খরচ যোগাতে না পেরে দশম শ্রেণীতে পড়ালেখা বন্ধ করে রিক্সার হাতল ধরেছে প্রতিবন্ধী কিশোর হাছান

প্রকাশিত: ৪:০৯ অপরাহ্ণ, জুন ২৯, ২০১৬

খরচ যোগাতে না পেরে দশম শ্রেণীতে পড়ালেখা বন্ধ করে রিক্সার হাতল ধরেছে প্রতিবন্ধী কিশোর হাছান

খরচ যোগাতে না পেরে রিক্সার হাতল ধরেছে প্রতিবন্ধী কিশোর
=================================
ফয়জুল হক শিমুল :
জীবন জীবিকার তাগিদে রিক্সার হাতল ধরেছে প্রতিবন্ধী ছেলেটি। নাম হাছান । বাড়ী কুলাউড়া উপজেলার পৃথিমপাশা গ্রামে।

সিলেট শহরে এক বছর যাবত রিক্সার হাতল আর প্যডেল ঘুরিয়ে মা- বাবা ভাই বোন নিয়ে জিবিকা চালিয়ে যাচ্ছে সে। বৃদ্ধ মা- বাবা ও ছোট এক ভাই এক বোন নিয়ে তাদের পরিবার।

দশম শ্রেণী পড়ে আর লেখাপড়া করতে পারেনী । প্রতিবন্ধী হয়ে ও এক হাত দিয়ে রিক্সা চালিয়ে যাচ্ছে সে। রিক্সার যাত্রী হিসাবে আলোচনার এক ফাঁকে সাংবাদিক পরিচয় দিলে হাছান কথা বলতে চায়না ।

এক পর্যায়ে কথা না বলার কারন জানতে চাইলে সে তার ক্ষোভের কথা জানায় এভাবে-

“আমাকে এনটিভি , আরটিভির সাংবাদিকরা ছবি তুলতে কথা বলতে চাইছিল আমি সে সুযোগ দেইনি। কারন
দশ বছর লেখাপড়া করতে যখন সরকার থেকে একটি টাকাও পাইনি, টাকার জন্য লেখাপড়া করতে পারিনি

এখন আর আমার জন্য লেখালেখির দরকার নাই। ”

সম্প্রতি সিলেট শহরের কদমতলী থেকে তালতলা রিক্সা ভাড়া করেছিলেন এ প্রতিবেদক । সাথে ছিলেন সময়চিত্রের স্টাফ রিপোর্টার এম. মিছবাহ উদ্দিন। তালতলায় রিক্সা এসে থামলে ভাড়া দিয়ে যাওয়ার সময় প্রতিবেদকের গোপন ক্যামেরায় বন্ধি হয়ে গেল হাছান । লেখাপড়ার প্রতি প্রবল উৎসুক হাছানের স্কুলের শিক্ষক থেকে সরকার প্রধান পর্যন্ত এক সাধারণ প্রতিবন্ধী কিশোরের এ ক্ষোভের উত্তর থেকেই গেল । আইনের ফাঁক ফোকর দিয়ে এভাবে অনেকেই তাদের সামাজিক অধিকার হরণ করে নেয়। নিরীহরা এভাবেই নির্যাতিত নিস্পেষিত হয়। কাউকে বলার সাহস থাকে না, শুধু দু:খ, যাতনা, ক্ষোভ চাপা দিয়ে পথ চলতে হয় তাদের।

উল্লেখ্য উপবৃত্তি ও প্রতিবন্ধী ভাতা পাওয়ার কথা ছিল কিন্তু এসব কিছুই পায়নি বলে জানায় হাছান। যদি পেত তবে আজ তার লেখাপড়ার খরচ যোগাতে চিন্তা করতে হতনা এবং পড়ালেখা বন্ধ হতনা।

এই সংবাদটি 1196 বার পঠিত হয়েছে