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ঘটনাটি ভুল বুঝাবুঝি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে লিখিত আপোষনামা স্বাক্ষরের মাধ্যমে সমাধান করা হয়েছে।

থানা পুলিশ ও স্থানীয়দের মধ্যস্থতায় সোমবার বিকেলে ফারজানা জুয়েলার্সের মালিক সেলিম উদ্দিন ও ক্রেতা পারভিন বেগম লিখিতভাবে আপোষে স্বাক্ষর করেন। এতে স্থানীয় চারজন ব্যবসায়ী সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছিল

জানা যায়, রোববার দুপুরে পৌর শহরের পুরাতন বাজারে অবস্থিত ফারজানা জুয়েলার্সে স্বর্ণের আংটি কিনতে যান দশদল কাদিপুর গ্রামের গৃহবধূ পারভিন বেগম (৩২)। দোকানদার সেলিম উদ্দিন পছন্দের জন্য দুটি আংটি দেখান। এসময় একটি আংটি নিচে পড়ে গেলে খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে অন্য আংটিটি দোকানের ডেস্কের নিচে ফ্লোরে পাওয়া যায়।

এ নিয়ে ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে ভুল বুঝাবুঝি ও কথা কাটাকাটি হয়। মুহূর্তেই পথচারিরা দোকানে ভিড় করলে বিষয়টি ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়, যা পরে ভাইরাল হয়।

থানায় সমাধান

পরবর্তীতে বিশ্বনাথ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষকে থানায় নিয়ে আসে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে ভুল বুঝাবুঝির বিষয়টি আপোষে নিষ্পত্তি করা হয়।

থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী বলেন,

“এটি সম্পূর্ণ ভুল বুঝাবুঝির ঘটনা। উভয় পক্ষের সম্মতিতে স্থানীয়ভাবে সমাধান করা হয়েছে। ভবিষ্যতে কেউ অন্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ বা মামলা করবে না—সে মর্মে লিখিত আপোষনামা হয়েছে।”

ওসি আরও জানান,

“ঘটনার সময় ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় পারভিন বেগম মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। যেহেতু তিনি কোনো অপরাধে জড়িত নন, তাই আমরা অনুরোধ করছি—যারা ভিডিওটি ফেসবুক বা অন্যান্য মাধ্যমে শেয়ার করেছেন, তারা অনুগ্রহ করে নিজ উদ্যোগে সেটি সরিয়ে ফেলুন।”

উভয় পক্ষের অনুরোধ

ব্যবসায়ী সেলিম উদ্দিন ও গৃহবধূ পারভিন বেগম বলেন, তারা বিষয়টির অবসান চান এবং সকলকে অনুরোধ করেছেন যেন ভিডিওটি সরিয়ে ফেলা হয় ও বিষয়টি নিয়ে আর বিভ্রান্তি না ছড়ানো হয়।

একটি ছোট্ট ভুল বুঝাবুঝি সামাজিক মাধ্যমে বড় আলোচনায় পরিণত হয়েছিল। কিন্তু তাৎক্ষণিক উদ্যোগে ঘটনাটি সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে সমাধান হয়।

এই সংবাদটি 392 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ