পাবলিক প্লেসে ধুমপান, আইন আছে প্রয়োগ নেই

প্রকাশিত: ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ১১, ২০১৮

পাবলিক প্লেসে ধুমপান, আইন আছে প্রয়োগ নেই

শেখ মুযযাম্মিল হোসেন শুভঃ ধুমপান বা মাদকসেবন হচ্ছে সমাজের অভিশপ্ত কাজগুলোর মধ্যে অন্যতম। মাদকদ্রব্য ও সিগারেটের সহজলভ্যতার কারনে দিন দিন বাড়ছে ধুমপায়ী দের সংখ্যা। নতুন ধুমপায়ীদের সংখ্যায় শিশু কিশোর রাই বেশি। তার অন্যতম কারণ হচ্ছে বাজারে বা মেলায় স্ট্রোবেরি বা অন্য সুগন্ধিত সিগারেটের সহজলভ্যতা। কৌতূহলের বসে শিশু কিশোররা এই সিগারেট পান করলেও ধীরে ধীরে তারাই নিয়মিত ধুমপায়ী হিসেবে সমাজে পরিচিত হচ্ছে।

এদিকে ধুমপায়ী দের সংখ্যা যেমন বৃদ্ধি পাচ্ছে ঠিক তেমনি বৃদ্ধি পাচ্ছে পাব্লিক প্লেস তথা জনসাধারণের ব্যবহূত স্থানে প্রকাশ্যে ধুমপায়ীদের সংখ্যা। আধুনিক চিকৎসা বিজ্ঞানের মতে, ধুমপানের ফলে একজন মানুষের যতটুকু শারীরিক ক্ষতি হয় তার ৭০ শতাংশ ক্ষতি হয় ধুমপায়ীর পাশের ব্যাক্তির।

পাবলিক প্লেসে ধুমপানের শাস্তিসস্বরুপ ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) আইন ২০১২’-এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে যে পাবলিক প্লেসে ধুমপান করলে ১০০ টাকা জরিমানা। আইন আছে কিন্তু প্রয়োগের নাম মাত্রও নেই।

পাবলিস প্লেস’ বলতে সম্মিলিতভাবে ব্যবহারযোগ্য বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার স্থান বা ভবনকে বোঝানো হয়েছে।
এর মধ্যে আছে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ, খেলার মাঠ, বিভিন্ন অফিস, বিপণিবিতান, বাজার, জনসমাবেশ, মেলা, বাসস্ট্যান্ড এবং বাসযাত্রীদের দাঁড়ানোর লাইন ও পাবলিক টয়লেট।
এসব স্থানে ধূমপান বা তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারের জন্য শাস্তি দেওয়া যাবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা এ জন্য জরিমানা করতে পারবেন। যেকোনো ভুক্তভোগী নাগরিক এসব অপরাধের জন্য অভিযোগ করতে পারবেন। এ আইন বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে ‘পাবলিক প্লেসের’ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে ৫০০ টাকা জরিমানার বিধান যোগ করা হয়েছে।

কিন্তু দেখা যায় পাবলিক যানবাহন, সরকারি/বেসরকারি অফিস, বড় বড় ব্যাবসায়ী প্রতিষ্ঠানে চলছে অবাধে ধুমপান। বিশেষ করে জনসাধারণ ব্যাবহৃত যানবাহনে, গাড়ির চালক থেকে শুরু করে যাত্রিগণ ও অবাধে ধুমপান করছেন । যার ফলে শারীরিক ও মানুষিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে যানবাহনের অন্যান্য যাত্রিগণ।

উক্ত ব্যাপারে সমাজের একজন সচেতন ব্যাক্তি জানান, তিনি একদিন অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তিগত কারণে একটি উপজেলা হিসাব রক্ষণ অফিসে যান। সেখানে গিয়ে তিনি দেখেন ঐ অফিসের কর্মরত সরকারি কর্মচারী অবাধে ধুমপান করছেন এবং জনসাধারণের সাথে কথা বলছেন। তিনি আরো জানান, বর্তমান সময়ে পাবলিক জানবাহনের অন্যতম প্রকার হচ্ছে (সি এন জি)। কিন্তু এখন সিএনজি তে উঠতে গেলে নাক বন্ধ করতে হয়, কারণ অযথাই গাড়ির চালক বা অন্য কোন যাত্রী ধুমপান শুরু করে দেন। তিনি আরো জানান, পাবলিক প্লেসে ধুমপানের আইনের যথাযথ প্রয়োগ করলে সমাজ থেকে এরকম বিব্রতকর পরিস্থিতির নিঃশেষ হবে।

এই সংবাদটি 1015 বার পঠিত হয়েছে

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ