গোলাপগঞ্জে জমে উঠতে শুরু করেছে ঈদের বাজার

প্রকাশিত: ১:০৬ অপরাহ্ণ, জুন ২০, ২০১৬

গোলাপগঞ্জে জমে উঠতে শুরু করেছে ঈদের বাজার
জাহিদ উদ্দিন, গোলাপগঞ্জ: আসছে খুশির ঈদ। পবিত্র রজানের তিন ভাগের এক ভাগ পেরিয়ে গেছে। সংযমের সঙ্গে মানুষের মনে উদ্বেলিত হচ্ছে আসন্ন ঈদকে নিয়ে নানা ভাবনা। ঈদ মানেই নতুন পোশাক, নতুন আনন্দ। দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই বাড়ছে মানুষের কেনাকাটার আগ্রহ। এর মধ্যেই সিলেটের গোলাপগঞ্জে জমে উঠেতে শুরু করেছে ঈদের বাজার। ঈদকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করেছেন পোশাক বিক্রেতারা। বিভিন্ন নামে হাল ফ্যাশনের নতুন পোশাকের প্রতি আগ্রহ বেশি তরুণ-তরুণীদের। বিপণি বিতানগুলোতে সরবরাহ করা হচ্ছে দেশি- বিদেশি বিভিন্ন মডেলের বাহারি পোশাক। সকাল থেকে শুরু করে মধ্যরাত পর্যন্ত চলছে বেচাকেনা। মার্কেটের অলি গলিতে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়।পিছিয়ে নেই বিভিন্ন স্যান্ডেলের শোরুম গুলো। অনেকের ঈদবাজার শুরু হচ্ছে স্যান্ডেল দিয়ে। বিশেষভাবে বিভিন্ন ব্রান্ডের সেন্ডেলের শোরুমে  ক্রেতাদের উপস্থিতি বেশ লক্ষণীয়।পৌর শহরের এ ওয়াহাব প্লাজা,আল-মারওয়া,নূর ম্যানশন,আল হাসানা শপিং কমপ্লেক্স সহ উপজেলার পোশাকের মার্কেটগুলোতে চলছে হরদম বেচাকেনা। দেশি-বিদেশি শাড়ি, থ্রী পিস, পাঞ্জাবি, শার্ট, প্যান্ট, জুতা, শিশুদের কাপড়, কসমেটিকস, জুয়েলারিসহ সর্বত্রই চলছে ধুমধাম কেনাকাটা।উপজেলার দর্জি দোকানিরাও ব্যস্ত সময় পার করছেন। অতিরিক্ত লোক নিয়োগ করেও তারা কাজ করতে হিমশিম খাচ্ছেন। বিক্রয়ের শীর্ষ তালিকায় রয়েছে মেয়েদের লেহেঙ্গা, শাড়ি, থ্রী পিস, ওয়ান পিস আর ছেলেদের পাঞ্জাবি। তবে এবার ভারতীয় সিরিয়াল মডেলের পাখি, কিরণমালা বাজার থেকে যেন হারিয়ে গেছে।পাখি-কিরণমালার জায়গা দখল করে নিয়েছে সারারা নামের ভারতীয় লেহেঙ্গা। কিশোরীদের পছন্দের সেরা তালিকায় রয়েছে এই পোশাক। এছাড়াও ছোট শিশুদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে ওয়ান পিচ টপস, স্কার্টসহ দেশি কিছু পোশাক। ছেলেদের দেশি পাঞ্জাবি ও জিন্স প্যান্টের চাহিদা রয়েছে ব্যাপক। দেশি পাঞ্জাবিই তরুণদের পছন্দের সেরা তালিকায় রয়েছে। নারীদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে দেশি- বিদেশি বিভিন্ন আইটেমের শাড়ি। এইসব আইটেমের পাশাপাশি এবার নতুন করে যুক্ত হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সাথে মিল রেখে কয়েকটি পোশাক। এর মধ্যে বাজারে ফেসবুক, থ্রিজি ও ম্যাসেঞ্জার নামে মেয়েদের পোশাকের চাহিদা বাজারে বেশি। সাধ্যের মধ্যেই ক্রেতারা তাদের পছন্দের পোশাক কিনতে পারছেন বলে জানিয়েছে ব্যবসায়ীরা। সারারা লেহেঙ্গা বিক্রি হচ্ছে আড়াই হাজার থেকে ৩ হাজার টাকায়। ফেসবুক ২ হাজার ৬শ’ টাকা, থ্রীজি ২ হাজার ৭শ’ টাকা, ম্যাসেঞ্জার ৪ হাজার ৮’শ টাকা। ছোট মেয়েদের ওয়ান পিস টপস ১ হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা। পাঞ্জাবি ১ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
পরিবারের সাথে কেনাকাটা করতে আসা কলেজছাত্রী সুমাইয়া জান্নাত  জানান, “আমার জন্য একটা সারারা লেহেঙ্গা কিনলাম, মায়ের জন্য শাড়ি ও বাবা এবং ছোট ভাইদের জন্য পাঞ্জাবি পায়জামা কিনলাম।” দাম একটু বেশি মনে হলেও সাধ্যের মধ্যেই রয়েছে বলে তিনি জানান।
গোলাপগঞ্জ বাজারের এস আর শাড়ি ও ফ্যাশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক  শহিদুর রহমান সুহেদ জানান, “দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি গতবারের চেয়ে ভাল থাকায় এবার বিক্রি কিছুটা বেড়েছে। বিভিন্ন বয়সী তরুণ-তরুণীরা নতুন মডেলের পোশাক কিনছে”।
গোলাপগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম ফজলুল হক শিবলি  জানান, ঈদ বাজারে যে কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা।  পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

এই সংবাদটি 593 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ