দুই যুগ আগের স্মৃতি রোমন্থনে আপ্লুত ঢাকাদক্ষিণ ডিগ্রী কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা

প্রকাশিত: ৬:৪৩ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২১, ২০১৬

দুই যুগ আগের স্মৃতি রোমন্থনে আপ্লুত ঢাকাদক্ষিণ ডিগ্রী কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা
.
গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি : শিক্ষাজীবন শেষে এখন তারা সকলেই কর্মজীবনে। কেউ প্রবাসে, কেউ দেশে। পুণর্মিলনীর সুযোগে একত্রে জড়ো হয়ে যেন ক্ষনিকের জন্য ভুলে গিয়েছিলেন তাদের বর্তমান কর্মময় জীবনের ব্যস্ততার কথা। দুই যুগ আগের পুরনো দিনের স্মৃতি রোমন্তনে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন, একে অপরকে জড়িয়ে ধরে প্রাণের উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেন তারা। দিনভর আনন্দ, স্মৃতিচারণ, স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে আড্ডা আর গানের মাঝেই ডুবেছিলেন গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঢাকাদক্ষিণ ডিগ্রি কলেজের ১৯৯১ ব্যাচের প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীরা।শুক্রবার গোলাপগঞ্জ উপজেলার লক্ষনাবন্দে অবস্থিত আঞ্চলিক স্কাউটের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয় এ পুণর্মিলনী। সকাল ১১ টায় ছিলো উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। এর আগ থেকেই এক এক করে সন্তান-সন্ততি আর স্বামী-স্ত্রীদের নিয়ে হাজির হন প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। শুরু হয় উদ্বোধনী পর্ব। শুরুতেই অনুষ্ঠান উপলক্ষে জড়ো হওয়া প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অভিবাদন জানায় অগ্রদূত মুক্ত স্কাউটস দল। এর পর পতাকা উত্তোলন করেন সমবেতভাবে ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। সেখানে সংগীত শেষে ফিরে আসেন হল রুমে। ব্যাচের প্রাক্তন ছাত্র আতিকুল হকের কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া অনুষ্ঠান উপস্থাপনার দায়িত্বে ছিলেন দেলোয়ার হোসাইন। তার সাবলিল উপস্থাপনায় শুরু হয় পরিচিতি পর্ব। প্রথমেই কলেজের সাবেক ভিপি সফিক উদ্দিন এরপর সাংবাদিক আনোয়ার শাহজাহান, মোঃ ফয়ছল আহমদ, আব্দুল হান্নান এভাবে একের পর এক স্বপরিবারে মঞ্চে উঠে সকলের সামনে নিজের পরিবারের পরিচয় তুলেন ধরেন তারা। এ সময় মুহুমৃুহু করতালীতে মুখরিত হয়ে উঠে হলরুম। পরিচয়পর্ব শেষে ৯১ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা তাদের সে সময়কার সুখ-দুঃখ আর আনন্দময় স্মৃতির কথা তুলে ধরেন। এ সময় অনেকেই একে অপরের কথা শুনে আবেগাপ্লুত হতে দেখা যায়। আবেগঘন এই মৃহুর্ত শেষে বিভিন্ন ইভেন্ট পরিচালনা করা হয়। পূণর্মিলনী উপলক্ষে উদযাপন পরিষদ কর্তৃক প্রকাশিত একটি সুভ্যেনিরও বের হয়। এসময় এটির মোড়ক উন্মোচন করেন সকলে মিলেই। গতবাঁধা নিয়মের বাইরে কোন অতিথি ছাড়াই আয়োজিত অনুষ্ঠানে যেন আয়োজকরাই ক্ষনে ক্ষনে একেকটি পর্বে অতিথি হয়ে উঠেন। মেধা এবং নিজেদের যোগ্যতার বলে স্ব স্ব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত এ ব্যাচের অনেকেই এখন নিজের ব্যক্তিগত অবস্থানকেই সমাজে প্রতিষ্ঠিত করে তুলেছেন। সেখানে উপস্থিতিদের অনেকেই রাজনীতি, সাংবাদিকতা, আইনপেশা, শিক্ষকতা, ব্যবসা বাণিজ্যসহ নানা ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। প্রিয় মুখগুলো যখন এক মঞ্চে বার বার জড়ো হচ্ছিলেন তখন হলজুড়েই যেন আলোকচ্ছটা ছড়িয়ে পড়েছিল। নানা আয়োজনের মধ্যখানে আপ্যায়ন বিরতী শেষে শুরু হয় এ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের সন্তানদের মধ্যে নানা বিষয়ে প্রতিযোগিতা। মাঝে মাঝে ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সহধর্মিনী কিংবা স্বামীরাও শরিক হন বিভিন্ন আয়োজনে। এভাবে হাসি আর আড্ডার শেষ দিকে অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক পর্ব। সিলেটের নামকরা শিল্পীদের গানের সুরের মুর্চনায় মোহিত হন আয়োজকরা। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে বিভিন্ন পুরস্কার গ্রহণের মাধ্যমেই সাঙ্গ হয় দিনব্যাপী এ আয়োজনের। আবারও তারা ফিরে যান যার যার গন্তব্যে। ছুটে যান সংসার আর কর্মজীবনের সেই ব্যস্তময় জীবনের টানে।   দিনব্যাপী এ আয়োজনে প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন সাবেক ভিপি আওয়ামীলীগ নেতা মোঃ সফিক উদ্দিন, যুক্তরাজ্য প্রবাসী সাংবাদিক ও লেখক আনোয়ার শাহজাহান, সিলেট সাইন্স কলেজের পরিচালক মোঃ ফয়ছল আহমদ, ব্যবসায়ী আব্দুল হান্নান, প্রাক্তন প্রভাষক মোঃ মনসুর আহমদ, আইনজীবী ও বিএনপি নেতা মোঃ আবু তাহের, ঢাকাদক্ষিণ ডিগ্রী কলেজের সহকারী অধ্যাপক কুলসুমা বেগম রীমা, রাজনীতিবীদ ও সমাজসেবী দেলোয়ার হোসেন, যুক্তরাজ্য প্রবাসী সুফিয়ান আহমদ, ঢাকাদক্ষিণ ডিগ্রী কলেজের সাবেক প্রভাষক ও বিএনপি নেতা সালমান আহমদ, ব্যবসায়ী মোঃ নজরুল ইসলাম, শিক্ষিকা ফারহানা রহমান মিতা, শিক্ষিকা শ্যামলী দে, শিক্ষক আতিকুল হক, বাঘা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব কামরান উদ্দিন, শিক্ষক সেলিম উদ্দিন, কৈলাশ শাহনুর দাখিল মাদরাসার শিক্ষক গিয়াস উদ্দিন, ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন, ইটালী প্রবাসী আব্দুল আহাদ, সৌদিআরব প্রবাসী ফখরুল ইসলাম, ব্যবসায়ী আবুল হাসনাত, শিক্ষক রজতকান্তি দাস প্রমূখ।

এই সংবাদটি 601 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ