গোলাপগঞ্জে স্কুল ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় তোলপাড়

প্রকাশিত: ৩:১৮ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২, ২০১৬

গোলাপগঞ্জে স্কুল ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় তোলপাড়

স্টাফ রিপোর্টার: গোলাপগঞ্জে স্কুল ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনাটি সংঘটিত হয়েছে গত ১০ জুলাই দিবাগত রাত অনুমান ১২ ঘটিকার সময়। মামলার এজহারে প্রকাশ: আসামীগণ গোলাপগঞ্জ উপজেলার ১১ নং শরীফগঞ্জ ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের আব্দুল আজিজের ষোড়ষী কন্যা রুহেনা বেগমের ঘরে প্রবেশ করে ইনজেকশন পুশ করে অজ্ঞান করে ধর্ষণের চেষ্ঠা করে । পরে ভিকটিম অজ্ঞান হয়ে পড়লে আর কিছু বলতে পারেনা। পরের দিন তাকে হাসপাতালে নেয়া হয় ।
১নং আসামী কালীকৃষ্ণপুর গ্রামের আমিরুল ইসলামের ছেলে বাছির মিয়া (২১) ২নং আসামী ইসলামপুর গ্রামের মজিবুর রহমানের ছেলে সুজন মিয়াকে (২২) আসামী করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ ধারা ৩২৪/৩৮০ মামলা নং ০৮ তাং ১৩/০৭/১৬ রজু করা হয় এবং ধর্ষণের সুষ্ট বিচার দাবী করে মানব বন্ধন করা হয়।
অপরদিকে আসামী পক্ষের পক্ষ থেকে বিভাগীয় কমিশনার বরাবারে মামলার এজহারে ধর্ষনের কথা উল্লেখ না থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে ধর্ষন হল কিভাবে এ সংক্রান্ত একটি আবেদন দাখিল করেন। এদিকে রুহেনার মেডিকেল রিপোর্টে ধর্ষিত হয়েছে বলে উল্লেখ আছে।
আসলে মুল ঘটনা কি এ নিয়ে সাধারণ জনমনে নানা ধু¤্রজাল সৃষ্টি হয়েছে।

সূত্রে প্রকাশ: গোলাপগঞ্জ উপজেলার ১১নং শরীফগঞ্জ ইউনিয়ন। এ ইউনিয়নের দীর্ঘ ৩ বারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন মরহুম ইস্কন্দর আলী। তিনি গত নির্বাচনের মাস দেড়েক আগে মারা যান । ইস্কন্দর আলীর প্রভাব প্রতিপত্তি ছিল। হঠাৎ করে মারা যাওয়ার কারনে তাৎক্ষনিক ইস্কন্দর আলীর ছেলে দুলাল মিয়া নির্বাচনে প্রার্থী হন। কিন্তু দুলাল মিয়া নির্বাচনে পরাজিত হন। দুলাল মিয়ার প্রতিপক্ষ প্রার্থী ছিলেন কবির উদ্দিন । জানা যায়- তিনি ইস্কন্দর চেয়ারম্যানের অনুগত ছিলেন। এক সময় তিনি সৌদি আরবে থাকাকালীন নানা অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়েন ঘটনাটি সেখানে চাউর হলে এসব কলংক নিয়ে সেখান থেকে বিতাড়িত হয়ে আসেন।

জানা যায়- কবীর উদ্দিনের স্থায়ী কোন পেশা নেই । এলাকার মাতব্বরী , আর চোর ডাকাতদের সহযোগিতা বা থানার দালালীই তার মূল পেশা । দুশ্চরিত্র লম্পট প্রকৃতির কবির একেক সময় একেক দল করে । সময় সময় দল পাল্টায় দুশ্চরিত্র লম্পট প্রকৃতির কবির। তার এই চরিত্রের প্রভাব পড়ে ভাতিজা সুজনের উপর । আর এই সুজনই রুহেনার মামলার ২নং আসামী । তাই ভাতিজাকে বাঁচাবার জন্য কবির উদ্দিন ধর্ষণকে ভিন্নখাতে প্রভাবিত করার অপচেষ্ঠায় লিপ্ত বলে বাদী পক্ষের অভিযোগ রয়েছে।
বাদী পক্ষের বক্তব্য – কবির উদ্দিন দুলাল মিয়ার নির্বাচনে প্রতিপক্ষ হিসাবে ছিলেন। তিনি পরাজিত হওয়ার কারনে মেডিকেল রিপোর্টে ধর্ষন থাকার পর ও বিষয়টিকে ধামাচাপা দেয়ার জন্য এসব কলকাটি নাড়াচ্ছেন। বিভাগীয় কমিশনারের কাছে আবেদন, পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ সহ মামলাটিকে ভিন্নখাতে প্রভাবিত করার চেষ্ঠা করছেন।

বাদী পক্ষ আরো জানান- একজন নারী তার জীবনের মুল সম্পদ সতীত্বের উপর যখন কেউ আঘাত করে তখন সে মামলা করবে নাকি ঘরে বসে থাকবে। যখন তাকে অজ্ঞান করা হয় তখন সে আর কিছু বলতে পারে না। একথা তো মামলাতে উল্লেখ আছে । পরে কাপড় ছেড়া, চুল কাটা , ক্ষত বিক্ষত শরীর নিয়ে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার ধর্ষণের রিপোর্ট দেয়। কেউ কি মিথ্যা তার সতীত্বের উপর কলংক লেপন করবে। কতিপয় কুচক্রীমহল মিথ্যা বানোয়াট তথ্য দিয়ে ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে চায়। কিন্তু তারা তা পারবেনা সত্য একদিন প্রকাশিত হবে। বাদী পক্ষের পক্ষ থেকে যথাশীঘ্র আসামীদের গ্রেফতার ও মামলার চার্জশীট প্রদানের দাবী জানানো হয়।
ঘটনার মুল রহস্য উদঘাটনে সুষ্ট তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করেন সচেতন মহল ।

এই সংবাদটি 448 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ