শাহজালালের (রহ.) মাজারের দানবাক্সে ১৯ দিনে ৪৭ লাখ টাকা মিলল ১২ দেশের বৈদেশিক মুদ্রা, সোনা-রূপা ও রহস্যময় চিরকুট; ছোট নোটেই ভরে উঠল ডেগ

প্রকাশিত: ৪:১২ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ১২, ২০২৬

শাহজালালের (রহ.) মাজারের দানবাক্সে ১৯ দিনে ৪৭ লাখ টাকা মিলল ১২ দেশের বৈদেশিক মুদ্রা, সোনা-রূপা ও রহস্যময় চিরকুট; ছোট নোটেই ভরে উঠল ডেগ

স্টাফ রিপোর্ট

সিলেটের ঐতিহাসিক হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের দানবাক্সে মাত্র ১৯ দিনে জমা পড়েছে ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা। নগদ অর্থের পাশাপাশি উদ্ধার হয়েছে বিশ্বের ১২টি দেশের বৈদেশিক মুদ্রা, সোনা-রূপা, গবাদিপশু এবং ভক্তদের রেখে যাওয়া নানা আর্তি, অভিযোগ ও মানতের রহস্যময় চিরকুট। দানবাক্সে এত বিপুল পরিমাণ বৈচিত্র্যময় দান পাওয়া নিয়ে দর্শনার্থীদের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে।

শনিবার (১১ জুলাই) সকাল ১১টা থেকে বিকাল পর্যন্ত জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে মাজারের তিনটি ঐতিহাসিক দানডেক ও পাঁচটি ছোট-বড় দানপাত্র খুলে গণনা করা হয়। দরগাহ মসজিদের বারান্দায় অনুষ্ঠিত এ কার্যক্রমে মাজার মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

গণনা শেষে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী আনুষ্ঠানিকভাবে জানান, এবার মোট ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা পাওয়া গেছে।

নগদ অর্থের পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া বৈদেশিক মুদ্রার মধ্যে রয়েছে ২০ মার্কিন ডলার, ১৩৫ সৌদি রিয়াল, ২ হাজার ৫৩২ ভারতীয় রুপি, ২২ কাতারি রিয়াল, ৬ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত, ২০ হংকং ডলার, ২০ ইউরো, ১ দশমিক ৪৫ ওমানি দিনার, ৫৪ দশমিক ২০ সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) দিরহাম, ৪ হাজার ইন্দোনেশিয়ান রুপিয়া, ৬০ পাকিস্তানি রুপি এবং ১০ সিঙ্গাপুর ডলার।

এছাড়া দানবাক্স থেকে ৯ গ্রাম সোনা, ১০ গ্রাম স্বর্ণসদৃশ ধাতু এবং ৩৯ দশমিক ৪ গ্রাম রূপা উদ্ধার করা হয়েছে।

নগদ অর্থ ও অলংকারের বাইরে এবার কর্মকর্তাদের নজর কাড়ে ভক্তদের রেখে যাওয়া অসংখ্য চিঠি ও রহস্যময় চিরকুট। এসব চিরকুটে ব্যক্তিগত দুঃখ-কষ্ট, রোগমুক্তি, পারিবারিক সমস্যা, মানত, চাকরি, সন্তান লাভ এবং বিভিন্ন অভিযোগ-আবেদনের কথাও লেখা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। চিরকুটগুলো পর্যালোচনা করা হবে বলে জানিয়েছে মাজার কর্তৃপক্ষ।

মাজার কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, সর্বশেষ গণনার পর থেকে ভক্তদের দেওয়া একটি গরু লঙ্গরখানায় জবাই করে রান্না করে বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া ৬৫টি ছাগলের মধ্যে ৪০টি লঙ্গরখানায় ব্যবহার করা হয়েছে এবং অবশিষ্ট ২৫টি বিক্রি করে ১ লাখ ২৫ হাজার ৪০০ টাকা আয় হয়েছে।

টাকা গণনার সময় সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা তদারকির জন্য গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত ২২ জুন জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রথমবারের মতো মাজারের দানডেক খোলা হলে মাত্র চার দিনে ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা পাওয়া যায়। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রথম দফায় বড় নোটের আধিক্য থাকলেও এবার ১৯ দিনের সংগ্রহে ১০ ও ৫০ টাকার ছোট নোটের সংখ্যাই ছিল বেশি।

মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে গত ২৬ জুন বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরকে প্রধান করে ১১ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দানবাক্সে পাওয়া অর্থ সোনালী ব্যাংকে মাজারের নির্ধারিত হিসাবে জমা রাখা হবে এবং সুশাসন নিশ্চিত করে তা পরিচালনা করা হবে।

এই সংবাদটি 87 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ