খেলাধুলা খাতে শিক্ষার্থীদের দেয়া ফি’র অর্থ কোথায় যায় ?

প্রকাশিত: ১১:৫৯ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৯, ২০১৯

খেলাধুলা খাতে শিক্ষার্থীদের দেয়া ফি’র অর্থ কোথায় যায় ?

স্টাফ রিপোর্টার:
৪৮তম জাতীয় স্কুল মাদ্রাসার গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা পরিচালনায় স্কুল-মাদ্রাসা হতে বাধ্যতামূলক চাঁদা আদায় করার অভিযোগ উঠেছে। বছরে আয়োজন করা দুটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আড়ালেই খেলাধুলা খাতে শিক্ষার্থীদের দেয়া ফি’র অর্থ কোথায় যায় তার হদিছ মিলছে না! সময়চিত্রের অনুসন্ধান ও সংশ্লিষ্টদের দেয়া উপাত্ত থেকে এসব তথ্য বেরিয়ে আসছে।
সূত্রমতে, গত ২৬ আগস্ট ২০১৯ বিয়ানীবাজার উপজেলার হলরূমে উপজেলা চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে ৪৮তম জাতীয় স্কুল মাদ্রাসার গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার প্রস্তুতি সভায় মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মৌলদুর রহমানের জানান উপজেলার এই খেলাধুলা পরিচালনার জন্য সরকারি কোন বরাদ্দ নেই। স্থানীয়ভাবে খেলাধুলার ব্যয়ভার বহন করতে হবে।
সভা থেকে জানানো হয়, প্রতিবছর অষ্টম ও নবম শ্রেণীতে ছাত্রছাত্রীরা রেজিস্ট্রেশনকালে শিক্ষা বোর্ডে ক্রীড়া ফি পরিশোধ করে। প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৩০ টাকা করে নেয়া হয়। এছাড়াও প্রতিষ্ঠান প্রতি ৩শ’ টাকা করে অধিভুক্তি ফি নেয়া হয়। এসব আদায়কৃত টাকার অর্ধেকও খেলাধুলায় ব্যয় নির্বাহে লাগার কথা নয়। তার উপর বাধ্যতামূলক চাঁদার প্রয়োজন কেন ? এর কোন ব্যাখ্যা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার দিতে পারেননি বলে সংশ্লিস্টরা জানিয়েছেন। এ বিষয়ে উক্ত সভায় নানা আলোচনা ও সমালোচনা হয় বলে জানা গেছে।
সভায় প্রতিযোগিতার ব্যয় সংকুলানে উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কাশেম পল্লব ত্রিশ হাজার টাকার অনুদান ঘোষণা দেন। পাশাপাশি ৬০টি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ৮শ’ টাকা হারে বাধ্যতামূলক মং ৪৮ হাজার টাকা চাঁদা আদায়ের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উক্ত খেলাধুলা ফান্ডে আরো ৪২,০৮০/- টাকা জমা রয়েছে। সচেতন মহলের প্রশ্ন, ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে রেজিস্ট্রেশনকালে আদায়কৃত ক্রীড়া ফি’র টাকা কোথায় যায় ?
জানা যায়, মাউশি’র অধীনে গঠিত ক্রীড়া সমিতি ‘গ্রীষ্মকালীন’ ও ‘শীতকালীন’ নামে দুটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। সারা দেশে প্রতিযোগিতা করে বিজয়ী শিক্ষার্থী বা প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় পর্যায়ে বিশেষভাবে পুরস্কৃত করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন খেলার সরঞ্জামও দেয়া হয় চ্যাম্পিয়নসহ সেরা তিন প্রতিষ্ঠানকে। প্রতিযোগীদের আবাসন ও আপ্যায়ন খাতে খরচ করা হয়। এসব খাতে ব্যয়ের আগে বাজেট নির্ধারণ হয়। প্রতিবছর একটি ফার্ম এর আয়-ব্যয় অডিট করে থাকে।

নাম প্রকাশ না করে একাধিক শিক্ষাবোর্ডের সিনিয়র কর্মকর্তা এবং প্রধান শিক্ষক জানান, যখন যে অঞ্চলে জাতীয় পর্যায়ের খেলা হয়, সেখানকার দায়িত্বপ্রাপ্ত সংশ্লিস্ট কর্মকর্তা প্রতিযোগিতার সার্বিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করেন। এক্ষেত্রে ব্যক্তিস্বার্থে সম্মানী দেয়া-নেয়ার জন্যই অপ্রয়োজনে অনেককে দাওয়াত করে নিয়ে অতিথি করা হয়। এভাবে শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ দেয়া অর্থের একটি বড় অংশ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সন্তুষ্টির কাজে খরচ করার অভিযোগ রয়েছে।

প্রাপ্ত সূত্রমতে, প্রতিবছর ৮ম ও ৯ম শ্রেণীতে ছাত্রছাত্রীরা রেজিস্ট্রেশন করার সময়ে শিক্ষা বোর্ডে ক্রীড়া ফি ৩০ টাকা করে পরিশোধ করে। এছাড়াও প্রতিষ্ঠান প্রতি ৩শ’ টাকা করে অধিভুক্তি ফি নেয়া হয়। বাংলাদেশে বর্তমানে ১০টি শিক্ষাবোর্ড রয়েছে। বোর্ডগুলো এই দুই খাতে কয়েক কোটি টাকা আদায় করে থাকে। এই খাতে প্রতি অর্থবছরে শিক্ষাবোর্ড থেকে ক্রীড়া সমিতি আদায়ের ২৫% অর্থ জাতীয় পর্যায়ে খরচের জন্য গ্রহন করে থাকে।
সিলেট শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. মজিদুল ইসলাম জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ক্রীড়া ফি’র নামে আদায় করা টাকার একটি অংশ যায় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে। আর বাকী টাকা সংশ্লিষ্ট বোর্ডের ওই খাতে জমা রাখা হয়। তিনি দাবী করেন, গ্রীষ্মকালীন অথবা শীতকালীন ক্রীড়ানুষ্টানে বোর্ড থেকে টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। তবে এটা শিক্ষা প্রতিষ্টানে পৌছায় কিনা তা তার জানা নেই।

উপজেলা দূর্র্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক শাবুল আহমদ জানান, সব জায়গায় দূর্নীতি ছড়িয়ে পড়েছে। শিক্ষা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্টানগুলোতে দূর্নীতির মাত্রা আরেকটু বেশী। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তা আবার অন্যখাতে কিংবা অপরিষ্কারভাবে ব্যয় করার তদন্ত হওয়া উচিত। তিনি বিষয়টি দূর্নীতি দমন কমিশণকে অবহিত করবেন বলে উল্লেখ করেন।

এদিকে আগামী ১ সেপ্টেম্বর ৪৮তম গ্রীষ্মকালীন জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা শুরু হচ্ছে। ওইদিন স্কুল-মাদ্রাসা পর্যায়ের প্রতিযোগিতা হবে। পর্যায়ক্রমে উপজেলা/থানা, জেলা, উপ-অঞ্চল (সারাদেশ ৯ ভাগ), অঞ্চল শেষে জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা হবে।

এই সংবাদটি 799 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ