ঢাকা |
প্রকাশিত: ২:৪০ পূর্বাহ্ণ, জুন ৩, ২০১৭
এম এ সাইদ (তন্ময়) :
মুসলিম উম্মার জন্য এক অনন্য উপহার। পাপের আঁধার ভেদ করে পুণ্যের মহিমা নিয়ে ফিরে এসেছে নূরে নূরানি মাস রমজান। আঁধারকে ছুড়ে ফেলে আসুন সবাই নূর-আলোর সন্ধান করি।
রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেছেন, ‘রোজা রোজাদারের জন্য ঢালস্বরূপ, যে পর্যন্ত একে মিথ্যা ও গীবতের (পরনিন্দা) মাধ্যমে নষ্ট করে না ফেলে।’
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সময়কালে দুজন মহিলা রোজা রেখেছিলেন। তারা তীব্র ক্ষুধায় কাতর হয়ে পড়েন। সাহাবায়ে কেরাম (রা.) হুজুর (সা.)-এর কাছে ঘটনাটি পেশ করলেন। তিনি ওই দুই মহিলাকে একটি পেয়ালায় বমি করতে নির্দেশ দিলেন। তাদের বমির মধ্যে গোশতের টুকরা ও তাজা রক্ত বের হল। সাহাবারা এতে খুব আশ্চর্য হলেন। এর কারণ জানার জন্য উৎসুক নয়নে তাকিয়ে রইলেন। নবী (সা.) বললেন, তারা হালাল রুজি দিয়ে রোজা রাখলেও হারাম জিনিস খাচ্ছিল। অর্থাৎ গীবত করছিল। মহান আল্লাহ কোরআনে ইরশাদ করেন, ‘তোমাদের মধ্যে কেউ কি পছন্দ করবে যে, আপন মৃত ভাইয়ের গোশত খাবে? অবশ্যই তোমরা তা অপছন্দ করবে।’ এই আয়াতে গীবত করাকে মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়ার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। অর্থাৎ মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়া যেমন মারাত্মক ও অপছন্দনীয়, অপরের গীবত করা তার চেয়েও মারাত্মক ও ঘৃণিত কাজ। এই বরকতের মাসে রহমতের সময়গুলোতে আল্লাহতায়ালা আমাদের সবাইকে গীবতের মতো মারাত্মক কবিরা গুনাহ থেকে হেফাজত করুন, পবিত্র মন ও দেহ নিয়ে যেন সবাই রোজা পালন করতে পারি। আমিন।
রোজা রেখে মিথ্যা, গীবত, কটুবাক্য, ঝগড়া-কলহ, গালাগালি এবং অন্যান্য পাপ কাজ থেকে বিরত না থাকলে কার্যত রোজা হবে বটে, কিন্তু মস্ত বড় গোনাহ হবে। রোজার বরকত থেকে বঞ্চিত থাকবে রোজাদার (দোজখ থেকে বাঁচার যোগ্য রোজা হবে না)। তাবরানি। যেহেতু ‘রোজা মুমিন বান্দার ঢালস্বরূপ’ তাই যে রোজা রাখবে সে জাহেলদের মতো অশ্লীল কোনো কথা বলবে না, অশ্লীল কোনো কাজ করবে না। যদি কোনো জাহেল কোনো রোজাদারের সঙ্গে অসভ্য ব্যবহার করে, তবে রোজাদার তার সঙ্গে একই রকম ব্যবহার করবে না, বরং সে বলবে, ‘আমি আল্লাহর উদ্দেশে রোজা রেখেছি।’
রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেছেন, আল্লাহর কাছে রোজাদারের মুখের বদবু মেশকের খুশবু অপেক্ষা অধিক প্রিয়। কিয়ামতের দিন রোজাদারকে মেশক অপেক্ষা অধিক মূল্যবান খুশবু দান করা হবে। (নাসায়ী)
একবার রাসুলুল্লাহ (সা.) দুই ব্যক্তিকে বললেন, ‘তোমরা রোজা রাখ। জানো না, রোজা দোজখ থেকে মুক্তি লাভ করার এবং বালা-মুসিবত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য ঢালস্বরূপ?’ অর্থাৎ রোজার বরকতে দোজখের আজাব থেকে এবং দুনিয়ার বালা-মুসিবত থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।
রমজানের প্রথম রাত্রি যখন আসে তখনই আসমানের সব দরজা খুলে দেয়া হয়। মুমিন বান্দাদের নেক আমল ওঠানোর জন্য এবং তাদের ওপর রহমত নাজিল করার জন্য রমজান শরিফের শেষ রাত পর্যন্ত ওইসব দরজা খোলা রাখা হয়। রমজান শরিফের রাতে কোনো মুমিন বান্দা খাঁটিভাবে কিছু নামাজ পড়লে প্রত্যেক রাকাতের পরিবর্তে তাকে আড়াই হাজার সওয়াব দেয়া হয়। তার জন্য বেহেশতে লাল মণিমুক্তায় সুসজ্জিত এমন একটি অট্টালিকা নির্মাণ করা হবে যার ৬০টি দরজা থাকবে এবং প্রত্যেক দরজার সামনে লাল মুক্তা দিয়ে সুসজ্জিত একটি স্বর্ণের কামরা থাকবে। যে ব্যক্তি রমজান শরিফের প্রথম তারিখে খাঁটি নিয়তে রোজা রাখে, তার গত রমজানের তারিখ থেকে এই তারিখ পর্যন্ত যত সগিরা গোনাহ হয়েছে, সব মাফ করে দেয়া হয়। আল্লাহর তরফ থেকে রমজান মাসে আল্লাহর কাছে মাগফিরাত চাওয়ার জন্য প্রত্যহ সত্তর হাজার ফেরেশতা নিযুক্ত করা হয়, যারা ওই রোজাদারের জন্য ফজরের নামাজের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত দোয়া করতে থাকেন। (বেহেস্তি জেওর) হে রোজাদার সাথীরা আসুন আমরা অগণিত রহমত, বরকত আর সওয়াব কামিয়ে নিই। কে জানে আগামী রোজায় আমরা এই সুবর্ণ সুযোগ পাব কিনা। হে আল্লাহ, আমাদের জীবনে বারবার রোজা দিন, আর আমাদের যাবতীয় গোনাহ মাফ করে দিন। আপনি যে রাহমানুর রাহিম। আপনি যে গাফুরুর রাহিম।
রেজিঃ নং চ-৭৩৫
সম্পাদক ও প্রকাশক: এম.ফয়জুল হক শিমুল
সহ: সম্পাদক : হাবিবুর রহমান সুলতান
সহ: সম্পাদক : নুরুল হক মাসুদ
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক নিউ বর্ণমালা অফসেট প্রিন্টিং প্রেস, রাজা ম্যানশন জিন্দাবাজার, সিলেট থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: * সি-৮/৩০ বনশ্রী ঢাকা।
সিলেট অফিস: কমন মার্কেট (৫ম তলা ) বন্দর বাজার, সিলেট।
বিয়ানীবাজার অফিস: ছফর কমপ্লেক্স, দক্ষিণ বিয়ানীবাজার, সিলেট।
যোগাযোগ মোবাইলঃ +88-01713813124
ই-মেইল ॥ somoychitro@gmail.com
বড়লেখা অফিস: নেহার মার্কেট, ( ২য় তলা), বড়লেখা, মৌলভীবাজার।