গোলাপগঞ্জ (সিলেট) প্রতিনিধি:গোলাপগঞ্জের ঢাকাদক্ষিণ ইউপির দক্ষিণ বারকোট গ্রামের অনাকাংখিত ঘটনার সুষ্ট সমাধানের লক্ষ্যে নাগরিক তদন্ত কমিটির এক শালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকাল ১১ ঘটিকার সময় ঢাকাদক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের হলরুমে তদন্ত কমিটির আহবায়ক ও জেলা আয়ামীলীগের সহ সভাপতি আমির উদ্দীন সাদেকের সভাপতিত্বে ও ইউপি সদস্য জাকারিয়া হোসেন উজ্জলের পরিচালনায় বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জেলা আ.লীগের সদস্য সৈয়দ মিসবাহ,আং শহীদ খান জিলা,আব্দুন নুর মসলাই, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নোমান উদ্দীন মুরাদ, ঢাকাদক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মজির উদ্দীন চাকলাদার,আ.লীগ নেতা সাহাব উদ্দীন,হিন্দু বৌদ্ধ পরিষদের কাজল কান্তি দাশ,আফজল হোসেন রফি,স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা জামিল আহমদ,অজামিল চন্দ্র নাথ, দৈনিক যুগান্তরের গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি হারিস আলী, দৈনিক সিলেট সুরমার গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি গোলাম দস্তগীর খান ছামিন, সিলেট মিডিয়া ও নিউজ অব বাংলাদেশের গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি নোমান মাহফুজ সহ এলাকার মুরব্বীরা।
এ সময় দু’পক্ষের বক্তব্য গ্রহন করা হয়। তবে ঘটনার মূল বাদী রিপন মালাকার স্বরীরে উপস্থিত হয়নি। যার ফলে শালিশ কার্যক্রমের সমাধান হয়নি। বাদীকে বারবার বৈঠকে উপস্থিত করানোর চেষ্ঠা করলেও নগেন্দ্র চন্দ্র দেব অপারগ হয়ে দুই দিনের সময় প্রার্থনা করেন নাগরীক কমিটির কাছে। এ জন্য আগামী ৫ এপ্রিল মঙ্গলবার সকাল ১১টায় ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে পুণরায় বৈঠকের সিদ্ধান্ত হয়।বৈঠকে বিবাদী আকবর আলী গঠনার বিবরণ পেশ করেন। এদিকে বাদি রিপন মালাকারের পক্ষে তার পিতা উপস্থিত বৈঠকে নিজের বক্তব্য পেশ করেন। নাগরিক তদন্ত কমিটির সদস্যরা বৈঠকে তাদের বক্তব্যে বলেন, রিপন মালাকার একজন মাদকসেবী। সে এলাকায় বিভিন্ন অপরাদ মুলক কর্মকান্ড করে বেড়ায়। তার জন্য এলাকার মানুষজন অতিষ্ঠ। অতীতে তার বিরুদ্ধে মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধের দায়ে থানায় মামলা হয়েছে। মুলত এ ঘটনার সাথে সংখ্যালঘু বা সাম্প্রদায়িকতার কোন আবাস নেই। কথিত মিডিয়া ও হলুদ সাংবাদিকদের অপপ্রচারে মানুষজনকে বিভ্রান্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় হিন্দু সমাজের মধ্যে বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছিল। তবে আজকের বৈঠকে রিপন মালাকারের কৃতকর্মের কথা শুনে হিন্দু বৌদ্ধ ঐক্য পরিষদের নেতা কাজল কান্তি দাস বলেন, এ ঘটনায় প্রথমে আমাদের ক্ষোভ তাকলেও তার কৃতকর্মের কথা জেনে আমরা লজ্জিত হয়েছি। তার কৃতকর্মের সাজা হওয়া উচিৎ। হিন্দু বৌদ্ধ ঐক্য পরিষদের অন্যতম নেতা ও হলি সিটি এডুকেসন ট্রাষ্টের সভাপতি অজামিল চন্দ্র নাথ নিজের দায় স্বীকার করে বলেন, রিপন মালাকার একজন মাদকসেবী। তাকে বিভিন্ন অপরাধে আইনের হাতে তুলে দিয়েছি, কিন্তু আমি জানতাম না সে নগেন্দ্র দেবের পুত্র। তার এ কৃতকর্মের কারনে গোটা হিন্দু সমাজ আজ লজ্জিত।এ ঘটনায় দৈনিক উত্তরপূর্ব ও দৈনিক শ্যামল সিলেট পত্রিকায় বিভ্রান্তিকর খবর প্রকাশ হয়। যার ফলে সাম্প্রদায়িকতার প্রভাব বিস্তার করে এলাকাজুড়ে। পেট্রোল ঢেলে বাড়িঘর জ্বালানোর তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে এসব পত্রিকায় তা প্রকাশ হয়।