প্রসঙ্গঃ নামাজে ইমামের দীর্ঘ কেরাত

প্রকাশিত: ১:৩৬ পূর্বাহ্ণ, মে ২৬, ২০১৮

নামাজে ইমামের দীর্ঘ কেরাত নিয়ে আমার জানামতে হাওয়ালা সহ কিছু তথ্য উপাত্ত তুলে ধরলাম। লেখাটি নিছক আল্লাহর সন্তুষ্ঠির জন্য । কাউকে অবহেলা বা তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করার জন্য নহে। যদি আমার লেখা কোন ইমামের বিরুদ্ধে চলে যায় এজন্য কেউ বা কোন মুক্তাদি ইমামকে তাচ্ছিল্য করার অবকাশ নেই । ইমামকে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পরামর্শ দেয়া যেতে পারে। আবার কোন ইমাম এর চেয়ে ভাল হাওয়ালা নিয়ে আমার তথ্য উপাত্তের সাথে দ্বিমত পোষণ করেন তবে সুপরামর্শসহ হাওয়ালা প্রদানের অনুরোধ রইল।
আমি একমত পোষণ করতঃ সাদরে গ্রহণ করব।

হজত আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন রাসুল (সঃ) ইরশাদ করেছেন – তোমাদের কেউ ইমামতি করলে সে যেন নামাজ সংক্ষেপ করে। কারন তাদের মধ্যে ছোট বালক ও অনুস্থ লোক থাকতে পারে। যখন সে একাকী নামাজ আদায় করে তখন সে ইচ্ছামত দীর্ঘ করে আদায় করতে পারে। হজরত আবু ঈসা বলেন আবু হুরায়রার হাদিসটি হাসান সহীহ। দূর্বল , রুগ্ন, ও বৃদ্ধ লোকদের আশংকায় বেশির ভাগ বিজ্ঞ আলেম বলেছেন ইমাম যেন নামাজ দীর্ঘ না করে। সূত্রঃ হাদীস নং – ২২৪ তিরমীযী শরীফ।

***********************
ইমামের জন্য প্রয়োজন যে, মুক্তাদীগণের প্রয়োজন ও অসুবিধার দিকে লক্ষ্য রেখে কোরআন পড়বেন এবং রুকু সিজদা দীর্ঘ করবেন না। মুক্তাদীগণের প্রতি খেয়াল না করে লম্বা লম্বা সুরা পড়া এবং লম্বা লম্বা রুকু সিজদা করা মাকরুহে তাহরীমি।
নবী (সঃ) বলেন তোমাদের কেউ যদি নামাজ পড়ায় তো তার উচিত হালকা নামাজ পড়াবে। এজন্য যে, মুক্তাদীদের মধ্যে অসুস্থ লোক থাকে, দূর্বল লোক থাকে এবং বুড়ো লোক থাকে। তবে একা নামাজ পড়ে তবে যত লম্বা খূশী পড়তে পারে।
(সূত্র ঃ বোখারী , মুসলিম)

হজরত মায়াজ (রাঃ) এশার নামাজে লম্বা সুরা পড়তেন- তারপর নবী (সঃ) এর নিকট অভিযোগ করা হলো। নবী করীম (সঃ) মায়াজের উপর খুব রাগ করে বললেন-
মায়াজ তুমি কি মানুষকে ফেতনার মধ্যে জড়িত করতে চাও ?
তারপর তিনি তাকে বলেন- ছাব্বি হিসমা..,/অয়াসশামছি অদুহাহা../অয়াললাইলি..,/ অদ্দোহা../ আলআ’য়লা ../ এ ধরণের সুরাগুলি দিয়ে পড়াবে। (বুখারী , মুসলিম)
সূত্র আসান ফেকাহ
ইমামতির মাসয়ালা অধ্যায়
৩ অনুচ্ছেদ ২৫০ পৃষ্ঠা

 

লেখকঃ

এম.ফয়জুল হক (এম.এম)

এই সংবাদটি 942 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ