বড়লেখায় প্রতি সপ্তাহে ১ টি করে দেড় মাসে ৬ খুন

প্রকাশিত: ১১:০১ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২২, ২০১৬

বড়লেখায় প্রতি সপ্তাহে ১ টি করে দেড় মাসে ৬ খুন

বড়লেখা প্রবাসী অধ্যুষিত সীমান্তবর্তী এক জনপদের নাম । যেখানে ইতিহাস ঐতিহ্য রয়েছে। অতীত থেকে নিয়ে সাম্প্রতিক সময়েও বড়লেখার সুনাম সুখ্যাতি অনেক । অনেক জ্ঞানী,গুনী দার্শনিক,বুদ্ধিজীবির জন্ম এখানে । কিন্তু ৫ সপ্তাহে ৫ খুন এটা মেনে নেয়া যায়না। আইন কি এখন হাতে তুলে নিয়েছে। বিচারের একমাত্র মাধ্যম কি এখন খুন । তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে খুন করা এখন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। সচেতন বিবেককে ভাবিয়ে তুলে। বড়লেখার জনগন এখন আর খুন করতে ভয় পায়না। বাড়ীর পিছনে তো আদালত। ২/৪ দিন পর জামিন নিয়ে বের হয়ে যাবে।

এ কেমন মানবতা ? জাহেলিয়াতের পাশবিকতাকেও হার মানায়। আগেরগুলি নাই বা বললাম গত ৫ সপ্তাহে যে ৫ টি খুন হলো প্রত্যেকটি খুনের রহস্য উদঘাটনে কোন বড় ধরনের মারামারি,ডাকাতি, বা সংঘর্ষ হওয়ার প্রাক্কালে খুনের ঘটনা ঘটেনি। প্রত্যেকটি খুনের ঘটনার পেছনে দেখা যায় তুচ্ছ ঘটনা । চান্দগ্রামের মায়ারুন্নেছা পূত্রবধুর পরকীয়ার বলী হন ঈদের দিন রাতে। ঠিক তার পরের সপ্তাহে এ খুনের রেশ কাটতে না কাটতে ২৯ সেপ্টেম্বর খুন হন ইউপি সদস্য আলম এর পরের সপ্তাহে ৬ অক্টোবর খুন হন দাসের বাজারের মায়ারাণী । এ খুনের রেশ কাটতে না কাটতে ১৪ অক্টোবর শুক্রবার কেছরীগুল গ্রামের অটোরিক্সা চালক খুন হন ভাতিজার হাতে চাচা।

২২ অক্টোবর খুন হন তালিমপুর ইউনিয়নের চৌঢালু বিলে আহসান উদ্দিন (৩৩) নামের এক বিলপ্রহরী। নিহত আহসান বড়ময়দান গ্রামের মৃত খলিলুর রহমানের ছেলে। শনিবার (২২ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে পুলিশ তার লাশটি চৌঢালু বিলের শীতলিবাড়ি সংলগ্ন ডোবা থেকে উদ্ধার করে। ধারণা করা হচ্ছে, বিলে মাছ ধরা নিয়ে বিরোধের জের ধরে আহসানকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দাসেরবাজার ইউনিয়নের নেরাকান্দি গ্রামের আজিম উদ্দিনের ছেলে দেলোয়ার হোসেন (২০) নামের এক যুবককে আটক করেছে।

সূত্র জানায়, শুক্রবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বিলের অন্য সহকর্মীরা আহসান উদ্দিনকে রাতের ভাত দিতে গিয়ে পাহারার নৌকায় পাননি। এ সময় সহকর্মীরা পাহারার নৌকায় তার শার্ট মোবাইল ফোন পড়ে থাকতে দেখেন। পরে বিল ও আশপাশের বিভিন্ন স্থানে তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পরও আহসানকে না পেয়ে শনিবার ভোররাত সাড়ে ৩টায় নিখোঁজের বিষয়টি থানা পুলিশকে অবহিত করেন স্বজনরা। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহসানের খোঁজ করেও কোনো সন্ধান পায়নি।
শনিবার (২২ অক্টোবর) ভোর ৫টায় স্থানীয় লোকজন চৌঢালু বিলের শীতলিবাড়ি এলাকায় একটি লাশ পানিতে ভাসতে দেখে থানা পুলিশে খবর দেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মৌলভীবাজার হাসপাতালে পাঠায়।
বড়লেখা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সহিদুর রহমান লাশ উদ্ধারের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দেলোয়ার হোসেন নামের এক যুবককে আটক করা হয়েছে।

এ নিয়ে গত ৫ সপ্তাহে দেখা যায় ৫টি খুন অর্থাৎ গড়ে প্রতি সপ্তাহে ১টি করে বড়লেখায় খুনের ঘটনা ঘটছে। সাধারণ মানুষ আতংকে দিনাতিপাত করছে । উকিল মোক্তারদের একটু খোরাক ও বেড়ে গেছে। কর্তাবাবুদের দৌড়ঝাপ ও ব্যস্ততা এখন তুঙ্গে। ফোন রিসিভ করার ও সময় নাই তাদের । আইন শৃংখলা বাহিনী যদি একদিকে শৃংখলা নিয়ে ব্যস্ত থাকেন আবার অন্যদিকে যদি বিশৃংখল পরিবেশ সৃষ্টি হতে থাকে তাহলে বানরের গাছে উঠার কাহিনী হয়ে গেল না ? তাহলে কি করা যায়? সচেতন বিবেককে ভাবিয়ে তুলে । উত্তোরণের পথ খুজে পাওয়া মুসকিল হয়ে দাড়িঁয়েছে। সাধারণ মানুষ আতংকে দিনাতিপাত করছে।
এসব একের পর এক হত্যাকান্ডের ঘটনায় সাধারণ মানুষজন আইন-শৃংখলা বাহিনীকে দায়ী করছেন। হত্যাকান্ডের পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে চুরি, ডাকাতি, জায়গা দখল, অপহরণ, সন্ত্রাসী হামলাসহ নানা অপরাধ কর্মকান্ড বৃদ্ধি পেয়েছে।

যেখানে মানবতা চাপাতি, দা, ছুরির নিচে চাঁপা পড়ে গেছে , আসামীর সাজা যেখানে কাগজ আর কলমে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে , সমাজ ব্যবস্থার উন্নতি আর অগ্রগতির চিন্তা বাতুলতা ছাড়া আর কিছু নয়। খুন তো খুনই এখানে ছোট বড় খুন বলে কিছু নয়।
তাহলে এতসব খুনের বিচার কিভাবে হয় । এগুলো আবার ছাড়া পায় কিভাবে। রাজন হত্যার খুনী আর আলম হত্যা বা মায়ারাণী হত্যার খুনী তো সমানই তাহলে কারো বিচার হয় ফাঁসি আর কারো হয় ১৪ বছরের জেল আবার কারো ৬ মাস পরে জামিন এইসব আইনের ফাঁকফোকর থাকায়ইতো খুনীরা পার পেয়ে যায় । ফলে অন্যান্য খুনীরা সাহস পায়। আমরা খুনী ছোট হোক আর বড় হোক ধনী হোক আর গরীব হোক সকল খুনীর ফাঁসি চাই। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া বড়লেখার সকল খুনের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি হোক খুনীরা যেন আর খুন করতে সাহস না পায় এ প্রত্যাশা করি।

এই সংবাদটি 784 বার পঠিত হয়েছে