ভারতে পালিয়ে গেলেন  দানবীর রাগীব আলী

প্রকাশিত: ১:৪৫ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১৩, ২০১৬

ভারতে পালিয়ে গেলেন  দানবীর রাগীব আলী

জালিয়াতি ও প্রতারণার মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির এক দিন পরই পরিবারের পাঁচ সদস্যকে নিয়ে ভারতে পালিয়ে গেছেন শিল্পপতি রাগীব আলী। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে সিলেটের জকিগঞ্জ হয়ে তিনি ভারতের করিমগঞ্জে চলে যান।

রাগীব আলী ছাড়া পরিবারের বাকি সদস্যরা হলেন তাঁর ছেলে আবদুল হাই, ছেলের বউ এবং দুই শিশু।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আজ শুক্রবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে জকিগঞ্জ ইমিগ্রেশন থেকে সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজ্ঞান চাকমা প্রথম আলোকে বলেন, আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আমাদের কাছে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে রাগীব আলী ছেলে আবদুল হাই, ছেলের বউসহ আরও দুই শিশুকে নিয়ে ভারতে পালিয়ে গেছেন।
রাগীব আলী ১৫ দিন আগে ভারতের ভিসা পান বলে ইমিগ্রেশন সূত্র জানিয়েছে।
জকিগঞ্জ শুল্ক স্টেশনের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, রাগীব আলী গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে জকিগঞ্জ ইমিগ্রেশন পৌঁছান। সেখানে ইমিগ্রেশনের কাজ সম্পন্ন করে দিলে নৌকায় কুশিয়ারা নদী পাড়ি দিয়ে ভারতের করিমগঞ্জ পৌঁছান তিনি।
জালিয়াতি ও প্রতারণার মামলায় শিল্পপতি রাগীব আলী, তাঁর পরিবারের চার সদস্যসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। গত বুধবার তাঁদের বিরুদ্ধে দুই মামলায় সিলেট মহানগর মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হয়। গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা হলেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের স্মারক (চিঠি) জালিয়াতির মামলায় রাগীব আলী (৭৫) ও তাঁর একমাত্র ছেলে আবদুল হাই (৪৫), প্রতারণার মামলায় রাগীব আলী, ছেলে আবদুল হাই, মেয়ের জামাই আবদুল কাদির (৫৫), মেয়ে রুজিনা কাদির (৪৮), রাগীবের আত্মীয় মৌলভীবাজারের রাজনগরের বাসিন্দা দেওয়ান মোস্তাক মজিদ (৫৫) ও তারাপুর চা-বাগানের সেবায়েত পংকজ কুমার গুপ্তকে অভিযুক্ত করা হয়। এ মামলার অপর আসামি রাগীবের স্ত্রী রাবেয়া খাতুন ২০০৬ সালের ১২ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করায় তাঁকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।
গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর আদালত ২৩ আগস্ট মামলার অভিযোগ গঠনের তারিখ ধার্য করেছেন। এ সময়ের মধ্যে রাগীব আলীসহ সব আসামিকে গ্রেপ্তারের প্রস্তুতি নিয়েছিল পুলিশ। এরই মধ্যে পরোয়ানাভুক্ত দুই আসামি ভারতে পালিয়ে গেলেন।
সিলেট নগরের পাঠানটুলার উপকণ্ঠে ৪২২ দশমিক ৯৬ একর জায়গা নিয়ে গড়ে ওঠা তারাপুর বাগান পুরোটাই দেবোত্তর সম্পত্তি। ১৯৯০ সালে ভুয়া সেবায়েত সাজিয়ে বাগানটির দখল নেন রাগীব আলী

এই সংবাদটি 941 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ