ট্রাম্প’র বিজয়: অনিশ্চিয়তায় ২ কোটি মার্কিনির স্বাস্থ্যসেবা

প্রকাশিত: ১২:১৮ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১১, ২০১৬

ট্রাম্প’র বিজয়: অনিশ্চিয়তায় ২ কোটি মার্কিনির স্বাস্থ্যসেবা

আবদুর রহমান: জেসিকা ক্যারাবিয়ান ওবামাকেয়ার নিয়ে উদ্বিগ্নদের একজন। দুই বছর আগে দুরারোগ্য ক্যান্সার ধরা পড়ে এই মার্কিনির। ক্যান্সার তার শরীরের হাড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে তিনি চিকিৎসা গ্রহণ করছেন। অক্ষমতা বিবেচনায় জেসিকার সেবার বেশিরভাগ মেডিকেয়ার’র আওতায়। তবে তিনি ওবামাকেয়ার’র সম্পূরক পলিসিও গ্রহণ করেছেন।

জেসিকা বলেন, যদি আমার সম্পূরক বীমা পলিসি বাতিল হয়ে যায় তাহলে আমি চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারব না এবং মারা যাব। ৩২ বছর বয়সি এই মার্কিনি আরো বলেন, আমি যতটা সময় বাঁচতে পারতাম তার আগেই আমর মৃত্যু হবে বলে আমার আশঙ্কা।

ওবামাকেয়ার নামে খ্যাত প্যাশেন্ট প্রোটেকশন অ্যান্ড অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্ট (পিপিএসিএ)’র সুবিধাভোগিদের মধ্যে এমন উদ্বেগ দেখা দিয়েছে ডোনাল্ড জে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর। নির্বাচনী প্রচারাভিযানে তিনি বর্তমান মার্কিন স্বাস্থ্যসেবা নীতিতে পরিবর্তন আনার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

ধনকুবের ব্যবসায়ি রিপাবলিকান ট্রাম্পের বিজয়ে অনিশ্চয়ার মুখে পড়ল ওবামাকেয়ার খ্যাত এ স্বাস্থ্য বীমা প্রকল্পের ২ কোটি গ্রাহকের স্বাস্থ্যসেবা। এছাড়া লোকসানের অজুহাতে বেশ কিছু বীমা কোম্পানি সরে দাঁড়ানোর ফলে এমনিতে চাপের মুখে ছিল ওবামাকেয়ার।

নির্বাচনী প্রচারাভিযানের চূড়ান্ত সপ্তাহে ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০১০ সালের স্বাস্থ্যসেবা আইন খুব দ্রুত বাতিলের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। এজন্য কংগ্রেসের একটি বিশেষ অধিবেশন ডাকার ঘোষণাও দিয়ে রেখেছেন ট্রাম্প।তিনি বলেছেন, আমরা এটা করবো এবং খুব, খুব দ্রুত করবো। এটা একটা বিপত্তি।

আইওয়া ককাসে নির্বাচন অনুষ্ঠানের একদিন আগে এবিসি’কে দেয়া সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, আমি মানুষের সেবা করতে চাই। যদি তাদের অর্থ না থাকে, তাহলে আমরা তাদের সহযোগিতা করবো। তবে এটা ‘সিঙ্গেল পেইয়ার’ হবে না। আমরা জনগণকে সহযোগিতা করতে চাই। যদি কারো অর্থ না থাকে, রাস্তা মাঝে শুয়ে থাকে এবং মৃত্যুর পথযাত্রী হয়, আমি সেই ব্যক্তিকে সেবা করবো।

এই প্রকল্প কিভাবে চলবে এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা হাসপাতালগুলোর সঙ্গে কাজ করবো। ডাক্তারদের সঙ্গেও কাজ করবো। আমাদের কিছু করার আছে’। রিপাবলিকান এই ধনকুবের ওবামাকেয়ার এর পরিবর্তে সম্পূর্ণ সরকার পরিচালিত একটি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা চালু করতে চান। তবে ট্রাম্পের স্বাস্থ্যসেবা কানাডার সমাজতান্ত্রিক পদ্ধতি ‘সিঙ্গেল পেয়ার’ এর মতো নয় বলে দাবি করেছেন তিনি।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে দেয়া ঘণ্টাব্যাপী এক সাক্ষাতকারে ডোনাল ট্রাম্প আরো বলেন, “সবার ঝুঁকি গ্রহণ করা হবে। এটা বলা আমার জন্য একটা অ-রিপাবলিকান বিষয় কারণ তারা বারবার বলেছে, ‘না, না, ২৫ শতাংশের কম বেসরকারিভাবে পরিশোধ হতে পারে না’। কিন্তু আমি প্রত্যেকের সেবা করতে যাচ্ছি”।

এটা কিভাবে হবে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, “জনগণের সেবা করার জন্য আমি বিদ্যমান হাসপাতালগুলোর সঙ্গে চুক্তি করবো”। কে এই অর্থ পরিশোধ করবে- এমন প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, সরকার অর্থ দেবে। এর জন্য আমরা অন্য খাত থেকে অনেক অর্থ সংরক্ষণ করবো।

তবে যুক্তরাষ্ট্র সিনেটরদের ৬০টি ভোট না পাওয়া পর্যন্ত ওবামাকেয়ার পুরোপুরি বাতিল করা সম্ভব নয়। সৌভাগ্যের বিষয় যে, এখন পর্যন্ত রিপাবনিকান দলের ৬০টি ভোট নেই। তবে ওবামাকেয়ার’র আংশিক পরিবর্তনের জন্য ৫১টি ভোট প্রয়োজন। যা রিপাবলিকানদের রয়েছে।রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বড়জোর ওবামাকেয়ার’র আংশিক পরিবর্তনের সমর্থ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার আগে বারাক ওবামা তার নির্বাচনী ইশতেহারে স্বাস্থ্যসেবাকে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে এনে দেয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন। স্বাস্থ্যসেবা নীতি ও পদ্ধতিতে বীমা শিল্পের ব্যবহারের চমক দেখিয়ে আমেরিকানদের মন জয় করেন ওবামা। ক্ষমতায় এসে চালু করেন প্যাশেন্ট প্রোটেকশন অ্যান্ড অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্ট (পিপিএসিএ), বা সংক্ষেপে অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্ট (এসিএ) । যা পরিচিতি লাভ করে ‘ওবামাকেয়ার’ নামে।

স্বাস্থ্যসেবা শিল্প পুনর্গঠন করতে ২০১০ সালের ২৩ মার্চ প্রেসিডেন্ট ওবামার দ্বারা অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্ট আইনে পরিণত হয়। আর ২০১২ সালের ২৮ জুন সুপ্রীমকোট এটিকে স্বীকৃতি দেয়। ওবামাকেয়ারের উদ্দেশ্য হলো- সাশ্রয়ী মূল্যে মানসম্মত স্বাস্থ্যবীমায় আমেরিকানদের আরো প্রবেশাধিকার দেয়া এবং দেশের স্বাস্থ্যসেবার ক্রমবর্ধমান খরচ কমানো। ভোক্তা সুরক্ষা, প্রবিধান, ভর্তুকি, কর, বীমা এক্সচেঞ্জ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সংস্কারের মাধ্যমে সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্য বীমার ক্রয়ক্ষমতা, মান এবং প্রাপ্যতা সম্প্রসারিত করে এই কেয়ার অ্যাক্ট।

এই সংবাদটি 397 বার পঠিত হয়েছে