ঢাকা |
প্রকাশিত: ৪:১২ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৪, ২০২১
‘জ্ঞানীর কলমের কালি শহীদের রক্তের চেয়ে পবিত্র কথাটি ধ্রুব সত্য। যিনি জ্ঞানী সমাজ তাকে স্বীকৃতি দিয়ে থাকে। তখন তিনি গুণের অধিকারী হয়ে সমাজে সর্বত্র বিচরণ করে থাকেন এবং তাকে কাছে পাওয়ার জন্য সমাজকর্মীরা বিভিন্ন শিক্ষামূলক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি হিসাবে দাওয়াত দিবেন। কারণ সমাজ বিশেষ করে ছাত্ররা তার উপদেশমূলক বক্তব্য শুনে এবং আমল করে উপকৃত হবে। এসব বক্তার মূল্যবান বক্তব্য শুনে উদাহরণ টেনে সমাজপতিরা সমস্যা সমাধান করে থাকেন। এ ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ ও পরােক্ষভাবে জাতির উপকার করে থাকেন এসব বীর শিক্ষাবিদরা।
এখানে শিক্ষা দুই প্রকার একটি হচ্ছে সামাজিক শিক্ষা অন্যটি হচ্ছে একাডেমিক শিক্ষা। সামাজিক শিক্ষায় সনদধারীরা সমাজের বাস্তবতার নিরিখে গবেষণা করে সমাজের বাস্তব দিক নির্দেশনামূলক তত্ত্ব দিয়ে গবেষণা করে, গল্প বলে কবিতা লিখে উপন্যাস লিখে নাট্যমঞ্চে বাস্তব চিত্র প্রদর্শন করে বাস্তব চিন্তা চেতনা দিয়ে বিজ্ঞান ভিত্তিক চিন্তা চেতনা সৃষ্টি করে আর্তমানবতার আর্শিবাদ হয়ে কাজ করে থাকেন। তারাই সামাজিক শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে থাকেন। এ ক্ষেত্রে উচ্চ শিক্ষায় যেমন অনার্স-মাস্টার্স, ডক্টরেট, প্রফেসার বা বি.সি.এস এর মতাে সনদের প্রয়ােজন নেই, কারণ বাঙালি জাতিসত্তার বিকাশে বিদ্রোহী কবি কাজী
নজরুল ইসলাম, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরসহ অনেক পণ্ডিত ব্যক্তি যারা উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত ছিলেন না তথাপি তাদেরকে বাদ দিয়ে অর্জিত সফলতা ও জ্ঞানকে বাদ দিয়ে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ অর্জন সম্ভব নয়। তারা কেউই রুটি রােজগারের জন্য সনদ অর্জন করেননি। পরবর্তীতে তাদেরকে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মান সূচক ডক্টরেট সার্টিফিকেট দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সম্মানিত করেছে। অপর দিকে স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভালাে সনদ অর্জন করে নিজের পারিবারিক প্রয়ােজনে প্রশাসনিক পদে নিয়ােগ প্রাপ্ত হয়ে চাকুরী নিয়ে অহংকারের মধ্য দিয়ে রুটি রােজগারের মাধ্যমে নিজেকে খুব বেশি আত্মঅহংকারী, যান্ত্রিক বিবেকহীন ও জ্ঞানীজনকে বর্জন করার প্রবণতা শিখিয়েছে। এসব ক্যাডারভিত্তিক শিক্ষিত জনকে মন থেকে শ্রদ্ধা করার লােকের বড় অভাব কারণ এসব ভালাে সনদধারী লােক নিজের অহংকার, আখের গুছানাের জন্য বিভিন্ন কলা কৌশলের মাধ্যমে অনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে সমাজকে জিম্মি করে বিভিন্ন প্রতারণার ফাঁদ পেতে তাদের দাবি আদায় করে থাকে। লােকজন তাদেরকে শিক্ষিত সনদধারী হিসেবে চিনে। যেখানে হিংসা উপস্থিত সেখানে ধর্ম অনুপস্থিত। ধার্মিক লােককে অবশ্য সকলেই শ্রদ্ধা করে থাকে। অবশ্য এসব উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত প্রশাসনিক পদে নিয়ােগপ্রাপ্ত লােক সকলই একই চরিত্রের লােক নয়। তাদের পক্ষে প্রচুর লােক নীরবে নিভৃতে তাদের লেখনির মাধ্যমে পাঠদানের মাধ্যমে প্রশাসকের দায়িত্ব পালনকালে জনগণের সেবকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে জনগণের আস্থা অর্জন করে প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা চালু রেখেছেন। অবশ্যই সমাজ তাদের স্যালুট জানিয়ে থাকে, সর্বোচ্চ সম্মান দিয়ে থাকে। ক্যাডার এবং নন ক্যাডার বলে চৌধুরী, তালুকদার ইত্যাদি পরিচয়। দেওয়ার সময় শেষ। কারণ ওয়াকিবহাল। যারাই তাদের শিক্ষার মাধ্যমে জনগণের মনে স্থান করে নেবে তারাই বড় মাপের মানুষ সম্মানের অধিকারী হিসাবে পরিচিত লাভ করবে। এক কথায় বলতে হলে সামাজিক শিক্ষা ও একাডেমিক শিক্ষার সমন্বয় যাদের মধ্যে বিকাশ ঘটবে তিনিই সম্মানিত হবেন বড় মাপের মানুষ হবেন।
কিছুদিন পূর্বে একটি দৈনিক পত্রিকায় দেখলাম, সিলেট শিক্ষা বাের্ডের চেয়ারম্যান গােলাম কিবরিয়া সাহেবের বিভিন্ন অপকর্মে বাের্ড নাকি জিম্মি। এ কথা শুণে আমি প্রথমে লজ্জাবােধ করলাম এবং সিদ্ধান্ত নিলাম নিজ উদ্যোগে সত্যতা যাচাইয়ের জন্য। অধ্যাপক কিবরিয়া সাহেবের যেসব অপকর্ম প্রচার মাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে আমি প্রায় ১০০
জনের মতামত মৌখিকভাবে জিজ্ঞাসা করেছি, আপনি কি কোনাে সময় কাজ নিয়ে গেছেন বা আর্থিক লেনদেন করেছেন বা তার স্বভাব চরিত্র খারাপ বা গাড়ি বাড়ি এপার্টমেন্ট ইত্যাদি আছে এগুলাে কি ঠিক? প্রায় সবাই মৌখিকভাবে উত্তর দিল, প্রশ্নই আসে না আর্থিক লেনদেনের। তাহলে আপনার কাজ হয়নি? কাজ তাে অবশ্যই হয়েছে। বাসা-বাড়ি, গাড়ি অন্যান্য সম্পদের পাহাড় করেছেন এ কথাগুলি কি সঠিক? সবার একই কথা- এগুলাে মােটেই ঠিক নয়। তাহলে রাস্তা ঘাটে, পান। সিগারেটের দোকানে বসে কেন এসব সম্মানিত মানুষজনের সমালােচনা করেন। জবাব, এসব আমাদের ব্যক্তিজীবনে মুদ্রাদোষে পরিণত হয়েছে। আমি ব্যক্তিজীবনে উনাকে চিনি। তিনি একজন তাত্ত্বিক বক্তা । তিনি বিভিন্ন উদাহরণ টেনে সময়পােযােগী বক্তব্য দিয়ে অনুষ্ঠানের প্রাণসঞ্চার করে থাকেন এবং সমাজকর্মীরা বা প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত লােকজন কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বা বিশেষ অতিথি করে নিয়ে আসেন এবং তাঁর জ্ঞানগর্ভ বক্তব্য শুনার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকেন। একটা অনুষ্ঠানে আমি উপস্থিত ছিলাম। আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষক অধ্যাপক ড. শফি আহমদ স্যার ছিলেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি। বাংলাদেশের হাতে গােনা কয়েকজন শিক্ষাবিদদের একজন তিনি হচ্ছেন শফি স্যার। আমি তার কথা শুনার জন্য প্রায়ই বাসায় যেতাম। অধ্যাপক গােলাম কিবরিয়া সাহেব ঐ অনুষ্ঠানে চমৎকার তথ্যনির্ভর বক্তব্যের মাধ্যমে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিলেন । কিন্তু আমি জানি প্রায় এ ধরনের সারগর্ভ বক্তব্যের মাধ্যমে সমাজের বিশেষ করে শিক্ষা ব্যবস্থার দিক নির্দেশনা দিয়ে থাকেন। উক্ত অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ড. শফি আহমদ স্যার দাঁড়িয়ে বুকে বুক মিলিয়ে কিবরিয়া সাহেবকে সারগর্ভ বক্তব্য দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানালেন এবং সু-স্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করলেন। কথায় আছে জ্ঞানীরাই জ্ঞানীকে চিনে সম্মান দেওয়া জানে। প্রতিভা বিকাশের সুযােগ করে দিয়ে থাকে। আর নিন্দুকেরা সমালােচনা করে নিন্দা করে আনন্দ পায় কিন্তু সমাজে তাদের পরিচয় মুনাফেক হিসেবে। সমাজ তাদেরকে সম্মান দেয় ।।
বর্তমানে অধ্যাপক কিবরিয়া সাহেব বিভিন্ন রােগ শােকে ভুগছেন। এমন একজন শিক্ষাবিদকে অহেতুক অসম্মানজনক কথাবার্তার মাধ্যমে কষ্ট না দিয়ে তাঁর কর্মময় জীবন দীর্ঘস্থায়ী হােক এ কামনা করা উচিত।
৭ আগস্ট ২০১৭।
রেজিঃ নং চ-৭৩৫
সম্পাদক ও প্রকাশক: এম.ফয়জুল হক শিমুল
সহ: সম্পাদক : হাবিবুর রহমান সুলতান
সহ: সম্পাদক : নুরুল হক মাসুদ
সম্পাদক ও প্রকাশক কর্তৃক নিউ বর্ণমালা অফসেট প্রিন্টিং প্রেস, রাজা ম্যানশন জিন্দাবাজার, সিলেট থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: * সি-৮/৩০ বনশ্রী ঢাকা।
সিলেট অফিস: কমন মার্কেট (৫ম তলা ) বন্দর বাজার, সিলেট।
বিয়ানীবাজার অফিস: ছফর কমপ্লেক্স, দক্ষিণ বিয়ানীবাজার, সিলেট।
যোগাযোগ মোবাইলঃ +88-01713813124
ই-মেইল ॥ somoychitro@gmail.com
বড়লেখা অফিস: নেহার মার্কেট, ( ২য় তলা), বড়লেখা, মৌলভীবাজার।