সম্পাদকীয়: বড়লেখায় এক মাসে ৪ খুন

প্রকাশিত: ২:৪৬ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৪, ২০১৬

সম্পাদকীয়: বড়লেখায় এক মাসে ৪ খুন

ssss

১৬ অক্টোবর ২০১৬

ফয়জুল হক শিমুল : বড়লেখা প্রবাসী অধ্যুষিত সীমান্তবর্তী এক জনপদের নাম । যেখানে ইতিহাস ঐতিহ্য রয়েছে। অতীত থেকে নিয়ে সাম্প্রতিক সময়েও বড়লেখার সুনাম সুখ্যাতি অনেক । অনেক জ্ঞানী,গুনী দার্শনিক,বুদ্ধিজীবির জন্ম এখানে । কিন্তু ১ মাসে ৪ খুন এটা মেনে নেয়া যায়না। আইন কি এখন হাতে তুলে নিয়েছে। বিচারের একমাত্র মাধ্যম কি এখন খুন । তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে খুন করা এখন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। সচেতন বিবেককে ভাবিয়ে তুলে। বড়লেখার জনগন এখন আর খুন করতে ভয় পায়না। বাড়ীর পিছনে তো আদালত। ২/৪ দিন পর জামিন নিয়ে বের হয়ে যাব।

এ কেমন মানবতা ? জাহেলিয়াতের পাশবিকতাকেও হার মানায়। আগেরগুলি নাই বা বললাম গত ১ মাসে যে ৪ টি খুন হলো প্রত্যেকটি খুনের রহস্য উদঘাটনে কোন বড় ধরনের মারামারি,ডাকাতি, বা সংঘর্ষ হওয়ার প্রাক্কালে খুনের ঘটনা ঘটেনি। প্রত্যেকটি খুনের ঘটনার পেছনে দেখা যায় তুচ্ছ ঘটনা । চান্দগ্রামের মায়ারুন্নেছা খুন হন ঈদের দিন রাতে ঠিক তার পরের সপ্তাহে এ খুনের রেশ কাটতে না কাটতে ২৯ সেপ্টেম্বর খুন হন ইউপি সদস্য আলম এর পরের সপ্তাহে ৬ অক্টোবর খুন হন দাসেরবাজারের মায়ারাণী । এ খুনের রেশ কাটতে না কাটতে ১৪ অক্টোবর শুক্রবার খুন হন ভাতিজার হাতে চাচা।

এ নিয়ে ১ মাসে দেখা যায় ৪টি খুন অর্থাৎ গড়ে প্রতি সপ্তাহে ১টি করে বড়লেখায় খুনের ঘটনা ঘটছে। সাধারণ মানুষ আতংকে দিনাতিপাত করছে । উকিল মোক্তারদের একটু খোরাক ও বেড়ে গেছে। কর্তাবাবুদের দৌড়ঝাপ ও ব্যস্ততা এখন তুঙ্গে। ফোন রিসিভ করার ও সময় নাই তাদের । আইন শৃংখলা বাহিনী যদি একদিকে শৃংখলা নিয়ে ব্যস্ত থাকেন আবার অন্যদিকে যদি বিশৃংখল পরিবেশ সৃষ্টি হতে থাকে তাহলে বানরের গাছে উঠার কাহিনী হয়ে গেল না । তাহলে কি করা যায় সচেতন বিবেককে ভাবিয়ে তুলে । উত্তোরণের পথ খুজে পাওয়া মুসকিল হয়ে দাড়িঁয়েছে। যেখানে মানবতা চাপাতি, দা, ছুরির নিচে চাঁপা পড়ে গেছে , বিচার ব্যবস্থা যেখানে কাগজ আর কলমে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে,সমাজ ব্যবস্থার উন্নতি আর অগ্রগতি চিন্তা বাতুলতা ছাড়া আর কিছু নয়। খুন তো খুনই এখানে ছোট বড় খুন বলে কিছু নয়।

তাহলে এতসব খুনের বিচার কিভাবে হয় । এগুলো আবার ছাড়া পায় কিভাবে। রাজন হত্যার খুনী আর আলম হত্যা বা মায়ারাণী হত্যার খুণী তো সমানই তাহলে কারো বিচার হয় ফাঁসি আর কারো হয় ১৪ বছরের জেল আবার কারো ৬ মাস পরে জামিন এইসব আইনের ফাঁকফোকর থাকায়ইতো খুনীরা পার পেয়ে যায় । ফলে অন্যান্য খুনীরা সাহস পায়। আমরা খুনী ছোট হোক আর বড় হোক ধনী হোক আর গরীব হোক সকল খুনীর ফাঁসি চাই। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া বড়লেখার সকল খুনের দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তি হোক খুনীরা যেন আর খুন করতে সাহস না পায় এ প্রত্যাশা করি।

এই সংবাদটি 353 বার পঠিত হয়েছে